- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৬.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
সন্ধি হলো ধ্বনিতত্ত্বের (Phonology) একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ব্যাকরণের যে শাখায় ধ্বনির পরিবর্তন, সংযোগ এবং উচ্চারণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন আলোচনা করা হয়, তাকে ধ্বনিতত্ত্ব বলে। সন্ধি মূলত দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, তার বিধিবদ্ধ রূপ।
সন্ধি কী?
সন্ধি শব্দের অর্থ হলো "মিলন" বা "সংযোগ"। দুটি শব্দ বা পদের মিলনের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করে, তখন তাকে সন্ধি বলে। এই পরিবর্তন ঘটে উচ্চারণের সুবিধার জন্য এবং ভাষার সাবলীলতা রক্ষার জন্য।
উদাহরণ:
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
- সম্ + তোষ = সন্তোষ
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
- পর + উপকার = পরোপকার
এই উদাহরণগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দুটি শব্দের শেষ এবং প্রথম ধ্বনি মিলিত হয়ে নতুন ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বনিগত পরিবর্তন।
সন্ধির প্রকারভেদ
বাংলা ভাষায় সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার:
১. স্বরসন্ধি: দুটি স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়। যেমন: বিদ্যা + অর্জন = বিদ্যার্জন, মহা + উৎসব = মহোৎসব।
২. ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির বা দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়। যেমন: সৎ + জন = সজ্জন, তৎ + কাল = তৎকাল।
৩. বিসর্গসন্ধি: বিসর্গ (ঃ) এর সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়। যেমন: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + খ = দুঃখ।
এই তিন ধরনের সন্ধিই মূলত ধ্বনির পরিবর্তন ও মিলন নিয়ে কাজ করে, যা ধ্বনিতত্ত্বের মূল বিষয়।
ধ্বনিতত্ত্ব কী?
ধ্বনিতত্ত্ব বা Phonology হলো ব্যাকরণের সেই শাখা যেখানে ভাষার ধ্বনি, তার উচ্চারণ পদ্ধতি, ধ্বনির পরিবর্তন, ধ্বনির সংযোগ বিচ্ছেদ এবং ধ্বনিগত নিয়ম-কানুন আলোচনা করা হয়। বাংলা ভাষায় ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
- বর্ণ ও ধ্বনি: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
- সন্ধি: ধ্বনি মিলনের নিয়ম
- সমাস: শব্দ সংযোগের ধরন
- ণত্ব ও ষত্ব বিধান: বিশেষ ধ্বনি ব্যবহারের নিয়ম
- উচ্চারণ পদ্ধতি: কণ্ঠ, তালু, দন্ত ইত্যাদি স্থান থেকে ধ্বনি উৎপাদন
সন্ধি এই ধ্বনিতত্ত্বের একটি প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
বাক্য প্রকরণ (Syntax): এটি ব্যাকরণের যে শাখায় বাক্যের গঠন, বাক্যের প্রকারভেদ, বাক্যের উপাদান (কর্তা, কর্ম, ক্রিয়া), বাক্যের রূপান্তর ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। উদাহরণ: সরল বাক্য, জটিল বাক্য, যৌগিক বাক্য। সন্ধি বাক্যের গঠন নিয়ে কাজ করে না, তাই এটি ভুল উত্তর।
রূপতত্ত্ব (Morphology): এটি ব্যাকরণের যে শাখায় শব্দের গঠন, শব্দের রূপ, পদ প্রকরণ, লিঙ্গ, বচন, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, প্রত্যয় ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। রূপতত্ত্ব শব্দের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়ে কাজ করে। যদিও সন্ধির ফলে নতুন শব্দরূপ তৈরি হয়, কিন্তু সন্ধির মূল বিষয় হলো ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দরূপ নয়। তাই এটিও সঠিক উত্তর নয়।
পদক্রম (Word Order): এটি বাক্যে শব্দ বা পদের সাজানোর ক্রম নিয়ে আলোচনা করে। বাংলা ভাষায় সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া এই ক্রম অনুসরণ করা হয়। পদক্রম বাক্যতত্ত্বের অংশ। সন্ধি ধ্বনির মিলন নিয়ে কাজ করে, পদের ক্রম নিয়ে নয়।
সন্ধি কেন ধ্বনিতত্ত্বের বিষয়?
সন্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণের সুবিধা এবং ধ্বনিগত সাবলীলতা রক্ষা করা। যখন দুটি শব্দ পাশাপাশি উচ্চারিত হয়, তখন মুখের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক প্রবণতায় ধ্বনিগুলো পরস্পরের সাথে মিশে যায় বা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে উচ্চারণ ও ধ্বনি সংক্রান্ত, যা ধ্বনিতত্ত্বের মূল বিষয়।
উদাহরণ দিয়ে বুঝি: "হিম + আলয়" শব্দ দুটি আলাদাভাবে উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য। তাই স্বাভাবিকভাবে এটি "হিমালয়" হয়ে যায়। এখানে "ম" এর পরে "আ" আসায় উচ্চারণ সহজ হওয়ার জন্য স্বরসন্ধি ঘটেছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ধ্বনিগত।
পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিকতা
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যাকরণের বিভিন্ন শাখা এবং তাদের আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আসে। মনে রাখবেন:
- ধ্বনিতত্ত্ব: সন্ধি, ণত্ব-ষত্ব বিধান, বর্ণ ও ধ্বনি
- রূপতত্ত্ব: পদ প্রকরণ, কারক, বিভক্তি, সমাস, উপসর্গ-প্রত্যয়
- বাক্যতত্ত্ব: বাক্যের প্রকারভেদ, বাক্য গঠন, পদক্রম
- অর্থতত্ত্ব: শব্দার্থ, প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ
সন্ধি যেহেতু দুটি ধ্বনির মিলন এবং পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে, তাই এটি নিঃসন্দেহে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

