বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬

প্রিপারেশন

২ ঘণ্টা আগে

বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বন ও বনভূমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ, বনভূমির পরিমাণ হ্রাস রোধকল্পে এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে বিধানকল্পে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ প্রথমবারের মতো জারি করা হয় 'বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬'। এ অধ্যাদেশের কতিপয় বিষয়

বৃক্ষের তালিকা

অধ্যাদেশে দুইটি বৃক্ষের তালিকা থাকবে, যার একটিতে কর্তন নিষিদ্ধ গাছের প্রজাতির নাম উল্লেখ থাকবে; যা কোনোক্রমেই কর্তন করা যাবে না। অন্য আর একটি তালিকায় বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য প্রজাতির নাম উল্লেখ থাকবে। বৃক্ষের তালিকা সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করবে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন যে সকল বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণের ক্ষেত্রে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে না সেগুলো হলো- রোগাক্রান্ত বা মৃত বৃক্ষ ঝড়ে পড়া বৃক্ষ সড়ক যোগাযোগে বাধাসৃষ্টিকারী বৃক্ষ বজ্রপাত, অগ্নিকাণ্ড, ভারি বৃষ্টিপাত বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বৃক্ষ জননিরাপত্তা অর্থাৎ জীবন বা সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ বৃক্ষ।

অপরাধ ও দণ্ড

গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকায় বর্ণিত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক সময় সময় রক্ষিত বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করলে আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারবে এবং এইক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড হিসেবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করতে পারবে। কোনো ব্যক্তি অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় উল্লিখিত বৃক্ষ কর্তন করতে চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড় (Girth at Breast Height-GBH), কর্তনের কারণ ইত্যাদি উল্লেখ করে ফরম পূরণ করে আবেদন করবেন এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফরেস্টারের নিম্নে নন এমন কোনো কর্মকর্তা দ্বারা আবেদন যাচাই-বাছাই ও বৃক্ষ পরিদর্শনের পর আবেদনের বিষয়ে কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। বিধান লঙ্ঘনের জন্য আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারবে এবং এইক্ষেত্রে অতিরিক্ত দণ্ড হিসেবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারবে।

বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে বৃক্ষের ক্ষতিসাধন করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারবেন। যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা, কর্পোরেশন, অধিদপ্তর, বোর্ড, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (Local Authority) কর্তৃক এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধির অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বা কোনো বিধান লঙ্ঘিত হলে উক্ত অপরাধ বা লঙ্ঘনের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

উক্ত সংস্থার এমন প্রত্যেক পরিচালক, নির্বাহী ব্যবস্থাপক বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারি বা প্রতিনিধি, যে নামেই অভিহিত হোক, উক্ত অপরাধ সংঘটন বা বিধান লঙ্ঘন করেন বলে গণ্য হবে এবং এইরূপ অপরাধের জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারবেন।

অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন (Unclassed State Forest): ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ন্যস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সরকারি অথবা বন্দোবস্তকৃত এমন বনভূমি, যা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত বন, রক্ষিত বন, অর্জিত বন, অর্পিত বন বা অন্য কোনো বন হিসেবে গেজেটভুক্ত নয়।

জলাভূমি: এমন কোনো ভূমি যেখানে পানির উপরিতল ভূমিতলের সমান বা কাছাকাছি থাকে বা যা সময়ে সময়ে স্বল্প গভীরতায় নিমজ্জিত থাকে এবং যেখানে সাধারণত ভিজা মাটিতে জন্মায় এবং টিকে থাকে এমন উদ্ভিদাদি জন্মায়। এছাড়া ভাটার সময় সমুদ্রের পানির গভীরতা ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে এমন উপকূলীয় জোয়ার ভাটা সমৃদ্ধ এলাকাও অন্তর্ভুক্ত হবে।

বন: সরকার সময় সময় যে সকল ভূমি বা এলাকাকে বন হিসেবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যে ভূমি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন হিসেবে ব্যবস্থাপনার জন্য অধিগ্রহণ, হস্তান্তর বা ন্যস্ত করে বা যে ভূমি বন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং উপকূলীয় চরাঞ্চলের বনভূমি, প্রাকৃতিক বন, সৃজিত বন ও জলাভূমির বন (Swamp Forest) এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।

বিপদাপন্ন প্রজাতি (Threatened Species): কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যা IUCN Red List এ মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR), বিপন্ন (Endangered; EN) বা সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) হিসেবে বিবেচিত এবং যা বিলুপ্ত হবার হুমকির সম্মুখীন।

অবক্ষয়িত বন: বৃক্ষাচ্ছাদন শূন্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারানো বনভূমিকে বোঝাবে।

বিষয় : বাংলাদেশ বিষয়াবলী