শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকলে কি ভবিষ্যতে সমস্যা হয়

প্রিপারেশন

৬ দিন আগে

শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকলে কি ভবিষ্যতে সমস্যা হয়

ছবি : সংগৃহিত

শিক্ষকতা পেশায় আসার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। আর সেই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। কিন্তু জীবনে নানা পরিস্থিতিতে অনেক প্রার্থীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকতে হয়। এরপর মনে দুশ্চিন্তা ঘর করে বসে - ভবিষ্যতে কি সমস্যা হবে? আবার কি পরীক্ষা দেওয়া যাবে?

আসলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টা আপনি যতটা ভাবছেন, ততটা ভয়ের কিছু নয়। তবে বিষয়টা ভালোভাবে বুঝতে হলে প্রথমে জানা দরকার কেন মানুষ এই পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে এবং এটা নিয়ে তাদের আসল উদ্বেগটা কী।

কেন প্রার্থীরা অনুপস্থিত থাকেন

হাজার হাজার প্রার্থী প্রতি বছর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন দেখা যায় অনেক আসন খালি পড়ে আছে। এর পেছনে কিছু সাধারণ কারণ থাকে।

প্রথমত, হঠাৎ করে অসুস্থতা। জ্বর, পেটের সমস্যা, বা অন্য কোনো জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে অনেকে পরীক্ষা দিতে পারেন না। মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের সমস্যাও একটা বড় কারণ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, পারিবারিক জরুরি অবস্থা। হঠাৎ করে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, বা কোনো মৃত্যু বা বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় না। এগুলো কারো নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

তৃতীয়ত, চাকরি বা অন্য পরীক্ষার সাথে সংঘর্ষ। অনেকে শিক্ষক নিবন্ধনের পাশাপাশি BCS বা ব্যাংক জবসহ নানা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন। কখনো কখনো দুটো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা একই দিনে বা কাছাকাছি সময়ে পড়ে যায়। তখন প্রার্থীকে বেছে নিতে হয় কোনটায় অংশ নেবেন।

চতুর্থত, প্রস্তুতির অভাব। সততার সাথে বলতে গেলে, অনেকে মনে করেন যে তারা এখনো ভালোভাবে প্রস্তুত নন। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে এই দ্বিধা বেশি দেখা যায়। তারা ভাবেন পরবর্তী সার্কুলারে আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেবেন।

পঞ্চমত, আর্থিক বা যাতায়াতের সমস্যা। পরীক্ষার কেন্দ্র অনেক দূরে হলে যাতায়াত খরচ এবং থাকার ব্যবস্থা করা সবার পক্ষে সহজ নয়। বিশেষ করে যারা দুর্গম এলাকা থেকে আসেন, তাদের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ষষ্ঠত, ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি। কখনো কখনো পরীক্ষার তারিখ, সময় বা কেন্দ্র নিয়ে প্রার্থীরা বিভ্রান্ত হন। প্রবেশপত্র সময়মতো ডাউনলোড না করা বা ভুল তথ্য পড়ার কারণেও অনুপস্থিত থাকতে হয়।

প্রার্থীদের মনে যে উদ্বেগ থাকে

অনুপস্থিত থাকার পর প্রার্থীদের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। এই উদ্বেগগুলো বোঝা জরুরি, কারণ এগুলোর সঠিক উত্তর জানলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।

প্রথম উদ্বেগটা হলো, আমার নাম কি কোনো ব্ল্যাকলিস্টে চলে যাবে? অনেকে ভাবেন যে একবার অনুপস্থিত থাকলে সরকারি রেকর্ডে তাদের নাম নেগেটিভভাবে চিহ্নিত হয়ে যাবে। এই ভয় থেকে অনেকে পরবর্তীতে আবেদন করতেও সাহস পান না।

দ্বিতীয়ত, পরবর্তী পরীক্ষায় কি আবেদন করা যাবে? এটা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রার্থীরা জানতে চান যে তারা কি আবার নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন, নাকি একবার অনুপস্থিত থাকার কারণে সেই সুযোগ হারিয়ে ফেলেছেন।

তৃতীয়ত, ফি ফেরত পাওয়া যাবে কিনা। শিক্ষক নিবন্ধনের ফি কম নয়। অনেকের জন্য এটা বেশ বড় একটা পরিমাণ টাকা। তাই অনুপস্থিত থাকলে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা, এটা নিয়েও উদ্বেগ থাকে।

চতুর্থত, চাকরিতে প্রভাব পড়বে কিনা। যারা ইতিমধ্যে কোথাও শিক্ষকতা করছেন বা ভবিষ্যতে চাকরির আবেদন করবেন, তারা ভাবেন এই অনুপস্থিতির রেকর্ড কি তাদের চাকরির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

পঞ্চমত, সামাজিক চাপ এবং হতাশা। আশেপাশের মানুষ, বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা যখন জানতে পারেন যে পরীক্ষা দেওয়া হয়নি, তখন অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এই সামাজিক চাপ মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে।

এই লেখায় আপনি কী জানতে পারবেন

এই সিরিজের লেখাগুলোতে আমি চেষ্টা করব আপনার সব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিতে। প্রথমেই জেনে রাখুন, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা কোনো অপরাধ নয়, এবং এটা আপনার ভবিষ্যতকে নষ্ট করে দেয় না।

আমরা বিস্তারিতভাবে জানব যে অনুপস্থিতির সরাসরি প্রভাব কী। আপনার পরীক্ষার ফি কী হবে, সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলাফলে কী দেখাবে, এবং পরবর্তীতে কখন আবার আবেদন করতে পারবেন।

এরপর আমরা দেখব ভবিষ্যতে পুনরায় আবেদনের সুযোগ কতটা খোলা। NTRCA-র নিয়ম অনুযায়ী আপনি কি আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন, কোনো নেগেটিভ রেকর্ড থাকবে কিনা, এবং নতুন করে ফি দিতে হবে কিনা।

চাকরির ক্ষেত্রে প্রভাব নিয়েও আমরা আলোচনা করব। সরকারি স্কুলে আবেদন করতে কি সমস্যা হয়? বেসরকারি স্কুল কীভাবে এটা দেখে? MPO ভুক্তিতে কোনো বাধা আসে কিনা? এই প্রশ্নগুলোর তথ্যভিত্তিক উত্তর পাবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা ভুল ধারণাগুলো দূর করব। চারপাশে অনেক গুজব ছড়িয়ে আছে শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা, সেটা পরিষ্কার করে বলব।

শেষে থাকবে পরবর্তী পদক্ষেপের গাইডলাইন। অনুপস্থিত থাকার পর আপনার কী করা উচিত, কীভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন, এবং পরবর্তী সার্কুলারের জন্য কীভাবে প্রস্তুত থাকবেন।

মনে রাখবেন, জীবনে অনেক কিছুই পরিকল্পনা মতো হয় না। একটা পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা মানে আপনার স্বপ্নের শেষ নয়। বরং এটা একটা ছোট বাধা, যা পেরিয়ে আপনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারবেন। পরবর্তী পর্বগুলোতে আমরা দেখব কীভাবে এই বাধা অতিক্রম করে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন।

শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকলে সরাসরি কী প্রভাব পড়ে?

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য আবেদন করার পর যদি কোনো কারণে পরীক্ষায় উপস্থিত হতে না পারেন, তাহলে সাথে সাথে কিছু বিষয় ঘটে। এগুলো জানা থাকলে আপনি পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলাতে পারবেন।

পরীক্ষার ফি ফেরত পাবেন কিনা

সোজা কথা হলো, পরীক্ষার ফি ফেরত পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। NTRCA-র নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যদি কোনো কারণেই অনুপস্থিত থাকেন - অসুস্থতা, পারিবারিক জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য যেকোনো কারণে - আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়।

এমনকি মেডিকেল সার্টিফিকেট বা অন্য কোনো প্রমাণপত্র জমা দিলেও ফি ফেরত দেওয়া হয় না। এটা একটা নন-রিফান্ডেবল ফি হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই পরীক্ষা দেওয়ার আগে তারিখ ও সময় ভালোভাবে চেক করে নেওয়া জরুরি।

সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলাফলে কী হয়

আপনি যদি প্রিলিমিনারি বা রিটেন যেকোনো ধাপে অনুপস্থিত থাকেন, সেই পরীক্ষায় আপনার স্ট্যাটাস "Absent" বা "অনুপস্থিত" হিসেবে রেকর্ড হয়। ফলাফল প্রকাশের সময় আপনার রোল নম্বরের পাশে এটা দেখানো হয়।

এর মানে হলো সেই নির্দিষ্ট সার্কুলারের পরীক্ষায় আপনার অংশগ্রহণ শেষ। আপনি পরবর্তী কোনো ধাপে যেতে পারবেন না। ধরুন, প্রিলিতে অনুপস্থিত থাকলেন - তাহলে সেই সার্কুলারের রিটেন বা ভাইভাতে আর বসার সুযোগ থাকবে না।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন: এই অনুপস্থিতি শুধু সেই নির্দিষ্ট সার্কুলারের জন্য প্রযোজ্য। পরবর্তী সার্কুলারে নতুন করে আবেদন করতে কোনো বাধা নেই।

পুনরায় আবেদনের জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হয়

এটা অনেকের মনে একটা বড় প্রশ্ন থাকে। ভালো খবর হলো, অনুপস্থিত থাকার কারণে আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো সময় অপেক্ষা করতে হয় না।

যখনই পরবর্তী সার্কুলার প্রকাশ হবে, আপনি সাথে সাথে আবেদন করতে পারবেন। কোনো ধরনের কুলিং পিরিয়ড বা ওয়েটিং টাইম নেই। আপনাকে শুধু নতুন সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা সাধারণত বছরে একবার বা দুইবার আসে।

তবে মনে রাখবেন, নতুন সার্কুলারে আবার আবেদন করতে হলে নতুন করে ফি দিতে হবে। আগের ফি কোনো কাজে আসবে না।

অনুপস্থিতির কারণে যা হয় না

এখানে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার যেগুলো নিয়ে মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করেন:

১. কোনো নেগেটিভ মার্ক নেই: অনুপস্থিত থাকলে আপনি শূন্য পাবেন, কিন্তু কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই।

২. ব্ল্যাকলিস্ট হওয়া: আপনাকে কোনো ব্ল্যাকলিস্টে ফেলা হবে না। NTRCA-র সিস্টেমে এই ধরনের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেই।

৩. পরবর্তী আবেদনে প্রভাব: আপনার পরবর্তী আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো নেগেটিভ প্রভাব পড়বে না। প্রতিটি সার্কুলার একদম নতুন শুরু।

কী করা উচিত

যদি ইতিমধ্যে অনুপস্থিত থেকে থাকেন, তাহলে দুঃখিত হওয়ার চেয়ে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন। আপনার প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং পরবর্তী সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করুন।

NTRCA-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করুন যাতে নতুন সার্কুলার মিস না হয়। অনেক সময় ফেসবুক গ্রুপ বা শিক্ষক ফোরামে দ্রুত আপডেট পাওয়া যায়।

মূল কথা হলো, একবার অনুপস্থিত থাকা কোনো বড় বিপদ নয়। এটা শুধু সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য একটা মিসড অপরচুনিটি। আপনার ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের সুযোগে এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নেই।

শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকলে কি আবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকার পর অনেকের মনেই একটা বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খায় - "আমি কি আবার এই পরীক্ষা দিতে পারব?" চলুন এই বিষয়টা পরিষ্কার করে জেনে নিই।

হ্যাঁ, আবার আবেদন করতে পারবেন

সবার আগে ভালো খবরটা জেনে নিন। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে ভবিষ্যতে আবার আবেদন করতে কোনো বাধা নেই। NTRCA (জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) এর নিয়ম অনুযায়ী, অনুপস্থিতি কোনো স্থায়ী সমস্যা তৈরি করে না।

আপনি যতবার ইচ্ছা ততবার পরবর্তী সার্কুলারে আবেদন করতে পারবেন। এতে আপনার পূর্ববর্তী অনুপস্থিতির কোনো নেগেটিভ প্রভাব থাকবে না।

কোনো ব্ল্যাকলিস্ট বা নেগেটিভ রেকর্ড নেই

অনেকেই ভাবেন যে একবার অনুপস্থিত থাকলে হয়তো কোথাও একটা রেকর্ড থেকে যায়, যেটা পরে সমস্যা তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এরকম কিছু নেই।

NTRCA প্রতিটি সার্কুলারকে আলাদা আলাদা পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করে। আপনি যদি ১৮তম সার্কুলারে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে ১৯তম বা ২০তম সার্কুলারে আবেদন করার সময় এটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। আপনার আবেদন একদম নতুন প্রার্থী হিসেবেই প্রসেস হবে।

একমাত্র যে রেকর্ড থাকে তা হলো আপনি যদি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন এবং নিবন্ধন সার্টিফিকেট পেয়ে থাকেন। কিন্তু অনুপস্থিতির কোনো রেকর্ড রাখা হয় না।

নতুন করে ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে

এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে। আগের পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে সেই ফি ফেরত পাবেন না। এবং পরবর্তী সার্কুলারে আবেদন করতে হলে আবার নতুন করে পুরো ফি দিতে হবে।

এটাকে অনেকে অসুবিধা মনে করলেও বাস্তবে এটাই নিয়ম। প্রতিটি সার্কুলারের জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য। তাই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য আবেদন করার সময় সম্পূর্ণ আবেদন ফি আবার জমা দিতে হবে।

বর্তমানে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফি সাধারণত ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যে থাকে (নন-গভর্নমেন্ট এবং গভর্নমেন্ট স্কুলের জন্য ভিন্ন)। লিখিত পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলে আবার আলাদা ফি দিতে হয়।

কত দিন পর আবার আবেদন করতে পারবেন

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা সাধারণত বছরে দুইবার হয় - একবার স্কুল পর্যায়ের জন্য, একবার কলেজ পর্যায়ের জন্য। তবে সার্কুলার প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচী নেই।

কখনো কখনো ৬-৮ মাসের মধ্যে নতুন সার্কুলার আসে, আবার কখনো একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তাই আপনাকে NTRCA এর ওয়েবসাইট এবং অফিশিয়াল নোটিশ নিয়মিত ফলো করতে হবে।

অনুপস্থিত থাকার পর পরবর্তী সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে এই সময়টা কাজে লাগিয়ে আপনি আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।

আবেদন প্রক্রিয়া একই থাকবে

পরবর্তী সার্কুলারে আবেদন করার প্রক্রিয়া হুবহু একই। আপনাকে আবার NTRCA এর ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে এবং ফি পেমেন্ট করতে হবে।

একবার অনুপস্থিত থাকলে আপনার আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসে না। নতুন প্রার্থীদের মতোই সব ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ

যদি আপনি আগের পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকে থাকেন এবং পরবর্তী সার্কুলারে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন।

প্রথমত, নিশ্চিত করুন যে পরবর্তী পরীক্ষার তারিখে আপনি উপস্থিত থাকতে পারবেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে সেটা আগেই ম্যানেজ করে রাখুন।

দ্বিতীয়ত, NTRCA এর ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করুন। সার্কুলার প্রকাশের সাথে সাথে আবেদন করে ফেলুন। শেষ মুহূর্তে রাখলে অনেক সময় টেকনিকাল সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, এই অপেক্ষার সময়টাকে কাজে লাগান। সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যান। মডেল টেস্ট দিন। যেহেতু আপনি আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, এবার আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসুন।

শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকলে চাকরিতে কী প্রভাব পড়ে?

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার পর অনেকের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে - এটা কি আমার শিক্ষকতা ক্যারিয়ারে কোনো সমস্যা তৈরি করবে? চাকরির আবেদন করার সময় এই অনুপস্থিতির রেকর্ড কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।

সরকারি স্কুলে চাকরির ক্ষেত্রে

সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেতে হলে নিবন্ধন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। এখানে মূল বিষয় হলো সার্টিফিকেট আছে কিনা, আপনি আগে কতবার পরীক্ষা দিয়েছেন বা কতবার অনুপস্থিত ছিলেন সেটা নয়।

যেটা গুরুত্বপূর্ণ:

  • আপনার কাছে বৈধ নিবন্ধন সার্টিফিকেট আছে কিনা
  • সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিনা
  • আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা পদের সাথে মিলছে কিনা

যেটা দেখা হয় না:

  • আপনি আগে কতবার পরীক্ষা দিয়েছেন
  • কোনো পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন কিনা
  • কতবার ফেল করেছেন

সরকারি চাকরির আবেদনের সময় শুধু নিবন্ধন সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিতে হয়। সেখানে আপনার নিবন্ধন নম্বর, পাসের তারিখ, এবং মেয়াদ উল্লেখ থাকে। পূর্ববর্তী কোনো অনুপস্থিতির তথ্য সেখানে থাকে না।

NTRCA (জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ) থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটে শুধু সফল পরীক্ষার তথ্য থাকে। অনুপস্থিতি বা অকৃতকার্যতার কোনো উল্লেখ থাকে না।

বেসরকারি স্কুলে চাকরির ক্ষেত্রে

বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সহজ। এখানে দুই ধরনের বেসরকারি স্কুল আছে:

MPO ভুক্ত স্কুল (সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত)

MPO (Monthly Pay Order) ভুক্ত স্কুলে চাকরি পেতে নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়, কারণ এসব স্কুলের শিক্ষকরা সরকার থেকে বেতন পান। তবে এখানেও শুধু সার্টিফিকেট থাকলেই হয়। কীভাবে পেয়েছেন, কতবার চেষ্টা করেছেন - এসব দেখা হয় না।

অনেক MPO স্কুল নিয়োগের সময় এমনকি জিজ্ঞাসাও করে না যে আপনি আগে কতবার পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা শুধু দেখে:

  • বৈধ নিবন্ধন আছে কিনা
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক আছে কিনা
  • অভিজ্ঞতা কেমন

নন-MPO স্কুল

নন-MPO স্কুলগুলোতে নিবন্ধন থাকলে ভালো, তবে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। এসব স্কুল নিজেদের বেতন দেয়, তাই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বাধীন। কিছু স্কুল নিবন্ধন চায়, কিছু চায় না।

এখানে মূলত দেখা হয়:

  • আপনার পড়ানোর দক্ষতা
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • ডেমো ক্লাস কেমন নিতে পারেন

অনেক নন-MPO স্কুল নিবন্ধন ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দেয়, বিশেষ করে যদি আপনার ভালো একাডেমিক রেজাল্ট থাকে।

MPO ভুক্তিতে প্রভাব

ধরুন আপনি একটা বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। পরে সেই স্কুল MPO ভুক্তির জন্য আবেদন করলো। তখন কি আপনার আগের অনুপস্থিতির রেকর্ড সমস্যা তৈরি করবে?

উত্তর হলো - না। MPO ভুক্তির সময় শিক্ষা অধিদপ্তর যা যাচাই করে:

  • শিক্ষকের নিবন্ধন সার্টিফিকেট বৈধ কিনা
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়মানুযায়ী আছে কিনা
  • নিয়োগপত্র সঠিক কিনা
  • সকল কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা

অনুপস্থিতির ইতিহাস এখানে কোনো ফ্যাক্টর নয়। শিক্ষা অধিদপ্তর NTRCA থেকে শুধু যাচাই করে যে আপনার নিবন্ধন সার্টিফিকেট আসল কিনা। তারা আপনার পূর্ববর্তী পরীক্ষার ইতিহাস দেখে না।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে

উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) পর্যায়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রয়োজন। কলেজের জন্য কলেজ পর্যায়ের নিবন্ধন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেই পর্যায়ের।

এখানেও একই নিয়ম প্রযোজ্য - সার্টিফিকেট থাকলেই হলো। কীভাবে পেয়েছেন সেটা কেউ দেখে না।

বাস্তব উদাহরণ

আমি যতজন শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি, তাদের অনেকেই প্রথমবার বা দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন বা পাস করেননি। কিন্তু পরে যখন সার্টিফিকেট পেয়েছেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি।

একজন শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন - "আমি তিনবার রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। প্রথমবার অনুপস্থিত, দ্বিতীয়বার ফেল, তৃতীয়বার পাস। এখন সরকারি স্কুলে ভালোভাবে চাকরি করছি। কেউ কখনো জিজ্ঞেস করেনি আমি কতবার দিয়েছি।"

সতর্কতা এবং পরামর্শ

তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা ভালো:

সার্টিফিকেটের মেয়াদ: নিবন্ধন সার্টিফিকেটের একটা মেয়াদ থাকে (সাধারণত আজীবন, তবে নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে)। মেয়াদ শেষ হলে রিনিউ করতে হতে পারে।

ভুয়া তথ্য না দেওয়া: চাকরির আবেদনে কখনো ভুয়া তথ্য দেবেন না। যদি নিবন্ধন না থাকে, তাহলে সেটা স্পষ্ট বলুন। ভুয়া সার্টিফিকেট দেখালে সেটা অপরাধ এবং আইনি ঝামেলা হতে পারে।

ক্রমাগত প্রস্তুতি: অনুপস্থিত থাকলেও হতাশ না হয়ে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যান। একবার সার্টিফিকেট পেলে আগের সব অনুপস্থিতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে চাকরিতে কোনো নেগেটিভ প্রভাব পড়ে না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেট পাওয়া। কীভাবে পেলেন, কতবার চেষ্টা করলেন - এগুলো কোনো বিষয় নয়।

সরকারি, বেসরকারি, MPO ভুক্ত - কোথাও আপনার অনুপস্থিতির রেকর্ড চেক করা হয় না। নিয়োগকর্তারা শুধু দেখেন আপনার কাছে বৈধ নিবন্ধন আছে কিনা।

তাই অনুপস্থিত থাকলে চিন্তা করার কিছু নেই। পরবর্তী সুযোগে আবার চেষ্টা করুন। একবার পাস করে ফেললে আপনার শিক্ষকতা ক্যারিয়ারে কোনো বাধা থাকবে না।

মনে রাখবেন, অনেক সফল শিক্ষক আছেন যারা একাধিকবার চেষ্টা করে নিবন্ধন পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ হলো হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনাকে চিন্তিত করছে

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে যারা কোনো কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেছেন, তারা প্রায়ই এসব ভুল ধারণার কারণে অযথা চিন্তিত থাকেন। চলুন দেখি কোন তথ্যগুলো আসলে ঠিক আর কোনগুলো শুধুই গুজব।

"একবার অনুপস্থিত থাকলে আর পরীক্ষা দেওয়া যায় না"

এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। NTRCA (জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) এর নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিতির জন্য কোনো স্থায়ী বাধা নেই। আপনি যতবার ইচ্ছা ততবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

আসল ব্যাপারটা হলো এরকম: প্রতিটি সার্কুলার আলাদা। আপনি যদি ১৮তম সার্কুলারে অনুপস্থিত থাকেন, সেটার কোনো প্রভাব ১৯তম বা ২০তম সার্কুলারে পড়ে না। প্রতিবার নতুন করে আবেদন করতে হয়, নতুন ফি দিতে হয়। এটাই নিয়ম।

যেটা মনে রাখবেন: একই সার্কুলারে দুইবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। মানে ১৮তম সার্কুলারে প্রিলিতে অনুপস্থিত থাকলে, সেই একই সার্কুলারে আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না। কিন্তু পরবর্তী সার্কুলারে কোনো বাধা নেই।

"রেকর্ডে থেকে যাবে এবং এটা চাকরির সময় সমস্যা করবে"

এই ভয়টা অনেকেরই আছে। কিন্তু বাস্তবতা একদম আলাদা।

NTRCA শুধু আপনার সার্টিফিকেট ইস্যু করে যদি আপনি পাস করেন। অনুপস্থিতির কোনো সার্টিফিকেট বা রেকর্ড তারা রাখে না যেটা পরবর্তীতে চাকরিদাতাদের কাছে পাঠানো হয়।

চাকরির আবেদনের সময় আপনাকে শুধু নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। কোনো স্কুল বা কলেজ জিজ্ঞেস করে না যে আপনি আগে কতবার পরীক্ষা দিয়েছেন বা কতবার অনুপস্থিত ছিলেন। এটা তাদের জানার কোনো ব্যবস্থাও নেই।

ভাবুন তো, আপনি যদি তিনবার চেষ্টা করে চতুর্থবারে পাস করেন, আপনার সার্টিফিকেটে কি লেখা থাকবে "চতুর্থ চেষ্টায় উত্তীর্ণ"? মোটেও না। সবার সার্টিফিকেট একই রকম দেখতে।

"একবার ফেল করলে পরের বার কোটা সুবিধা পাওয়া যায় না"

এটাও ভুল তথ্য। কোটা সুবিধা নির্ভর করে আপনার যোগ্যতার উপর, পরীক্ষার ফলাফলের উপর নয়।

আপনি যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হন, প্রতিবন্ধী কোটায় থাকেন, বা আদিবাসী কোটায় পড়েন, সেই সুবিধা প্রতিবার পাবেন। আগের পরীক্ষায় কী হয়েছে তাতে কিছু যায় আসে না।

শুধু মনে রাখবেন, প্রতিবার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কোটার সার্টিফিকেটের মেয়াদ থাকলে সেটা চেক করে নিতে হবে।

"বয়স বেশি হয়ে গেলে আর সুযোগ নেই"

এটা আংশিক সত্য, তবে যেভাবে মানুষ ভাবে সেরকম না।

NTRCA এর নিয়মে নির্দিষ্ট বয়সসীমা আছে। সাধারণত প্রভাষক পদের জন্য ৩৫ বছর, স্কুল শিক্ষকদের জন্য ৩০-৩২ বছর (পদভেদে ভিন্ন হতে পারে)। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রতিবন্ধী, এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় আছে।

আসল কথা হলো, অনুপস্থিতির জন্য বয়স বাড়ে না। বয়স তো যেভাবেই হোক বাড়বে। আপনি পরীক্ষা দিন আর না দিন, বয়সসীমা সবার জন্য একই।

তাই এই চিন্তা করার কিছু নেই যে "অনুপস্থিত থাকায় বয়স বেড়ে গেল, এখন আর সুযোগ নেই"। বরং উল্টোটা ভাবুন - যত তাড়াতাড়ি পরীক্ষা দিয়ে শেষ করবেন, তত ভালো।

"অনুপস্থিত থাকলে সরকারি চাকরিতে সমস্যা হয়"

অনেকে ভাবেন শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিতির রেকর্ড অন্য সরকারি চাকরিতে প্রভাব ফেলবে। এটা একদমই ভিত্তিহীন।

BCS পরীক্ষা, ব্যাংক জব, বা অন্য যেকোনো সরকারি চাকরিতে শিক্ষক নিবন্ধনের রেকর্ড চাওয়া হয় না। প্রতিটি পরীক্ষা আলাদা সিস্টেমে চলে। BPSC, NTRCA, ব্যাংক রিক্রুটমেন্ট - সবার নিজস্ব ডাটাবেস আছে।

একমাত্র যেখানে শিক্ষক নিবন্ধন দরকার পড়ে, সেটা হলো শিক্ষকতার চাকরিতে। আর সেখানেও শুধু সার্টিফিকেট দেখানো লাগে, ইতিহাস না।

"প্রিলিতে অনুপস্থিত থাকলে লিখিতে দেওয়া যায় না"

এটা সত্য, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি আছে।

একই সার্কুলারের মধ্যে প্রিলিতে পাস না করলে বা অনুপস্থিত থাকলে লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এটা স্বাভাবিক নিয়ম।

কিন্তু মানুষ যেটা ভুল বোঝে সেটা হলো - তারা মনে করে একবার প্রিলিতে অনুপস্থিত থাকলে ভবিষ্যতের কোনো সার্কুলারে লিখিত দিতে পারবে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল।

পরবর্তী সার্কুলারে আবার প্রিলি দিয়ে পাস করলে লিখিত পরীক্ষা দিতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই।

"বেসরকারি স্কুলে নিবন্ধন ছাড়া চাকরি হয় না"

এটা অনেকটা সত্য, কিন্তু পুরোপুরি না।

বেসরকারি স্কুলে চাকরি পেতে নিবন্ধন লাগে, এটা ঠিক। কিন্তু আপনি যদি আগে অনুপস্থিত থেকে থাকেন, সেটা কোনো সমস্যা না। পরে পাস করে সার্টিফিকেট নিলেই হলো।

আর MPO ভুক্তির জন্যও শুধু সার্টিফিকেট লাগে। কতবার পরীক্ষা দিয়েছেন বা কখন পাস করেছেন, সেটা দেখা হয় না।

তাহলে আসল কথা কী?

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা কোনো স্থায়ী সমস্যা তৈরি করে না। হ্যাঁ, সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফি চলে যায়, সময় নষ্ট হয়। কিন্তু আপনার ক্যারিয়ারে এটা কোনো দাগ ফেলে না।

যা মনে রাখবেন:

  • প্রতিটি সার্কুলার নতুন সুযোগ
  • কোনো ব্ল্যাকলিস্ট বা নেগেটিভ রেকর্ড নেই
  • চাকরিতে শুধু সার্টিফিকেট দেখতে চায়
  • বয়সসীমার মধ্যে থাকলে যতবার খুশি চেষ্টা করতে পারবেন

অনেক সফল শিক্ষক আছেন যারা দুই-তিনবার চেষ্টা করে পাস করেছেন। কেউ জানেও না তারা কতবার চেষ্টা করেছিলেন। কারণ শেষ পর্যন্ত যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো আপনার হাতে থাকা নিবন্ধন সার্টিফিকেট।

তাই অযথা চিন্তা না করে প্রস্তুতি নিন। পরবর্তী সার্কুলারের জন্য তৈরি থাকুন। আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত পাস করা, অনুপস্থিতির ইতিহাস নিয়ে দুশ্চিন্তা করা নয়।

শিক্ষক নিবন্ধনে অনুপস্থিত থাকার পর করণীয় এবং সামনের পথ

পরবর্তী পদক্ষেপ: অনুপস্থিত থাকার পর কী করবেন

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা মানেই সব শেষ নয়। বরং এটাকে একটা সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখুন। এখন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।

প্রথমেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হন

অনেকে অনুপস্থিত থাকার পর হতাশ হয়ে প্রস্তুতি ছেড়ে দেন। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। মনে রাখবেন, NTRCA প্রতি বছরই পরীক্ষা নেয়। আপনার সামনে আরও সুযোগ আসবে। যারা একবার মিস করেছেন, তাদের অনেকেই পরবর্তীতে ভালো ফলাফল করেছেন। কারণ তারা বেশি সময় পেয়েছেন প্রস্তুতি নিতে।

পরবর্তী সার্কুলার কখন আসে

সাধারণত NTRCA বছরে একবার বা দুইবার পরীক্ষা নেয়। স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা সাধারণত বছরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে হয়। কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষা আলাদাভাবে আসে।

আপনি যদি এই বছর অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে পরবর্তী সার্কুলারের জন্য NTRCA এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (ntrca.gov.bd) নিয়মিত চেক করুন। সাধারণত সার্কুলার প্রকাশের ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন শুরু হয়। এই সময়টা হাতে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যান।

সময়টা নষ্ট করবেন না

অনুপস্থিত থাকার পর যে অতিরিক্ত সময় পেলেন, সেটা কাজে লাগান। এই সময়ে আপনি:

প্রথমত, সিলেবাসটা ভালোভাবে বুঝে নিন। কোন বিষয়ে কতটা জানা দরকার, সেটা পরিষ্কার করুন। অনেক সময় আমরা সব কিছু পড়তে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মিস করি।

দ্বিতীয়ত, দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিন। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান এবং আপনার বিষয়ভিত্তিক অংশে কোথায় কোথায় আটকাচ্ছেন, সেগুলো চিহ্নিত করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে পড়ুন। একসাথে অনেক পড়ার চেয়ে নিয়মিত অল্প পড়া বেশি কার্যকর।

তৃতীয়ত, আগের বছরের প্রশ্ন সলভ করুন। গত ৫-৭ বছরের প্রশ্ন দেখলে একটা প্যাটার্ন বুঝতে পারবেন। কোন টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন আসছে, সেগুলো ফোকাস করুন।

প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ব্যবহারিক টিপস

একটা রুটিন বানান। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনার জন্য রাখুন। সকালে দুই ঘণ্টা হোক বা রাতে, যখনই আপনার সুবিধা। কিন্তু নিয়মিত হতে হবে।

অনলাইনে অনেক ফ্রি রিসোর্স পাবেন। ইউটিউবে ভালো কিছু চ্যানেল আছে যেখানে শিক্ষক নিবন্ধনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ফেসবুক গ্রুপগুলোতে যোগ দিন যেখানে শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থীরা আছেন। তাদের সাথে আলোচনা করলে অনেক কিছু শিখবেন।

মডেল টেস্ট দিন নিয়মিত। মাসে অন্তত ২-৩টা পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিলে পরীক্ষার প্রেশার সামলানো শিখবেন। সময়ের মধ্যে উত্তর করার অভ্যাসও হবে।

পরবর্তী সার্কুলার আসার ১ মাস আগে থেকে রিভিশন শুরু করুন। নতুন কিছু পড়ার চেয়ে যা পড়েছেন সেটা ঝালাই করা বেশি জরুরি।

উপসংহার

অনুপস্থিতি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়

এটা পরিষ্কারভাবে বলে রাখি - শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় একবার অনুপস্থিত থাকলে আপনার ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হয় না। NTRCA এর রেকর্ডে আপনার অনুপস্থিতির কোনো নেগেটিভ মার্ক থাকে না। পরবর্তী পরীক্ষায় আবেদন করতে কোনো বাধা নেই। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটা কোনো সমস্যা তৈরি করে না।

অনেকে ভাবেন এটা তাদের ক্যারিয়ারে বড় ধরনের বাধা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাজার হাজার প্রার্থী বিভিন্ন কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকেন। তাদের অনেকেই পরে সফল হয়েছেন। আপনিও পারবেন।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন

জীবনে সব সময় সব কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। হয়তো আপনি অসুস্থ ছিলেন, বা পারিবারিক কোনো জরুরি কাজ ছিল, বা অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। এটা নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করে লাভ নেই।

বরং এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে দেখুন। আপনি এখন আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেয়েছেন। যারা পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছেন, তাদের চেয়ে আপনি ভালো অবস্থানে আছেন। কারণ আপনার রেকর্ডে কোনো ফেল মার্ক নেই।

অনেক সফল শিক্ষক আছেন যারা প্রথমবার পরীক্ষা দিতে পারেননি বা ফেল করেছিলেন। কিন্তু তারা হাল ছাড়েননি। পরবর্তীতে ভালো ফলাফল করে এখন সম্মানজনক অবস্থানে আছেন। আপনিও সেই পথে এগোতে পারবেন।

যোগাযোগ রাখুন এবং তথ্য নিন

যদি আপনার মনে কোনো নির্দিষ্ক প্রশ্ন থাকে, সরাসরি NTRCA এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের হটলাইন নম্বর এবং ইমেইল ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। অনেক সময় আমরা গুজব বা ভুল তথ্য শুনে চিন্তিত হই। সরাসরি সোর্স থেকে তথ্য নিলে মন শান্ত থাকবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে NTRCA এর অফিস আছে। প্রয়োজনে সেখানে গিয়েও জানতে পারবেন। তবে যাওয়ার আগে ফোনে যোগাযোগ করে নিন কবে যাওয়া ভালো হবে।

সবশেষে বলবো, শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা খুব সুন্দর একটা লক্ষ্য। এই একটা অনুপস্থিতি আপনার স্বপ্ন শেষ করে দেয়নি, শুধু একটু পিছিয়ে দিয়েছে। সময়টা কাজে লাগান। আত্মবিশ্বাস রাখুন। আপনার প্রস্তুতি যত মজবুত হবে, পরবর্তী পরীক্ষায় সফলতার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

মনে রাখবেন, শিক্ষকতা শুধু একটা চাকরি নয়, এটা একটা সম্মানজনক পেশা। আপনি যদি সত্যিই এই পেশায় আসতে চান, তাহলে এই ছোট বাধা আপনাকে থামাতে পারবে না। পরবর্তী সার্কুলারের জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিন। সাফল্য আপনার হবেই।

বিষয় : পড়াশোনার টিপস