৩৭ বছর পর আবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি বাংলাদেশের দুই বীর সাঁতারুর!

প্রিপারেশন

২৬ নভেম্বর, ২০২৫

৩৭ বছর পর আবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি বাংলাদেশের দুই বীর সাঁতারুর!

৩৭ বছর পর আবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি বাংলাদেশের দুই বীর সাঁতারুর!

সারা বিশ্বে সাঁতারুদের জন্য ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া আলাদা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ইংলিশ চ্যানেলের পানির তাপমাত্রা ১৫-১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো থাকে। সেখানে সাঁতরানো যেকোনো সাঁতারুর জন্যই চ্যালেঞ্জিং। ২৯ জুলাই ২০২৫ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন বাংলাদেশের দুই সাঁতারু নাজমুল হক ও মাহফিজুর রহমান।

ইংলিশ চ্যানেল

ইংলিশ চ্যানেল একটি সংকীর্ণ সাগর, যা উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। এটি যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ অংশকে ফ্রান্সের উত্তর অংশ থেকে পৃথক করেছে। ইংলিশ চ্যানেল মূলত আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ। এর দৈর্ঘ্য ৫৬০ কিমি (৩৫০ মাইল) এবং অবস্থানভেদে প্রস্থ সর্বোচ্চ ২৪০ কিমি থেকে সর্বনিম্ন ৩৪ কিমি। এটি খুব একটা গভীর নয়। যে স্থানটিতে ইংলিশ চ্যানেল সবচেয়ে বেশি প্রশস্ত সেখানেও এর গড় গভীরতা ১২০ মিটার। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংলিশ চ্যানেল নামটি প্রচলিত হওয়ার আগে এটি ব্রিটিশ সমুদ্র বা সরু সাগর নামে পরিচিত ছিল। অনেকটা কোটের হাতার মতো দেখতে উপকূল রেখার কারণে ফরাসিরা একে লা মঁশ (La Manche) নামে ডাকেন। ধারণা করা হয়, ১.৮০ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ বছর আগে ইংলিশ চ্যানেলের জন্ম। ভৌগলিক কারণেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ অতীতের অনেক যুদ্ধেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইংলিশ চ্যানেল। ফরাসি ও ব্রিটিশদের সভ্য সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক দর্শন ইত্যাদির আদান-প্রদানেও ভূমিকা রেখেছে এটি।

ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করা প্রথম পুরুষ ও নারী
ক্যাটাগরি
নাম
সময়কাল
ব্যক্তি
ক্যাপ্টেন ম্যাথু ওয়েব (যুক্তরাজ্য)
২৪ আগস্ট ১৮৭৫
গার্ট্রড ক্যারোলিন এডেরলে (যুক্তরাষ্ট্র)
৬ আগস্ট ১৯২৬
এশীয়
ব্রজেন দাস (বাংলাদেশ)
২৩ আগস্ট ১৯৫৮
আরতি সাহা (ভারত)
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯
ভারতীয়
মিহির সেন
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮
আরতি সাহা
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯
বাঙালি
ব্রজেন দাস
২৩ আগস্ট ১৯৫৮
আরতি সাহা
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯

বাংলাদেশিদের জয়

২৩ আগস্ট ১৯৫৮ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের কৃতিত্ব দেখান ব্রজেন দাস। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম সাঁতারু হিসেবে ২২ আগস্ট ১৯৮৮ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ২৯ জুলাই ২০২৫ বাংলাদেশের সাঁতার ইতিহাসে যোগ হয় আরেকটি গৌরবগাঁথা। আবারও ইংলিশ চ্যানেল জয় করেন বাংলাদেশের দুই সাঁতারু- মাহফিজুর রহমান সাগর ও নাজমুল হক হিমেল। এটি ছিল মোট ৬ জনের রিলে দল। বাকি চারজনের মধ্যে একজন মেক্সিকান ও তিনজন ভারতীয়।

নাম
জেলা
তারিখ
ব্রজেন দাস
মুন্সীগঞ্জ
২৩ আগস্ট ১৯৫৮
আবদুল মালেক
চাঁদপুর
১১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬
মোশাররফ হোসেন
মুন্সীগঞ্জ
২২ আগস্ট ১৯৮৮
নাজমুল হক হিমেল
কিশোরগঞ্জ
২৯ জুলাই ২০২৫
মাহফিজুর রহমান সাগর
পাবনা
২৯ জুলাই ২০২৫

ব্রজেন দাস মোট ৬ বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন- ২৩ আগস্ট ১৯৫৮, ২৭ আগস্ট ১৯৫৯, ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯, ২৭ আগস্ট ১৯৬০, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬১ এবং ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬১।

চ্যানেল টানেল

'চ্যানেল টানেল' সমুদ্রের নিচে তৈরি করা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ রেলপথ। ইংলিশ চ্যানেলের নিচে তৈরি করা রেলসুড়ঙ্গটি যুক্তরাজ্যের ফোকস্টোনকে ও ফ্রান্সের কোকুয়েলেসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। টানেলের ৫০.৫ কিমির মধ্যে ৩.৩ কিমি ফ্রান্স অংশে ভূ-পৃষ্ঠের নিচে, ৯.৩ কিমি যুক্তরাজ্যের ভূ-পৃষ্ঠের নিচে এবং ৩৭.৯ কিমি সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। ১৮০২ সালে ফ্রান্সের প্রকৌশলী অ্যালবার্ট ম্যাথু-প্রথম ইংলিশ চ্যানেলের নিচ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা উত্থাপন করেন। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণে সম্মত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স চ্যানেল টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৭ ব্রিটিশ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ ফ্রান্সের অংশে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৬'মে ১৯৯৪ ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া মিতের আনুষ্ঠানিকভাবে 'চ্যানেল টানেল' উদ্বোধন করেন। ১৪ নভেম্বর ১৯৯৪ এই সুড়ঙ্গ দিয়ে ইউরোস্টার (Eurostar) নামের রেল পরিষেবা চালু হয়। টানেল পাড়ি দিয়ে এক পাশ থেকে অপর পাশে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩৫ মিনিট।

বিষয় : বাংলাদেশ বিষয়াবলী
৩৭ বছর পর আবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি বাংলাদেশের দুই বীর সাঁতারুর! | Preparation