- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ঋতু বর্ণন [কবিতা]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ছয় ঋতুর আবর্তনে আবর্তিত হচ্ছে আমাদের ঋতুবৈচিত্র্য। প্রত্যেকটি ঋতুরই রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। একেক ঋতু আমাদের জীবনে নিয়ে আসে একেক রকম পরিবর্তন। বাংলার প্রকৃতিতে এ পরিবর্তন, নিয়ে আসে অফুরন্ত সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্যে আমাদের যেমন চোখ জুড়িয়ে যায়, তেমনি, আমাদের হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দে। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের আলোঝলমল নীল আকাশ, হেমন্তের 'ফসলে ভরা মাঠ, শীতের কুয়াশাঢাকা সকাল আর বসন্তের ফুলের সৌরভপ্রকৃতি ও জীবনে আনে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। বর্ষপঞ্জির হিসেবে বাংলা বছরের বারো মাসের প্রতি দুই মাসে এক ঋতু হয়। প্রকৃতির এক অলৌকিক নিয়মে ঋতুর এই আসা-যাওয়া। ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।
"ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।" মন্তব্যটির যৌক্তিকতা উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতার 'আলোকে বিশ্লেষণ করো।
"ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।" মন্তব্যটি যথার্থ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলা প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি আলাওল ঝতুর পালাবদলে বাংলার নৈসর্গিক রূপ আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরেছেন। বসন্তের নবপত্র, ফুল, কোকিল, ভ্রমরের অনুষঙ্গ তিনি কবিতায় এনেছেন। গ্রীষ্মের তাপদাহ, বর্ষার জলস্নাত প্রকৃতি, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের শীত শীত ভাব, শীতের দিনরাত্রি কোনো কিছুই বাদ যায়নি তাঁর বর্ণনা থেকে। অনিন্দ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী বাংলার চিত্র তিনি সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন কবিতাটিতে।
উদ্দীপকে ঋতুবৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একেক ঋতু আমাদের জীবনে নিয়ে আসে একেক রকম পরিবর্তন। বাংলার প্রকৃতিতে এ পরিবর্তন নিয়ে আসে অফুরন্ত সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্যে আমাদের হৃদয়-মন ভরে ওঠে আনন্দে। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের আলোঝলমল নীল আকাশ, হেমন্তের ফসলি মাঠ ইত্যাদির কথা বর্ণিত আছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও এহেন ঋতুবৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ষড়ঋতুর লীলাবৈচিত্র্য ও নানা রূপ-রসের কথা এখানে নানা ব্যঞ্জনায় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকেও বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। মূলত বাংলাদেশের মতো এত ঋতুবৈচিত্র্য আর কোনো দেশে দেখা যায় না। প্রকৃতি এখানে নানা রঙে-ঢঙে সেজে ওঠে, যা আর কোথাও দেখা যায় না। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তুঃ ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না- মন্তব্যটি যথার্থ।

