• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

সুশাসন কী?

যে শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, এবং আইনের শাসন বহাল থাকে তাকে সুশাসন বলে।

সুশাসনের সংজ্ঞা ও কেন এটি সঠিক ধারণা

১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক (World Bank) সর্বপ্রথম সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করে। তাদের মতে, সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ ঘটে।

কেন এই ধারণাটিই সঠিক:একটি সাধারণ শাসনব্যবস্থায় কেবল আদেশ জারি করা হয়, কিন্তু সুশাসনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এটি কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, বরং নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচারের সমন্বয়।

সুশাসনের মূল স্তম্ভসমূহ (কেন এগুলো অপরিহার্য)

সুশাসন হতে হলে প্রধানত ৮টি বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। কেন এগুলো দরকার তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

  • অংশগ্রহণ (Participation): নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার মতামতের গুরুত্ব। এটি না থাকলে শাসনব্যবস্থা স্বৈরাচারী হয়ে পড়ে।

  • আইনের শাসন (Rule of Law): আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। এটি ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সবল দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে।

  • স্বচ্ছতা (Transparency): সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে পরিষ্কার থাকা। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়।

  • জবাবদিহিতা (Accountability): সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়ী থাকা। এটি শাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

  • সাড়া প্রদান (Responsiveness): জনগণের প্রয়োজন বা সমস্যায় প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয় তার ওপর সুশাসন নির্ভর করে।

  • ন্যায়পরায়ণতা (Equity and Inclusiveness): সমাজের কোনো গোষ্ঠী যেন অবহেলিত না থাকে।

কেন সুশাসন ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়? (ভুল ধারণার খণ্ডন)

অনেকে মনে করেন শুধু 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি' (যেমন: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি) হলেই একটি দেশ সফল। কিন্তু এটি ভুল ধারণা।

  • কারণ: যদি আয় বাড়ে কিন্তু দুর্নীতি থাকে, তবে সেই সম্পদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। সুশাসন না থাকলে ন্যায়বিচার থাকে না, ফলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারায় এবং উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত তথ্য (Value Addition)

১. ম্যাগনাকার্টা ও সুশাসন:সুশাসনের শেকড় অনেক গভীরে। ১২১৫ সালের ম্যাগনাকার্টা (Magna Carta) চুক্তির মাধ্যমে প্রথম রাজার ক্ষমতা সীমিত করে আইনের শাসনের কথা বলা হয়েছিল, যা আধুনিক সুশাসনের আদি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

২. দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট:প্রাচীন ভারতের সম্রাট অশোকের শাসনব্যবস্থা বা মুঘল সম্রাট আকবরের 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ও প্রশাসনিক সংস্কারকে অনেক ইতিহাসবিদ সুশাসনের আদি উদাহরণ হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলোতে প্রজাদের কল্যাণের প্রতি শাসকের যে দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে, তা বর্তমানের 'Accountability' বা জবাবদিহিতারই প্রতিফলন।

একটি সহজ উদাহরণ:

মনে করুন, আপনার এলাকায় একটি ব্রিজ তৈরি হবে।

  • সাধারণ শাসন: সরকার ব্রিজ বানাবে, আপনি জানবেন না কত টাকা খরচ হলো বা কেন দেরি হচ্ছে।

  • সুশাসন: ব্রিজের বাজেট সাইনবোর্ডে লেখা থাকবে, নিম্নমানের কাজ হলে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ