- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
উপসর্গের কাজ কী?
উপসর্গ বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শব্দ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উপসর্গের প্রধান এবং মূল কাজ হলো নতুন শব্দ গঠন করা। একটি মূল শব্দের আগে উপসর্গ যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়, যদিও এই প্রক্রিয়ায় মূল শব্দের অর্থেরও পরিবর্তন ঘটে।
উপসর্গ কী
উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয় বা অক্ষর যা শব্দের শুরুতে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে এবং মূল শব্দের অর্থের সংকোচন, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তন ঘটায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। এটি স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, সবসময় অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়।
উপসর্গের প্রকারভেদ
বাংলা ভাষায় তিন ধরনের উপসর্গ রয়েছে:
১. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: মোট ২০টি। যেমন - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, প্রতি, উৎ, পরি ইত্যাদি।
২. বাংলা বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ: মোট ২১টি। যেমন - অ, আ, সু, নি, অনা, অঘা, অজ, আড়, আন, আব ইত্যাদি।
৩. বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি উপসর্গ। যেমন - কম, বে, না, লা, গর, বদ, হা, সাব, হেড ইত্যাদি।
নতুন শব্দ গঠনের উদাহরণ
উপসর্গ যুক্ত হয়ে কীভাবে নতুন শব্দ তৈরি হয় তার কিছু স্পষ্ট উদাহরণ:
প্র উপসর্গ দিয়ে:
- হার → প্রহার (আঘাত করা)
- চলন → প্রচলন (চালু থাকা)
- গতি → প্রগতি (সামনে এগিয়ে যাওয়া)
- কাশ → প্রকাশ (প্রকট হওয়া)
পরা উপসর্গ দিয়ে:
- জয় → পরাজয় (হেরে যাওয়া)
- মুখ → পরামুখ (বিমুখ)
অপ উপসর্গ দিয়ে:
- যশ → অপযশ (দুর্নাম)
- মান → অপমান (অসম্মান)
- কর্ম → অপকর্ম (খারাপ কাজ)
নি উপসর্গ দিয়ে:
- বারণ → নিবারণ (দূর করা)
- রোধ → নিরোধ (বন্ধ করা)
বাংলা উপসর্গের উদাহরণ:
- কাজ → অকাজ (বেকার কাজ)
- চেনা → অচেনা (অপরিচিত)
- মরা → আমরা (প্রায় মৃত)
- গরম → সুগরম (খুব গরম)
বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ:
- আক়ল → বেআক়ল (বুদ্ধিহীন)
- ইনসাফ → বেইনসাফ (অন্যায়কারী)
- হাজির → গরহাজির (অনুপস্থিত)
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
অর্থ পরিবর্তন: এটি উপসর্গের একটি ফলাফল বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাত্র, মূল কাজ নয়। উপসর্গ যুক্ত হলে অর্থ পরিবর্তন হয় ঠিকই, কিন্তু এটি করা হয় নতুন শব্দ তৈরির উদ্দেশ্যে। যেমন "হার" শব্দের সাথে "প্র" যুক্ত হয়ে "প্রহার" নামে একটি নতুন শব্দ সৃষ্টি হয়েছে, যার অর্থও ভিন্ন।
ভাবের পার্থক্য নিরূপণ: এটিও উপসর্গের কাজের একটি দিক, তবে মূল কাজ নয়। ভাব পরিবর্তন হয় নতুন শব্দ গঠনের মাধ্যমেই। উপসর্গ স্বাধীনভাবে ভাবের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে না।
বর্ণ সংস্করণ: এটি সম্পূর্ণ ভুল। বর্ণ সংস্করণের সাথে উপসর্গের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্ণ সংস্করণ বলতে বোঝায় বর্ণের রূপ বা উচ্চারণের পরিবর্তন, যা ধ্বনিতত্ত্বের বিষয়।
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য
উপসর্গ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখা দরকার:
১. নিজস্ব অর্থহীন: উপসর্গের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ নেই। যেমন "প্র" বা "পরা" এককভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
২. সর্বদা শব্দের আগে বসে: উপসর্গ সবসময় মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়, পরে নয়। যা শব্দের পরে যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়।
৩. একাধিক উপসর্গ: একই শব্দে কখনো কখনো একাধিক উপসর্গ যুক্ত হতে পারে। যেমন - "প্রত্যাগমন" (প্রতি + আ + গমন)।
৪. অর্থের বৈচিত্র্য: একই উপসর্গ বিভিন্ন শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন রকম অর্থ সৃষ্টি করতে পারে। যেমন "নি" উপসর্গ - নিবারণ (দূর করা), নিমজ্জন (ডুবে যাওয়া), নিরোধ (বন্ধ করা)।
পরীক্ষায় আসার ধরন
বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় উপসর্গ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন আসে:
- উপসর্গের সংখ্যা (বাংলা ২১টি, সংস্কৃত ২০টি)
- কোন উপসর্গ কোন ভাষার
- উপসর্গযুক্ত শব্দ চিনতে বলা
- উপসর্গ আলাদা করতে বলা
- উপসর্গের কাজ কী - এই ধরনের প্রশ্ন
মনে রাখার কৌশল
উপসর্গের মূল কাজ মনে রাখার সহজ উপায়: "উপ-সর্গ মানে যা উপরে সরে যায়" - অর্থাৎ মূল শব্দের উপরে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে। আর প্রশ্নে যদি উপসর্গের কাজ জিজ্ঞাসা করা হয়, সবসময় মনে রাখবেন মূল কাজ হলো নতুন শব্দ গঠন। অর্থ পরিবর্তন বা ভাব পরিবর্তন হলো এই শব্দ গঠনের ফলাফল মাত্র।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
কিছু কিছু বই বা উৎসে উপসর্গের কাজ হিসেবে "নতুন শব্দ গঠন ও অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন সাধন" - এভাবে লেখা থাকে। তবে প্রশ্নে যখন একটি মাত্র সঠিক উত্তর বেছে নিতে হয়, তখন "নতুন শব্দ গঠন"ই প্রধান এবং মূল কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ অর্থ পরিবর্তন ঘটে শব্দ গঠনের মাধ্যমেই, এটি পৃথক কোনো কাজ নয়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
গুণহীনে ত্যাগ কর। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

