নতুন তিন নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
— প্রিপারেশন
৯ অক্টোবর ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করা হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর ২০২৫ এগুলোর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সর্বশেষ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ প্রজ্ঞাপন জারি করে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় ১৩ জানুয়ারি ২০২৬।
নগরায়ণ
'নগরায়ণ' শব্দটি সমাজবিজ্ঞানের আলোচিত -বিষয় সমূহের মধ্যে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ প্রত্যয়। নগর শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Urban, ল্যাটিন শব্দ Orbis এবং গ্রিক শব্দ Gorod হতে উদ্ভূত ১৬০৯ সালে Pope সর্বপ্রথম Urban শব্দটি ব্যবহার করেন। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন রকম কাজের সন্ধানে ও উন্নত জীবনযাত্রার লক্ষ্যে শহরমুখী হলে শহরের পরিসর বৃদ্ধি পায়। বর্ধিত এ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন উন্নত জীবনযাত্রা। নাগরিক জীবন ব্যবস্থায় এ ধরনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পরিকল্পিত নগরায়ণ করা হয়। পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য প্রয়োজন হয় শহরকেন্দ্রীক একটি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
নগর পরিকল্পনা
নগর পরিকল্পনা বলতে বোঝায় একটি কারিগরী প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার এবং নাগরিক পরিবেশের নকশা প্রণয়ন করা হয়। নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে মানব বসতির সঠিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশে নগর উন্নয়ন সংস্থা
১৯৫৩ সালে প্রণীত The Town Improvement Act, ১৯৫৩ আইনের আওতায় ১৯৫৬ সালে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের উন্নয়ন ও পরিবর্ধনের বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে সর্ব প্রথম Dhaka Improvement Trust (DIT) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে DIT কর্তৃক সর্ব প্রথম ঢাকার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। এই প্ল্যানের আওতায় প্রাথমিকভবে ২২০ বর্গমাইল এলাকা অন্তর্ভূক্ত ছিল যা পরবর্তীতে ৩২০ বর্গমাইলে উন্নীত করা হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত তৎকালীন DIT পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে উক্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক হিসেবে পরিবর্তিত হয়। ১৯৮৭ সালে রাজউকের অধিক্ষেত্র সাভার, কেরাণীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও অন্যান্য এলাকায় ৫৯০ বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত হয়। ১৯৯৫ সালে Dhaka Metropolitan Development Plan (DMDP)-এর আওতায় ৫৯০ বর্গমাইল এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ২০১০ সালে Detail Area Plan (DAP) প্রনয়ন করা হয়। দেশে বর্তমানে ১০টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রয়েছে।
বাংলাদেশে নগরায়ন
আধুনিক সভ্যতার প্রধানতম অনুষঙ্গ হচ্ছে নগরায়ণ। দেশে নগরায়নের বৃদ্ধির জন্যে ষাটের দশকের শুরুতে চারটি বিভাগীয় শহরে বিদেশি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হয়। ১৯৫৯ সালে ঢাকা, ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম, ১৯৬৬ সালে খুলনা এবং ১৯৮৪ সালে রাজশাহী শহরের জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। আশির দশকে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশের ৫০টি জেলা ও ৩৯২টি উপজেলা শহরের ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত লোকবল না থাকায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে শুরু হয় নতুন প্রজন্মের নগর পরিকল্পনা। এ দশকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের বিভাগীয় শহরগুলোয় শহরের কাঠামো পরিকল্পনা ও বিশদ এলাকা পরিকল্পনা নামে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট-নগর পরিকল্পনা করতে শুরু করে।
বৈশ্বিক ইতিহাস
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু এবং প্রাচীন মিসর এই তিনটি সভ্যতারই নগর পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৮ম শতাব্দীর শেষের দিকে গ্রিক নগর-রাজ্যগুলো ভূমধ্যসাগরের উপকূলে উপনিবেশ স্থাপন করতে শুরু করে, যার মাধ্যমে নির্মিত হয় শহর। এ নগর রাষ্ট্র বা শহরগুলো মূলত অর্ধগোনাল (বা গ্রিড-সদৃশ) পরিকল্পনা ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়। গ্রিক দার্শনিক হিপোডামাসকে প্রথম নগর পরিকল্পনাকারী এবং অর্থোগোনাল নগর বিন্যাসের 'উদ্ভাবক' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দেশে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | |
|---|---|
নাম | প্রতিষ্ঠা |
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১৯৫৬ সালে |
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১৯৫৯ সালে |
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ২১ জানুয়ারি ১৯৬১ |
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১৯ অক্টোবর ১৯৭৬ |
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১৭ আগস্ট ২০১৬ |
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ |
মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১ আগস্ট ২০২৫ |
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ |
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ |
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ |
