- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- যৌবনের গান [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অসীম সম্প্রতি এমএ পাশ করেছে। এখন সে চাকরির ইন্টারভিউ নিয়েই ব্যস্ত থাকে সারাক্ষণ। কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড়ে দেশের একাংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলে অসীমের বন্ধুরা ত্রাণ সংগ্রহ করে উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তারা অসীমকেও এ কাজে আহ্বান করে, কিন্তু অসীম তা কৌশলে এড়িয়ে যায়। তার ধারণা, দেশে সরকার আছে, আরও অনেক মানুষ আছে, এসব তাদের কাজ। অসীম মনে মনে ভাবে, এসব কাজ করতে গেলে তার অনেক ক্ষতি হবে। অসীমের বন্ধুরা তাকে আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর মানুষ হিসেবে আখ্যা দেয়।
'উদ্দীপকের অসীম বয়সে যুবক হলেও তার চিন্তাধারা বার্ধক্যে আক্রান্ত।'- এ কথার তাৎপর্য 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে সেবাপরায়ণতার পথে স্বার্থান্বেষী বার্ধক্যই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা উদ্দীপকের অসীমের চিন্তা-চেতনার সাথে সমান্তরাল।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে ভয়হীন নিরন্তর ছুটে চলাই যৌবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেকারণে তারুণ্যের দীপ্ত শিখায় দীপ্তিমান শক্তিতে অকুতোভয়। চলার পথে কোনো বাধাবিপত্তিতে তারা দমে যায় না। কেননা যৌবন হলো অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। অন্যের কল্যাণে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে তরুণরা। দেশ-জাতির কল্যাণে তারাই এগিয়ে আসে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, অসীম বয়সে একজন তরুণ। কিন্তু সে মননে এবং চিন্তা-চেতনায় পুরোদস্তুর বার্ধক্যকে ধারণ করে। তার বন্ধুরা ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। অসীমকে সেকাজে ডাকলেও তাতে সে সাড়া দেয় না। বরং এসব অন্য লোকের দায়িত্ব বলে পাশ কাটায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বর্ণিত যৌবনের যে স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে তা গতিশীল ও ক্লান্তিহীন উদ্দামের বহিঃপ্রকাশ। এই যৌবনশক্তি দেশ-কাল বা ধর্মের বাঁধন মানে না। মৃত্যু এর কাছে তুচ্ছ। সেবাই এর কাছে প্রধান। পক্ষান্তরে প্রবন্ধে উল্লিখিত তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যর সম্পূর্ণ বিপরীত চেতনায় আবর্তিত হয়েছে উদ্দীপকের অসীম। সে আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অসীম বয়সে যুবক হলেও তার চিন্তাধারা বার্ধক্যে ম্রিয়মাণ।
উত্তরের সারবস্তু: সেবাপরায়ণ মনোভাব না থাকায় অসীম বয়সে তরুণ হয়েও যুবক।

