শবে বরাত: ভাগ্য রজনীর গভীর তাৎপর্য ও আমাদের করণীয়
— প্রিপারেশন
ছবি : সংগৃহিত
শবে বরাত ইসলামিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয় এই বিশেষ রজনী। ফারসি শব্দ "শবে বরাত" এর অর্থ হলো "মুক্তির রাত" বা "ভাগ্য রজনী"। মুসলিম বিশ্বে এই রাত পালনের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। তবে এর সঠিক তাৎপর্য ও পালনবিধি নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে ভুল ধারণা। এই আর্টিকেলে আমরা শবে বরাতের প্রকৃত মর্মার্থ, ইতিহাস এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করব।
শবে বরাতের ঐতিহাসিক পটভূমি
শবে বরাত মূলত আরবি "লাইলাতুল বারাআত" এর ফারসি রূপ। আরবিতে এই রাতকে বলা হয় "নিসফ শাবান" বা শাবান মাসের মধ্যরাত্রি। ইসলামের ইতিহাসে এই রাতের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন হাদিসে। তবে এর পালন পদ্ধতি বিভিন্ন ভূখণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
উপমহাদেশে মুঘল আমল থেকে শবে বরাত পালনের প্রচলন বৃদ্ধি পায়। ফারসি সংস্কৃতির প্রভাবে এই অঞ্চলে এই রাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন লোকাচার ও সাংস্কৃতিক উপাদান এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
কোরআনে শবে বরাতের উল্লেখ
সরাসরি শবে বরাত শব্দটি কোরআনে নেই। তবে সূরা দুখানের ৩-৪ নম্বর আয়াতে একটি বরকতময় রাতের কথা উল্লেখ আছে। অনেক তফসিরকারকদের মতে, এই আয়াতে বর্ণিত "মুবারক রজনী" হলো শাবান মাসের মধ্য রজনী। এই রাতে বান্দাদের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
আবার অনেক আলেমের মতে, এই আয়াতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উভয় মতের পণ্ডিতরাই এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার বিষয়ে একমত।
হাদিসের আলোকে শবে বরাত
হযরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের মধ্য রজনীতে সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।" এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে এই রাত ক্ষমা লাভের একটি বিশেষ সুযোগ।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে যে, নবীজি (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করতেন। তিনি বলতেন, এই রাতে বনু কালব গোত্রের ভেড়ার লোমের সংখ্যার চেয়েও বেশি লোককে ক্ষমা করা হয়।
তবে কিছু হাদিস বিশেষজ্ঞ এই হাদিসগুলোর সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেন, এই হাদিসগুলো দুর্বল এবং এর ভিত্তিতে বিশেষ কোনো আমল ফরজ করা যায় না। তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন, দুর্বল হাদিস দ্বারা ফজিলতের আমল প্রমাণিত হতে পারে।
শবে বরাতের প্রকৃত তাৎপর্য
শবে বরাত মূলত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার রাত। এই রাতের মূল শিক্ষা হলো নিজেকে পর্যালোচনা করা। বছরের বাকি সময় কীভাবে কাটবে, কী কী ভালো কাজ করা যায়, কী কী খারাপ অভ্যাস থেকে বিরত থাকা যায় - এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় এই রাত।
মানুষের সাথে যাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে, তাদের সাথে সম্পর্ক সুধরানোর একটি সুযোগ এই রাত। হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার - এসব মন্দ গুণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এই রাত একটি বিশেষ মুহূর্ত। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের ক্ষতি করা হয়েছে তাদের কাছেও ক্ষমা চাওয়া উচিত।
শবে বরাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন হওয়া। এই রাতে ভাগ্য নির্ধারিত হয় বলে যে বিশ্বাস, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন ক্ষণস্থায়ী। আগামী বছর আমরা বেঁচে থাকব কিনা তা আল্লাহই জানেন। এই চিন্তা মানুষকে বেশি বেশি নেক আমলের দিকে ধাবিত করে।
শবে বরাতে করণীয় ইবাদত
শবে বরাতের রাতে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট ইবাদত ফরজ বা সুন্নত নয়। তবে সাধারণভাবে যেসব নফল ইবাদত সবসময় করা যায়, সেগুলো এই রাতে করা উত্তম। নফল নামাজ পড়া এই রাতের একটি প্রধান আমল। দুই রাকাত, চার রাকাত বা যত বেশি সম্ভব নফল নামাজ পড়া যায়।
কোরআন তেলাওয়াত এই রাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অর্থসহ কোরআন পড়লে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন, সূরা মুলক, সূরা ওয়াকিয়া ইত্যাদি তেলাওয়াত করা ভালো।
দোয়া ও ইস্তিগফার এই রাতের মূল কাজ। নিজের, পরিবারের, আত্মীয়স্বজনের, সমাজের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত। বিশেষভাবে মৃত আত্মীয়স্বজনদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা সুন্নত।
জিকির এই রাতের আরেকটি ফজিলতপূর্ণ আমল। তাসবিহ, তাহলিল, দরুদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা যায়। "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", "আল্লাহু আকবর" - এগুলো বেশি বেশি পড়া উচিত।
সম্ভব হলে দান-সদকা করা এই রাতে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, এতিম-মিসকিনদের খাবার দেওয়া, মসজিদে দান করা - এসব কাজ করা যায়।
শবে বরাতের ভুল প্রচলন ও বিদআত
সময়ের সাথে সাথে শবে বরাত পালনে অনেক ভুল প্রথা ঢুকে গেছে। এই রাতে আতশবাজি ফোটানো, পটকা ফাটানো - এসব সম্পূর্ণ অনৈসলামিক। এতে শুধু অর্থের অপচয়ই হয় না, পরিবেশ দূষিত হয় এবং অনেকের কষ্টের কারণ হয়।
হালুয়া-রুটি তৈরি করে এটাকে বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করা ভুল। খাবার রান্না করে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা ভালো কাজ, কিন্তু এটা শবে বরাতের বিশেষ কোনো আমল নয়। যেকোনো দিন এই কাজ করলে সওয়াব পাওয়া যায়।
কবরে গিয়ে মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি দেওয়া - এসব কাজ ইসলামে নিষিদ্ধ। কবর জিয়ারত করা সুন্নত, কিন্তু সেখানে এসব করা বিদআত। কবরে শুধু দোয়া করা উচিত, অন্য কিছু নয়।
সারারাত মসজিদে বাতি জ্বালিয়ে রাখা, বিশেষ আলোকসজ্জা করা - এগুলো শবে বরাতের আমল নয়। মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলো রাখাই যথেষ্ট।
নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বা নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত নামাজ পড়াকে জরুরি মনে করা ভুল। শবে বরাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির নামাজ নেই। যেভাবে সাধারণ নফল নামাজ পড়া হয়, সেভাবেই এই রাতে নামাজ পড়তে হয়।
ইসলামি স্কলারদের মতামত
শবে বরাত নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অধিকাংশ আলেম এই রাতের বিশেষ ফজিলত স্বীকার করেন। তারা মনে করেন এই রাতে ইবাদত করা মুস্তাহাব।
তবে কিছু সমকালীন স্কলার মনে করেন, এই রাত পালনের বিষয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী হাদিস নেই। তাদের মতে, এই রাতকে বিশেষভাবে পালন করা জরুরি নয়। তবে সাধারণভাবে ইবাদত করা ভালো।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো আলেমই এই রাতে ইবাদত করাকে নিষিদ্ধ বলেননি। মতভেদ শুধু এটুকু যে এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের সাধ্যমতো ইবাদত করা উচিত।
শবে বরাত ও আধুনিক জীবন
আধুনিক যুগে ব্যস্ততার মধ্যে অনেকের পক্ষে সারারাত জেগে ইবাদত করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে রাতের কিছু অংশে ইবাদত করাই যথেষ্ট। মধ্যরাত থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত সময়টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
যারা চাকরি বা পড়াশোনার কারণে সারারাত জাগতে পারেন না, তারা এশার নামাজের পর কিছুক্ষণ ইবাদত করে ঘুমাতে পারেন। তারপর তাহাজ্জুদের সময় উঠে আবার ইবাদত করতে পারেন। গুণগত মান ইবাদতের পরিমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শবে বরাত নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়ায়। বিভিন্ন পোস্টে এমন অনেক কথা লেখা থাকে যার কোনো ইসলামিক ভিত্তি নেই। তাই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া জরুরি।
শবে বরাত ও পারিবারিক বন্ধন
এই রাত পরিবারের সবাই একসাথে ইবাদতের একটি সুন্দর সুযোগ। বাবা-মা সন্তানদের সাথে নিয়ে নামাজ পড়তে পারেন, কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। এতে পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি হয়।
ছোট বাচ্চাদের এই রাতের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলা উচিত। তাদের সাথে নিয়ে সহজ ভাষায় দোয়া করা যায়। এভাবে শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।
বয়স্ক আত্মীয়রা যারা একা থাকেন, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এই রাতের একটি ভালো কাজ। ফোন করে তাদের সাথে কথা বলা, প্রয়োজনে সাহায্য করা - এসব কাজে সওয়াব রয়েছে।
শবে বরাত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
শবে বরাত শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের রাত নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার রাতও। প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা, তাদের প্রয়োজনে সাহায্য করা - এসব এই রাতের শিক্ষা।
যারা গরিব ও অসহায়, তাদের পাশে দাঁড়ানো এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। খাবার বিতরণ করা, কাপড় দেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া - এসব কাজ করা যায়।
এলাকায় যদি কেউ অসুস্থ থাকে, তাদের দেখতে যাওয়া, তাদের জন্য দোয়া করা ভালো কাজ। মসজিদে যারা রাত জেগে ইবাদত করেন, তাদের জন্য পানি বা হালকা নাশতার ব্যবস্থা করা সওয়াবের কাজ।
শবে বরাত ও তওবা
এই রাত তওবার একটি বিশেষ সুযোগ। সারা বছর যেসব গুনাহ করা হয়েছে, সেগুলো থেকে ফিরে আসার সময় এই রাত। তওবা শুধু মুখে বলাই নয়, মন থেকে অনুতপ্ত হওয়া এবং আর সেই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
অন্যের হক নষ্ট করা হলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই হবে না। যার হক নষ্ট করা হয়েছে, তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার হক ফিরিয়ে দিতে হবে।
গিবত, চোগলখোরি, মিথ্যা কথা - এসব জবানের গুনাহ থেকে বিরত থাকার শপথ নেওয়া উচিত। হিংসা, অহংকার, লোভ - এসব মনের রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার দোয়া করা উচিত।
শবে বরাতের পরবর্তী জীবন
শবে বরাতের আসল সফলতা হলো এই রাতের পর জীবনে পরিবর্তন আনা। শুধু এক রাত ইবাদত করে আবার পুরনো জীবনে ফিরে গেলে লাভ কী? এই রাতের শিক্ষা পুরো বছর মেনে চলা উচিত।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করা, কোরআন তেলাওয়াত প্রতিদিন করা, দান-সদকার অভ্যাস করা - এসব লক্ষ্য স্থির করা উচিত। ছোট ছোট নেক আমল নিয়মিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
খারাপ অভ্যাস ছাড়ার জন্য কনক্রিট পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন যদি কেউ নামাজে অনিয়মিত হয়, তাহলে মোবাইলে নামাজের সময় এলার্ম দিয়ে রাখা যায়। ধূমপান বা অন্য কোনো খারাপ অভ্যাস থাকলে সেগুলো ত্যাগের পরিকল্পনা করা উচিত।
শবে বরাত বনাম শবে কদর
অনেকে শবে বরাত ও শবে কদর গুলিয়ে ফেলেন। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা রাত। শবে কদর রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতে হয়, যা কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। কোরআন অনুযায়ী লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
শবে বরাতের ফজিলত হাদিস থেকে পাওয়া, কিন্তু শবে কদরের ফজিলত সরাসরি কোরআনে বর্ণিত। তাই শবে কদরের গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে এর মানে এই নয় যে শবে বরাত গুরুত্বহীন।
দুটো রাতেই ইবাদত করা উচিত, কিন্তু শবে কদরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রমজানের শেষ দশকে প্রতি রাতই ইবাদত করা উচিত যাতে শবে কদর পাওয়া যায়।
উপসংহার
শবে বরাত একটি বরকতময় রাত যা আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিশেষ সুযোগ দেয়। এই রাতের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং জীবন পরিবর্তনের সংকল্প করা।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু এক রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে না। প্রকৃত তওবা, মানুষের হক আদায় এবং জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা জরুরি। শবে বরাত হোক আমাদের জীবন পরিবর্তনের একটি সূচনা বিন্দু।
এই রাতে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি কোনোটাই ঠিক নয়। মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত। নিজের সাধ্যমতো ইবাদত করা, বিদআত থেকে দূরে থাকা এবং এই রাতের শিক্ষা পুরো বছর মেনে চলার চেষ্টা করা - এটাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে শবে বরাতের প্রকৃত তাৎপর্য বুঝার এবং সঠিকভাবে এই রাত পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন!
