৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করার সহজ ও কার্যকর গাইডলাইন
— প্রিপারেশন
ছবি : সংগৃহিত
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষা। প্রতি বছর লক্ষাধিক প্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু যারা সফল হন, তারা সাধারণত সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করেন। ৫০তম বিসিএস সেই সব পরীক্ষার মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণের একটি নতুন দরজা খুলে যাচ্ছে। তাই এখনই সঠিক সময় প্রস্তুতি শুরু করার।
আজ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। ৫০তম বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। অর্থাৎ এখনই আপনি আবেদন করে নিজেকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারেন। এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্ভবত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমা খুবই সংক্ষিপ্ত। যারা এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করবেন, তারা নিজেদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধা তৈরি করে নিতে পারবেন।
পদসংখ্যার দিক থেকে ৫০তম বিসিএসও ব্যতিক্রম নয়। এবার মোট পদসংখ্যা ২১৩৫ এরও বেশি। এত বড় পদসংখ্যা মানে সুযোগও অনেক বেশি। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ করতে হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। প্রতি পদের জন্য গড়ে ৫০ থেকে ১০০ জন প্রার্থী লড়াই করেন। তাই যারা আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন এখনই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত? প্রথমত, আবেদন করে নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। দ্বিতীয়ত, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মতো সময় হাতে থাকতে পারে। এই সময়ে যদি আপনি ইতিমধ্যে সিলেবাসের বড় অংশ শেষ করে রাখেন, তাহলে শুধু রিভিশন ও মক টেস্টের মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করতে পারবেন। তৃতীয়ত, যারা চাকরিজীবী বা স্টুডেন্ট, তাদের জন্য এখন থেকে ধীরে ধীরে রুটিনে অভ্যস্ত হওয়া খুবই জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। বিসিএস পরীক্ষা শুধু জ্ঞানের পরীক্ষা নয়। এটি ধৈর্য, নিয়মিততা ও মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। যারা আগে থেকে শুরু করেন, তারা এই মানসিক শক্তি ধীরে ধীরে তৈরি করে নেন। প্রিলিমিনারির পর লিখিত পরীক্ষা এবং তারপর মৌখিক পরীক্ষা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১২ মাসের মতো সময় নিতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি শুরু করবেন, ততই আপনার সফলতার সম্ভাবনা বাড়বে।
সুতরাং, যদি আপনি সত্যিই বিসিএসে সফল হতে চান, তাহলে আজই সিদ্ধান্ত নিন। আবেদন করে দিন। বই কিনুন। রুটিন তৈরি করুন। এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে বলুন যে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। ৫০তম বিসিএস আপনার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হতে পারে। শুধু দরকার একটু পরিকল্পনা আর নিয়মিত প্রচেষ্টা।
এই যাত্রায় আপনি একা নন। লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতী আপনার সাথে একই স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু যারা এখন থেকে শুরু করবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন। তাই আজই শুরু করুন। সফলতা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে।
৫০তম বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ ও সময়সূচি
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা একটি ধাপে ধাপে চলমান প্রক্রিয়া। প্রত্যেক ধাপে সফল হলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। নিচে পরীক্ষার সবগুলো ধাপ এবং তাদের সম্ভাব্য সময়সূচি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো।
১. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা)
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলো বিসিএসের প্রথম ধাপ। এটি একটি বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা। এই ধাপে মোট ২০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে এবং সময় দেওয়া হবে ২ ঘণ্টা।
এই পরীক্ষায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- গণিত
- মানসিক দক্ষতা
- সাধারণ বিজ্ঞান
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এই ধাপটি মূলত বাছাইয়ের জন্যই করা হয়।
২. লিখিত পরীক্ষা
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই পরীক্ষায় মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত পরীক্ষায় নিচের বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন থাকে:
- বাংলা (২০০ নম্বর)
- ইংরেজি (২০০ নম্বর)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (২০০ নম্বর)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১০০ নম্বর)
- গণিত, মানসিক দক্ষতা ও সাধারণ বিজ্ঞান (১০০ নম্বর)
- অন্যান্য বিষয় (যেমন ভূগোল, পরিবেশ, কম্পিউটার ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন মিলিয়ে ১০০ নম্বর)
লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত বিস্তারিত উত্তর লিখতে হয়। এখানে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান এবং লেখার দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়।
৩. মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। মৌখিক পরীক্ষায় মোট ৩০০ নম্বর থাকে।
এই পরীক্ষায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সাধারণ জ্ঞান, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং কথা বলার দক্ষতা যাচাই করা হয়।
কোনো ক্যাডারের জন্য কোটা প্রযোজ্য হলে সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত নম্বর যোগ হতে পারে।
৫০তম বিসিএসের সম্ভাব্য সময়সূচি
বর্তমান তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। ৫০তম বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণত আবেদন শেষ হওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্ভাব্য সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
- প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ: মার্চ বা এপ্রিল ২০২৬
- লিখিত পরীক্ষা: মে থেকে জুলাই ২০২৬ (ধাপে ধাপে)
- লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ: সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর ২০২৬
- মৌখিক পরীক্ষা: অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭
- চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: মার্চ বা এপ্রিল ২০২৭
এই সময়সূচি সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক। বিপিএসসি যেকোনো সময় এতে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই নিয়মিত বিপিএসসির ওয়েবসাইট চেক করা উচিত।
পরীক্ষার ধাপগুলোর গুরুত্ব
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলো দরজা খোলার ধাপ। এখানে উত্তীর্ণ না হলে লিখিত বা মৌখিকে যাওয়ার সুযোগই পাওয়া যাবে না। তাই প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলে মৌখিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। মৌখিকে ভালো করলে পছন্দের ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়।
সুতরাং তিনটি ধাপই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো, প্রিলিমিনারিতে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হয়। এজন্য প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শুরু করা উচিত।
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মার্কস ডিস্ট্রিবিউশন
৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুধু একটি স্ক্রিনিং টেস্ট নয়, বরং এটি আপনার সামগ্রিক প্রস্তুতির প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরীক্ষা ২০০ নম্বরের এমসিকিউ টাইপের হয় এবং সময় থাকে ২ ঘণ্টা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যায় (নেগেটিভ মার্কিং)। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস প্রকাশ করেছে। এবারের সিলেবাসে নম্বর বণ্টনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোতে বাংলা এবং ইংরেজি বিষয়ে ৩৫ নম্বর করে বরাদ্দ ছিল। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৩০ নম্বর এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর ছিল। এবার নতুন বণ্টনে তিনটি বিষয়ে নম্বর কমেছে এবং তিনটি বিষয়ে নম্বর বেড়েছে। এই পরিবর্তন প্রস্তুতিকে আরও ব্যালেন্সড করার জন্য করা হয়েছে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক মার্কস ডিস্ট্রিবিউশন (২০০ নম্বর)
ক্রমিক | বিষয়ের নাম | নম্বর (মার্কস) | পূর্ববর্তী বিসিএসের তুলনায় পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
১ | বাংলা ভাষা ও সাহিত্য | ৩০ | কমেছে (৩৫ থেকে) |
২ | ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য | ৩০ | কমেছে (৩৫ থেকে) |
৩ | বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২৫ | কমেছে (৩০ থেকে) |
৪ | আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ২৫ | বেড়েছে (২০ থেকে) |
৫ | গণিত যুক্তি | ২০ | বেড়েছে (১৫ থেকে) |
৬ | মানসিক দক্ষতা | ১৫ | অপরিবর্তিত |
৭ | সাধারণ বিজ্ঞান | ১৫ | অপরিবর্তিত |
৮ | কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি | ১৫ | অপরিবর্তিত |
৯ | ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা | ১০ | অপরিবর্তিত |
১০ | নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন | ১৫ | বেড়েছে (১০ থেকে) |
মোট নম্বর: ২০০
পরীক্ষার সময়: ২ ঘণ্টা
প্রশ্নের ধরন: এমসিকিউ (MCQ)
নেগেটিভ মার্কিং: প্রতি ভুল উত্তরে ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে।
বিষয়ভিত্তিক সিলেবাসের সংক্ষিপ্ত ওভারভিউ
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (৩০): ব্যাকরণ (পদ, ধ্বনি, বাক্য, কারক, সমাস ইত্যাদি), সাহিত্যের ইতিহাস, কবি ও লেখকদের জীবনী ও রচনা, উল্লেখযোগ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাসের অংশবিশেষ।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (৩০): গ্রামার (Parts of Speech, Tense, Voice, Narration, Preposition ইত্যাদি), Vocabulary, Comprehension, Synonym/Antonym, Idiom & Phrase, Literature (Shakespeare, Wordsworth, Keats ইত্যাদি)।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি (২৫): স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, ভূগোল, অর্থনীতি, সংবিধান, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (২৫): বিশ্ব ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, সংস্থা (UN, WTO, SAARC, ASEAN), বর্তমান ঘটনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন।
গণিত যুক্তি (২০): বীজগণিত, জ্যামিতি, অনুপাত, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সেট, লগারিদম, সিরিজ, যুক্তি-ভিত্তিক প্রশ্ন।
মানসিক দক্ষতা (১৫): সিরিজ, অ্যানালজি, কোডিং-ডিকোডিং, পাজল, দিকনির্দেশনা।
সাধারণ বিজ্ঞান (১৫): পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা, প্রযুক্তি।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১৫): বেসিক কম্পিউটার, MS Office, ইন্টারনেট, সাইবার সিকিউরিটি।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (১০): বিশ্ব ও বাংলাদেশের ভূগোল, পরিবেশ দূষণ, দুর্যোগ (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়)।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (১৫): নৈতিকতার মৌলিক ধারণা, সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবাধিকার।
কেন এই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
এবার আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গণিত যুক্তি এবং নৈতিকতা অংশে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রার্থীদের বর্তমান বিশ্ব ঘটনা, যুক্তিবাদী চিন্তা এবং নৈতিকতার উপর আরও জোর দিতে হবে। অন্যদিকে ভাষা ও বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে নম্বর কমায় সেই অংশগুলোতে গভীরতা বজায় রাখতে হবে।
প্রস্তুতি শুরু করার আগে যা করতে হবে
বিসিএস প্রস্তুতির যাত্রা শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করলে পরবর্তী সময়ে সময় নষ্ট হওয়া এড়ানো যায় এবং প্রস্তুতি আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হয়। নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করুন
প্রথমেই নিজেকে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন করুন, আপনি কোন পর্যায়ে আছেন। আপনি কি একেবারে নতুন? নাকি আগে কয়েকবার প্রিলিমিনারি দিয়েছেন? অথবা আপনি কি চাকরিজীবী এবং প্রতিদিন অল্প সময় পান? এই মূল্যায়নের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কতটা সময় দিতে হবে এবং কোন বিষয়ে বেশি ফোকাস করতে হবে।
যদি আপনি একেবারে নতুন হন তাহলে শুরুতে বেসিক ক্লিয়ার করা জরুরি। বিগত ১০-১৫ বছরের প্রশ্নপত্র দেখে বুঝুন কোন বিষয়ে আপনার দুর্বলতা বেশি। যদি আগে প্রিলিমিনারি ক্লিয়ার করেছেন কিন্তু লিখিতে পারেননি তাহলে লিখিতের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করুন। আর যদি চাকরিজীবী হন তাহলে সপ্তাহে ২৫-৩৫ ঘণ্টা সময় বের করা সম্ভব কিনা তা আগে থেকেই দেখে নিন।
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
বিসিএসে সফলতা পেতে চাইলে শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, সঠিক ক্যাডার নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোন ক্যাডার আপনার প্রথম পছন্দ? এডমিনিস্ট্রেশন, পুলিশ, ফরেন সার্ভিস, ট্যাক্স, কাস্টমস, অডিট, শিক্ষা ক্যাডার নাকি অন্য কোনো? এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরি কারণ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ক্যাডার পছন্দের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
যদি আপনার লক্ষ্য সাধারণ ক্যাডার হয় তাহলে প্রিলিমিনারিতে ১৪০-১৫০ মার্কসের লক্ষ্য রাখুন। আর যদি টেকনিক্যাল ক্যাডার হয় তাহলে সেই বিষয়ে বেশি ফোকাস দিন। লক্ষ্য নির্ধারণের সময় বাস্তবতা মেনে নিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার গণিত দুর্বল থাকে তাহলে প্রথমে সেটা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করুন।
প্রয়োজনীয় রিসোর্স সংগ্রহ করুন
প্রস্তুতি শুরু করার আগে সবকিছু এক জায়গায় রাখা দরকার। নিচে প্রয়োজনীয় রিসোর্সের একটি তালিকা দেওয়া হলো।
বই: প্রত্যেক বিষয়ের জন্য স্ট্যান্ডার্ড বই সংগ্রহ করুন। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য অধ্যাপক আবদুল হাই এর বই, ইংরেজির জন্য সাজেশন বুক, বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য প্রফেসরস বা জয়কালি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য অরুণাভ চৌধুরী বা প্রফেসরস, গণিতের জন্য এমপিথ্রি বা আরএস আগরওয়াল।
প্রশ্নপত্র: বিগত ১০-১৫ বছরের প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করুন। এগুলো অবশ্যই পড়বেন।
অনলাইন রিসোর্স: Live MCQ, BCS Confidence, 10 Minute School, BD Exam Help, YouTube চ্যানেল (যেমন: BCS Preparation, Job Solution BD)।
নোটস: যদি সম্ভব হয় তাহলে কোনো ভালো কোচিংয়ের নোটস সংগ্রহ করুন বা অনলাইন থেকে ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড করুন।
পড়ার পরিবেশ: একটা শান্ত জায়গা তৈরি করুন যেখানে প্রতিদিন পড়তে পারবেন। টেবিলে বই, পেন, নোটবুক সবকিছু রাখুন।
সময়সূচি তৈরি: একটা ক্যালেন্ডারে ৫০তম বিসিএসের সম্ভাব্য প্রিলি তারিখ (জানুয়ারি ২০২৬) চিহ্নিত করুন। তারপর পিছন দিকে গিয়ে ৬-৮ মাসের রুটিন তৈরি করুন।
প্রস্তুতি শুরু করার আগে এই কাজগুলো সম্পন্ন করলে আপনার মনের মধ্যে একটা স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হয়ে যাবে। এতে পরবর্তী সময়ে দ্বিধা বা বিভ্রান্তি অনেক কমে যাবে।
আজই এই ধাপগুলো সম্পন্ন করে নিন। কাল থেকে আসল প্রস্তুতি শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। সফলতা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে!
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ রুটিন
৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্ভাব্য ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। এখন থেকে প্রায় এক মাসের মতো সময় হাতে আছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে সফলতা পেতে হলে অত্যন্ত গোছানো, নিয়মিত এবং কৌশলগত প্রস্তুতি নিতে হবে। নিচে নতুন এবং অভিজ্ঞ উভয় ধরনের প্রার্থীর জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রুটিন দেওয়া হলো।
এই রুটিনটি মোট ৪০ থেকে ৫০ দিনের জন্য সাজানো হয়েছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হবে। যদি চাকরিজীবী হন তাহলে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে বাড়ান।
প্রথম ধাপ: রুটিন তৈরির আগে যা করতে হবে
১। নিজের দুর্বল এবং শক্তিশালী বিষয় চিহ্নিত করুন।
২। সর্বশেষ সিলেবাস এবং মার্কস ডিস্ট্রিবিউশন দেখে নিন।
৩। প্রয়োজনীয় বই এবং রিসোর্স সংগ্রহ করুন।
৪। প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন।
৫। প্রতিদিন ১ থেকে ২টি মডেল টেস্ট দিন এবং ভুলগুলো বিশ্লেষণ করুন।
দৈনিক রুটিন (সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত)
সময় | কাজ |
|---|---|
সকাল ৬:০০ – ৭:০০ | উঠে ফ্রেশ হয়ে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। চা বা নাশতা সেরে নিন। |
৭:০০ – ৯:০০ | বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (১ ঘণ্টা) + ইংরেজি (১ ঘণ্টা) |
৯:০০ – ৯:১৫ | ১৫ মিনিট বিরতি |
৯:১৫ – ১১:১৫ | বাংলাদেশ বিষয়াবলি (১ ঘণ্টা) + আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১ ঘণ্টা) |
১১:১৫ – ১১:৩০ | বিরতি |
১১:৩০ – ১:৩০ | গণিত যুক্তি (১ ঘণ্টা) + মানসিক দক্ষতা (১ ঘণ্টা) |
১:৩০ – ২:৩০ | দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম |
২:৩০ – ৪:০০ | সাধারণ বিজ্ঞান (১ ঘণ্টা) + কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (৩০ মিনিট) |
৪:০০ – ৪:১৫ | বিরতি |
৪:১৫ – ৬:০০ | ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (১ ঘণ্টা) + নৈতিকতা ও সুশাসন (৪৫ মিনিট) |
৬:০০ – ৬:৩০ | বিকেলের নাশতা ও হালকা বিশ্রাম |
৬:৩০ – ৮:৩০ | মডেল টেস্ট বা পূর্ববর্তী বিসিএসের প্রশ্নপত্র অনুশীলন (২ ঘণ্টা) |
৮:৩০ – ৯:৩০ | রাতের খাবার ও বিশ্রাম |
৯:৩০ – ১১:০০ | দুর্বল বিষয়ের রিভিশন বা ভুলের বিশ্লেষণ |
১১:০০ – ১২:০০ | দিনের শেষ রিভিউ এবং পরের দিনের পরিকল্পনা করুন। ঘুমাতে যান। |
সাপ্তাহিক রুটিন (৬ দিন পড়া + ১ দিন রিভিশন)
প্রতি সপ্তাহে নিম্নলিখিত ফোকাস রাখুন:
১ম দিন: বাংলা + ইংরেজি ফুল রিভিশন + ১টি ফুল মডেল টেস্ট
২য় দিন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি + আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
৩য় দিন: গণিত যুক্তি + মানসিক দক্ষতা
৪র্থ দিন: সাধারণ বিজ্ঞান + কম্পিউটার
৫ম দিন: ভূগোল, পরিবেশ + নৈতিকতা
৬ষ্ঠ দিন: পূর্ববর্তী ১০টি বিসিএসের প্রশ্নপত্র সলভ করুন
৭ম দিন: ফুল মক টেস্ট (২০০ নম্বর) + ভুল বিশ্লেষণ + রিভিশন
বিষয়ভিত্তিক সময় বণ্টন (মোট ৪০-৫০ দিনের প্ল্যান)
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির গাইডলাইন
বিষয় | মার্কস | দৈনিক সময় | মোট দিন (প্রায়) |
|---|---|---|---|
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য | ২৫ | ১ ঘণ্টা | ১৫ দিন |
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য | ২৫ | ১ ঘণ্টা | ১৫ দিন |
বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২৫ | ১ ঘণ্টা | ১২ দিন |
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ২০ | ১ ঘণ্টা | ১০ দিন |
গণিত যুক্তি | ২০ | ১ ঘণ্টা | ১৫ দিন |
মানসিক দক্ষতা | ১৫ | ৪৫ মিনিট | ১০ দিন |
সাধারণ বিজ্ঞান | ১৫ | ১ ঘণ্টা | ১২ দিন |
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি | ১০ | ৩০ মিনিট | ৮ দিন |
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ | ১০ | ৪৫ মিনিট | ৮ দিন |
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন | ১৫ | ৪৫ মিনিট | ১০ দিন |
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
বাংলা অংশে সাধারণত ২৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। এখানে ভাষা, ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং সাম্প্রতিক লেখকদের উপর জোর দিতে হবে।
প্রথমে ব্যাকরণের মৌলিক বিষয়গুলো শক্ত করো। বাক্য গঠন, শব্দভাণ্ডার, সমাস, সন্ধি, কারক, উপসর্গ, প্রত্যয়, লিঙ্গ, বচন, ক্রিয়া, ভাবার্থ, বাক্যের প্রকারভেদ এবং বাক্য শুদ্ধি এসব ভালোভাবে অনুশীলন করো।
সাহিত্য অংশে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদসহ আধুনিক কবি ও লেখকদের সংক্ষিপ্ত জীবনী, উল্লেখযোগ্য রচনা এবং সাহিত্য আন্দোলন মনে রাখো।
প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট বাংলা পড়ো। পূর্ববর্তী বিসিএসের প্রশ্নপত্র এবং স্ট্যান্ডার্ড বই থেকে অনুশীলন করো।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
ইংরেজিতেও ২৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এখানে প্রধানত গ্রামার, ভোকাবুলারি এবং কিছু সাহিত্যের প্রশ্ন আসে।
গ্রামার অংশে প্রিপোজিশন, আর্টিকেল, টেন্স, ভয়েস, নারেশন, ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স, সিনোনিম, অ্যান্টোনিম, আইডিয়ম, ফ্রেজ, ক্লোজ টেস্ট এবং রাইটিং এরর এসব অনুশীলন করো।
ভোকাবুলারি বাড়াতে প্রতিদিন ২০-৩০টি নতুন শব্দ শেখো এবং রিভিশন দাও।
সাহিত্য অংশে শেক্সপিয়র, জন মিলটন, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কিটস, বায়রন, চার্লস ডিকেন্স, জেন অস্টেনের মতো লেখকদের উল্লেখযোগ্য কাজ এবং সাহিত্যিক যুগ সম্পর্কে ধারণা রাখো।
প্রতিদিন ৪০ মিনিট ইংরেজি পড়ো। পুরোনো বিসিএসের প্রশ্ন এবং ভালো গ্রামার বই থেকে প্র্যাকটিস করো।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
এই অংশে ৩৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর জীবনী, সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, জনসংখ্যা, ভূগোল, নদ-নদী, জেলা-উপজেলা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সাম্প্রতিক ঘটনা এসব পড়ো।
প্রতিদিন ১ ঘণ্টা এই অংশের জন্য রাখো। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক খবরের উপর নজর রাখো এবং নোট তৈরি করো।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
২৫ নম্বরের প্রশ্ন এখানে আসে।
জাতিসংঘ, সার্ক, সাফ, ওআইসি, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জি-৭, জি-২০, ব্রিকস, কোয়াড, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যুদ্ধ, শান্তিচুক্তি, পরিবেশ সম্মেলন এসব পড়ো।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট এই অংশের জন্য সময় দাও। আন্তর্জাতিক পত্রিকার সারাংশ পড়ো।
গণিত যুক্তি
২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে।
অংকের মধ্যে শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদ, অনুপাত-সমানুপাত, গড়, গতি-দূরত্ব-সময়, বীজগণিতের সহজ সমস্যা, জ্যামিতি, সেট, ফাংশন, লজিক্যাল রিজনিং এসব অনুশীলন করো।
প্রতিদিন ৪৫ মিনিট গণিতের জন্য রাখো। পুরোনো প্রশ্নপত্র থেকে প্র্যাকটিস করো।
মানসিক দক্ষতা
১৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে।
সিরিজ, অ্যানালজি, কোডিং-ডিকোডিং, ব্লাড রিলেশন, ডিরেকশন, পাজল, লজিক্যাল ডিডাকশন এসব অনুশীলন করো।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট এই অংশের জন্য সময় দাও। অনেক প্রশ্ন সহজেই পাওয়া যায়।
সাধারণ বিজ্ঞান
১৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে।
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা পড়ো।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট এই অংশের জন্য রাখো। স্কুল-কলেজের বই থেকে শুরু করো।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে।
কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইন্টারনেট, সাইবার সিকিউরিটি, এআই, ব্লকচেইন, সাম্প্রতিক প্রযুক্তি পড়ো।
প্রতিদিন ২০ মিনিট এই অংশের জন্য সময় দাও।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে।বাংলাদেশ ও বিশ্বের ভূগোল, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পড়ো।
প্রতিদিন ২০ মিনিট এই অংশের জন্য রাখো।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
১৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে।
নৈতিকতা, দুর্নীতি, সুশাসন, মানবাধিকার, সামাজিক মূল্যবোধ, সাম্প্রতিক ঘটনা পড়ো।
প্রতিদিন ২৫ মিনিট এই অংশের জন্য সময় দাও।
প্রতিটি বিষয়ের জন্য নিয়মিত অনুশীলন এবং রিভিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের রুটিনে এই সময় বণ্টন করে প্রস্তুতি নিলে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ভালো করা সম্ভব।
লিখিত ও মৌখিক প্রস্তুতির প্রাথমিক পরিকল্পনা
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মাত্র একটি দরজা। এই দরজা পার হওয়ার পরই আসল লড়াই শুরু হয়, যেখানে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা আপনার মেধা ও ব্যক্তিত্বকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করে। অনেক প্রার্থী প্রিলি ক্লিয়ার করার পর লিখিতের জন্য নতুন করে শুরু করতে চান, কিন্তু সময় খুব কম থাকে। ৫০তম বিসিএসের ক্ষেত্রে প্রিলি সম্ভাব্য জানুয়ারি ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষা শুরু হতে পারে এপ্রিল বা মে থেকে। অর্থাৎ প্রিলির পর মাত্র ৩-৪ মাস সময় পাবেন। তাই প্রিলির প্রস্তুতির সাথে সাথে লিখিত ও মৌখিকের বেসিক প্রস্তুতি শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা দেখব কীভাবে প্রিলির পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিকের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করবেন।
১. প্রিলির সাথে লিখিত প্রস্তুতি শুরু করার কৌশল
প্রিলিতে যে বিষয়গুলো আছে, লিখিতে সেগুলোই আরও গভীরভাবে আসে। তাই প্রিলির প্রস্তুতি করতে গিয়ে লিখিতের জন্যও ভিত্তি তৈরি করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে কৌশল দেওয়া হলো।
প্রথমত, প্রতিদিনের রুটিনে ১-২ ঘণ্টা লিখিতের জন্য আলাদা করে রাখুন। এই সময়টি ব্যবহার করুন নিচের কাজগুলোর জন্য।
বাংলা: প্রিলির জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ছেন। সেই সাথে প্রতিদিন ১টি বাংলা কম্পোজিশন (অনুচ্ছেদ বা প্রবন্ধ) লিখুন। বিষয় হতে পারে সাম্প্রতিক ঘটনা বা বিসিএস সিলেবাসের মূল টপিক। শুরুতে ২০০-৩০০ শব্দের লেখা লিখুন। পরে ধীরে ধীরে ৪০০-৫০০ শব্দে নিয়ে যান।
ইংরেজি: প্রিলির ইংরেজি গ্রামার ও ভোকাবুলারি পড়ার সময় প্রতি সপ্তাহে ১টি প্রিসিস ও ১টি প্যারাগ্রাফ লিখুন। ইংরেজি প্রবন্ধের জন্য প্রতিদিন ১০-১৫টি নতুন শব্দ শিখে নোট করুন।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: এই দুটি বিষয় লিখিতে অনেক বেশি মার্কস নেয়। প্রিলির জন্য MCQ পড়ার সময় প্রতিটি টপিকের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নোট করে রাখুন। সেই নোট থেকে প্রতি সপ্তাহে ১টি ১০ মার্কের প্রশ্নের উত্তর লিখুন।
গণিত ও মানসিক দক্ষতা: লিখিতে এই বিষয়গুলোতে অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন আসে। প্রিলির গণিত সমস্যা সমাধান করার সময় ধাপে ধাপে লিখে অনুশীলন করুন।
সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার, ভূগোল, পরিবেশ: প্রিলির জন্য পড়া বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে প্রতি সপ্তাহে ২-৩টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর লিখুন।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: লিখিতে এই বিষয়ে অনেক প্রশ্ন আসে। প্রিলির জন্য পড়া অধ্যায় থেকে প্রতি সপ্তাহে ১টি প্রশ্নের উত্তর লিখুন।
২. লিখিত প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক বই ও রিসোর্স
বাংলা: প্রফেসরস বাংলা সাহিত্য, এমপি৩ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিসিএস কম্পোজিশন বই।
ইংরেজি: প্রফেসরস ইংরেজি, ওয়ার্ড পাওয়ার মেইড ইজি, প্রিসিস রাইটিং বই।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: প্রফেসরস বাংলাদেশ বিষয়াবলি, এনসিইআরটি বইয়ের বাংলা অনুবাদ।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: প্রফেসরস আন্তর্জাতিক, দ্য ইকোনমিস্ট, বিবিসি নিউজের সারাংশ।
নৈতিকতা: প্রফেসরস নৈতিকতা বই, আইএসআইএস পাবলিকেশনের নৈতিকতা।
প্রতি মাসে অন্তত ১টি পূর্ণাঙ্গ লিখিত মডেল টেস্ট দিন। প্রথমে ৩ ঘণ্টায় ১০০ মার্কসের টেস্ট দিন, পরে ধীরে ধীরে ৫ ঘণ্টায় ২০০ মার্কসের টেস্টে যান।
৩. মৌখিক প্রস্তুতির প্রাথমিক পরিকল্পনা
মৌখিক পরীক্ষা শুধু জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসেরও পরীক্ষা। তাই প্রিলির শুরু থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে কথা বলুন। বিষয় হতে পারে নিজের পরিচিতি, কেন বিসিএস চান, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা ইত্যাদি।
প্রতি সপ্তাহে ১-২টি মক ইন্টারভিউ দিন। বন্ধু বা পরিবারের কাউকে নিয়ে মক ভাইভা নিন।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পড়াশোনার বিষয়, হবি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে ১-২ মিনিটের সংক্ষিপ্ত উত্তর তৈরি করুন।
সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে প্রতিদিন ১০ মিনিট পড়ুন। প্রতি সপ্তাহে সেগুলো নিয়ে নিজের মতামত লিখে রাখুন।
৪. সামগ্রিক পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত রুটিন (প্রিলির সাথে)
- সকাল ৬:০০-৯:০০: প্রিলি প্রস্তুতি (MCQ অনুশীলন)
- সকাল ৯:৩০-১০:৩০: বাংলা/ইংরেজি কম্পোজিশন বা প্রিসিস লেখা
- দুপুর ২:০০-৪:০০: প্রিলি বিষয় (বাংলাদেশ/আন্তর্জাতিক/বিজ্ঞান)
- বিকেল ৪:৩০-৫:৩০: লিখিতের জন্য ১টি প্রশ্নের উত্তর লেখা
- রাত ৯:০০-৯:৩০: মৌখিক প্র্যাকটিস (আয়নার সামনে বা মক ভাইভা)
এইভাবে প্রিলির প্রস্তুতি করতে করতে লিখিত ও মৌখিকের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়ে যাবে। যখন প্রিলি শেষ হবে, তখন আপনি শুধু রিভিশন ও আরও গভীর অনুশীলন করলেই চলবে।
সুতরাং, আজ থেকেই শুরু করুন। প্রিলি একা নয়, পুরো বিসিএসকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নিন। সফলতা আসবেই।
প্রস্তুতির কার্যকর টিপস ও কৌশল
৫০তম বিসিএসের মতো একটি কঠিন পরীক্ষায় সফলতা পেতে হলে শুধু পড়াশোনা করলেই চলবে না। সঠিক কৌশল, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক শক্তি অর্জন করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব কিছু বাস্তবসম্মত এবং প্রমাণিত টিপস ও কৌশল যা হাজারো সফল প্রার্থীরা অনুসরণ করে সাফল্য অর্জন করেছেন।
সময় ব্যবস্থাপনা: দিনকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র
প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়ার পরিকল্পনা করা সহজ কথা। কিন্তু সেই সময়টা কীভাবে ব্যবহার করবেন তা নির্ধারণ করে সাফল্য। নিচের কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করুন:
প্রথমত, পোমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করুন। ২৫ মিনিট পড়ুন, তারপর ৫ মিনিট বিরতি। প্রতি ৪টি সেশনের পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট লম্বা বিরতি। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, দিনের শুরুতে সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো পড়ুন। সকালে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ থাকে। গণিত, যুক্তি বা আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির মতো বিষয়গুলো সকালের দিকে রাখুন।
তৃতীয়ত, টাইম ব্লকিং করুন। দিনের প্রতিটি ঘণ্টা কোন বিষয়ের জন্য বরাদ্দ করবেন তা আগের রাতেই ঠিক করে রাখুন। এতে অপচয় কম হয়।
মডেল টেস্ট ও পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্রের অনুশীলন: সবচেয়ে বড় সিক্রেট
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৬০ থেকে ১৭৫ নম্বর পাওয়ার জন্য শুধু পড়লে হবে না, পরীক্ষার মতো পরিবেশে অনুশীলন করতে হবে।
প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৩টি ফুল মডেল টেস্ট দিন। সময়সীমা মেনে দিন। পরীক্ষা শেষে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করুন। কোন বিষয়ে কেন ভুল হচ্ছে তা লিখে রাখুন।
পূর্ববর্তী ১০ থেকে ১৫টি বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নপত্র অন্তত ৩ বার করে সমাধান করুন। এতে প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝতে পারবেন। অনেক প্রশ্ন একই ধরনের আসে।
ভুল এড়ানোর কৌশল: নেগেটিভ মার্কিং থেকে বাঁচার উপায়
৫০তম বিসিএসে প্রতি ভুল উত্তরে ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। তাই অন্ধভাবে গেস করা চলবে না।
প্রশ্ন পড়ার সময় প্রথমে যেগুলো ১০০% নিশ্চিত তা উত্তর দিন। তারপর দ্বিতীয় রাউন্ডে যেগুলো ৫০% নিশ্চিত সেগুলো করুন। বাকি প্রশ্নগুলোতে গেস করার আগে দুটি অপশন বাদ দিন। এতে সঠিক উত্তরের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের চাবিকাঠি
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমের অভাবে মেমোরি কমে যায়।
- সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে মন ফ্রেশ থাকে।
- প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করুন। এতে চাপ কমে এবং মনোযোগ বাড়ে।
- পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। একা থাকলে মন খারাপ হয়ে যায়।
অন্যান্য কার্যকর টিপস
প্রতিদিন পড়া শেষে একটা জার্নাল লিখুন। কী পড়লেন, কতটা ভালো লাগলো, কোথায় সমস্যা হলো। এতে অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।
একই বিষয় একটানা ২ ঘণ্টার বেশি পড়বেন না। বিষয় পরিবর্তন করলে মস্তিষ্ক রিফ্রেশ হয়।
প্রতি মাসে একবার নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করুন। মডেল টেস্টের স্কোর দেখে বুঝুন কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে।
প্রস্তুতির জন্য সেরা বই ও রিসোর্স
৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক বই ও রিসোর্স নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বই বা অপ্রয়োজনীয় রিসোর্সে সময় নষ্ট হলে প্রস্তুতি পিছিয়ে যায়। নিচে বিষয়ভিত্তিক সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর বইয়ের তালিকা এবং অনলাইন রিসোর্স দেওয়া হলো। এগুলোর মধ্যে যেগুলো তোমার জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে হয়, সেগুলো প্রথমে নাও।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
এই বিষয়ে প্রশ্ন সাধারণত ব্যাকরণ, সাহিত্যের ইতিহাস, লেখক ও রচনা থেকে আসে।প্রস্তাবিত বই:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রস্তুতি (অধ্যাপক আব্দুল হক)
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সুকুমার সেন)
৩. বিসিএস বাংলা (প্রফেসরস ক্যাডার)
৪. বাংলা সাহিত্যের আলোকে (এমএইচ সিরাজ)
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
ইংরেজিতে গ্রামার, ভোকাবুলারি, সিনোনিম-অ্যানটোনিম, প্রবন্ধ ও সাহিত্যের প্রশ্ন থাকে।প্রস্তাবিত বই:
১. English for Competitive Exams (Professor's)
২. High School English Grammar & Composition (Wren & Martin)
৩. Objective General English (SP Bakshi)
৪. বিসিএস ইংরেজি (প্রফেসরস ক্যাডার)
৫. CliffsNotes on English Literature (সাহিত্যের জন্য)
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
এটি সবচেয়ে স্কোরিং বিষয়। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভূগোল, অর্থনীতি, সংবিধান ইত্যাদি। প্রস্তাবিত বই:
১. বাংলাদেশের সংবিধান (লাহিরী)
২. বাংলাদেশ বিষয়াবলি (প্রফেসরস ক্যাডার)
৩. বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রফেসর আনিসুজ্জামান)
৪. বাংলাদেশ বিষয়াবলি (এমপি৩)
৫. জয় বাংলা (মুক্তিযুদ্ধের জন্য)
অনলাইন: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট (moedu.gov.bd, bpsc.gov.bd), Daily Star আর্কাইভ।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংগঠন, চুক্তি, সাম্প্রতিক ঘটনা। প্রস্তাবিত বই:
১. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. International Affairs (Chowdhury & Hossain)
৩. Manorama Yearbook (সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য)
৪. প্রথম আলোর আন্তর্জাতিক পাতা সংকলন
অনলাইন: BBC News, Al Jazeera, UN.org, The Diplomat।
গণিত যুক্তি
২০ নম্বরের এই বিষয়ে সহজ থেকে মাঝারি লেভেলের প্রশ্ন আসে। প্রস্তাবিত বই:
১. গণিত যুক্তি (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Quantitative Aptitude (RS Aggarwal)
৩. Fast Track Objective Arithmetic (Rajesh Verma)
মানসিক দক্ষতা
সিরিজ, অ্যানালজি, কোডিং-ডিকোডিং ইত্যাদি। প্রস্তাবিত বই:
১. মানসিক দক্ষতা (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Verbal & Non-Verbal Reasoning (RS Aggarwal)
সাধারণ বিজ্ঞান
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পরিবেশ। প্রস্তাবিত বই:
১. সাধারণ বিজ্ঞান (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Lucent's General Science
৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনসিইআরটি স্টাইল)
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
বেসিক কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার। প্রস্তাবিত বই:
১. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Objective Computer Awareness (Arihant)
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ ও বিশ্বের ভূগোল, জলবায়ু পরিবর্তন। প্রস্তাবিত বই:
১. ভূগোল ও পরিবেশ (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Certificate Physical and Human Geography (GC Leong)
অনলাইন: NASA Climate, Bangladesh Meteorological Department।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
নতুন যোগ হওয়া এই ১৫ নম্বরের বিষয়টি খুবই স্কোরিং। প্রস্তাবিত বই:
১. নৈতিকতা ও মূল্যবোধ (প্রফেসরস ক্যাডার)
২. Ethics, Integrity and Aptitude (Lexicon)
অনলাইন: বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতিমালা অংশ।
সেরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ
১. Live MCQ (অনেক মডেল টেস্ট ও লাইভ ক্লাস)
২. BCS Confidence (দৈনিক মক টেস্ট)
৩. 10 Minute School (ফ্রি ক্লাস ও নোট)
৪. Job Solution BD (পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র)
৫. BCS Preparation Facebook Group (আলোচনা ও PDF)
৬. YouTube: BCS Confidence, 10 Minute School, Orbit Coaching।
ফ্রি ও পেইড কোর্সের সাজেশন
ফ্রি: 10 Minute School এর বিসিএস সিরিজ, BCS Confidence এর ইউটিউব চ্যানেল।
পেইড: Orbit, MP3, Professors Cadre এর অনলাইন কোর্স (প্রিলি স্পেশাল)।
এই তালিকা অনুসরণ করে বই কিনে নাও। প্রতিদিন একটি বিষয়ের বই থেকে পড়া শেষ করে মডেল টেস্ট দাও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পূর্ববর্তী ৪০-৪৫তম বিসিএসের প্রশ্নপত্র বারবার অনুশীলন করা।
শেষ কথা ও মোটিভেশন
আপনি যদি এই মুহূর্তে ব্লগের এই অংশটি পড়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে পারছেন যে আপনার মধ্যে ৫০তম বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নটা এখনো জ্বলজ্বল করছে। এই স্বপ্নটাই আপনাকে এতদূর এনেছে। এখন শুধু বাকি একটা কথা: এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্বটা সম্পূর্ণভাবে আপনার হাতে।
বিসিএসের মতো একটা পরীক্ষা কোনো একদিনের ম্যাজিক দিয়ে পার হয় না। এটা ধৈর্য, নিয়মিততা আর অটল সংকল্পের খেলা। অনেক সময় মনে হবে পড়া শেষ হচ্ছে না, অনেক প্রশ্নের উত্তর মনে পড়ছে না, অনেক দিন মডেল টেস্টে স্কোর কম আসছে। এই সব মুহূর্তে মনে রাখবেন, যারা আজ সফল, তারাও একসময় ঠিক এই জায়গা দিয়ে গেছে। তারা হাল ছাড়েনি, বরং প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়েছে।
আপনার প্রস্তুতির যাত্রায় সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিয়মিততা। প্রতিদিন পড়ার একটা ছোট রুটিন থাকলে, ছয় মাস পর দেখবেন আপনি যে লক্ষ্যে ছিলেন, তার অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। মাঝে মাঝে ক্লান্তি আসবে, মন খারাপ হবে, পরিবার-বন্ধুরা বুঝতে পারবে না আপনি কেন এতটা চাপ নিচ্ছেন। এই সময়গুলোতে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন যে আপনি কেন শুরু করেছেন। আপনার সেই স্বপ্নের ক্যাডার পোস্টিং, আপনার পরিবারের জন্য যে ভালো কিছু করতে চান, আপনার নিজের মধ্যে যে সম্ভাবনা দেখতে পান, সেগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় মোটিভেশন।
আজ থেকেই একটা ছোট কাজ শুরু করুন। আজকের জন্য একটা সিম্পল টার্গেট রাখুন। হয়তো বাংলা সাহিত্যের ২০টা গুরুত্বপূর্ণ লেখকের নাম মুখস্থ করা, অথবা গণিতের ১০টা যুক্তি প্রশ্ন সমাধান করা, অথবা একটা পুরোনো প্রশ্নপত্রের ৫০টা এমসিকিউ সলভ করা। ছোট ছোট এই জয়গুলোই আপনাকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।
শেষ কথা হলো, আপনি যদি সত্যিকারের চেষ্টা করেন, তাহলে ৫০তম বিসিএস আপনার জন্য অসম্ভব নয়। এই যাত্রায় একা থাকবেন না। অনলাইন গ্রুপ, বন্ধু, পরিবার, কোচিং, বই, ইউটিউব, সবকিছু আপনার পাশে আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। আজই সেই সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি হাল ছাড়বেন না।
আপনার সাফল্যের অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনা রইলো, আপনি পারবেন। এগিয়ে যান।
আরো পড়ুন :
- ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ- শিক্ষা ক্যাডার) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৫
- ৪৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৫
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৫
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৪
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৩
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২২
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
- ৪২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৯
