- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২৯.১০.২০১৬ (মুক্তিযোদ্ধা কোটা)
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৬
- সাধারণ জ্ঞান
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কি?
মহাস্থানগড় শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির প্রাচীন নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো এই নগরী বাংলার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী।
পুণ্ড্রবর্ধন নামের উৎপত্ত
"পুণ্ড্র" ছিল প্রাচীন বাংলার উত্তরাঞ্চলের একটি জনপদের নাম। মহাভারত এবং অন্যান্য প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে পুণ্ড্র জাতির উল্লেখ পাওয়া যায়। "বর্ধন" শব্দের অর্থ সমৃদ্ধি বা উন্নতি। সুতরাং পুণ্ড্রবর্ধন অর্থ দাঁড়ায় "পুণ্ড্র অঞ্চলের সমৃদ্ধশালী নগর"। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে এই নগরীর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
পুণ্ড্রবর্ধন প্রাচীনকালে বঙ্গ অঞ্চলের রাজধানী এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। মৌর্য সম্রাট অশোকের শাসনামলে (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮-২৩২) এটি মৌর্য সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ ছিল। পরবর্তীতে গুপ্ত যুগে (৩২০-৫৫০ খ্রিস্টাব্দ) এই অঞ্চল "পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি" নামে পরিচিত ছিল, যা একটি প্রশাসনিক বিভাগ ছিল।
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৯-৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চল ভ্রমণ করেন এবং তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে "পু-না-ফা-তান-না" নামে এর উল্লেখ করেন, যা পুণ্ড্রবর্ধনেরই চীনা উচ্চারণ। তিনি লিখেছেন যে এখানে বিশাল দুর্গ, বৌদ্ধ বিহার এবং হিন্দু মন্দির ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার
মহাস্থানগড়ে ১৯২৮-২৯ সালে প্রথম পরিকল্পিত খনন কাজ শুরু হয়। এখানে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি, যা খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের। এটি বাংলাদেশে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত দলিল। শিলালিপিতে খাদ্য সংকটের সময় জনগণের মধ্যে খাদ্য বিতরণের নির্দেশনা লেখা আছে, যা প্রমাণ করে যে এখানে একটি সুসংগঠিত প্রশাসন ছিল।
খননে আরও পাওয়া গেছে প্রাচীন নগর দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, রাস্তা, ভবন, মন্দির, বিহার, পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, এবং বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রী। এসব থেকে বোঝা যায় এটি একসময় অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং জনবহুল নগরী ছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
সুবর্নগ্রাম: এটি ছিল বর্তমান ঢাকা জেলার মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের প্রাচীন নাম। বিশেষত বিক্রমপুর পরগণা সুবর্নগ্রাম নামে পরিচিত ছিল। সেন বংশের রাজারা এখানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর এই অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন।
চন্দ্রদ্বীপ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ বা বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ। মধ্যযুগে এখানে স্বাধীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। অসংখ্য নদী-খাল দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় এটি "দ্বীপ" নামে পরিচিত ছিল।
সিংহজানী: এটি কুমিল্লা অঞ্চলের একটি প্রাচীন স্থানের নাম। তবে এটি মহাস্থানগড়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। কুমিল্লার প্রাচীন নাম ছিল লালমাই-ময়নামতি।
বর্তমান মহাস্থানগড়
আজকের মহাস্থানগড় একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। প্রায় ৪০০ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত এই এলাকায় রয়েছে প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ। স্থানীয়ভাবে এখানে পরশুরাম প্রাসাদ, গোবিন্দ ভিটা, বৈরাগীর ভিটা, মুনির ঘোন, শীলাদেবীর ঘাট সহ বেশ কয়েকটি প্রাচীন স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মহাস্থানগড় জাদুঘরে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নসামগ্রী সংরক্ষিত আছে। এখানে দেখা যায় বিভিন্ন যুগের মূর্তি, মুদ্রা, শিলালিপি, অলংকার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী।
পরীক্ষায় আসার সম্ভাবনা
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মহাস্থানগড় সম্পর্কিত প্রশ্ন নিয়মিত আসে। বিশেষভাবে মনে রাখবেন: মহাস্থানগড় = পুণ্ড্রবর্ধন = বগুড়া = বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

