- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৬.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
'পঞ্চম স্বর'-এর অর্থ কী?
বাংলা সাহিত্যে 'পঞ্চম স্বর' একটি বিশেষ অলংকারিক শব্দ যার অর্থ কোকিলের সুরলহরী বা কোকিলের কণ্ঠস্বর। এই শব্দটি মূলত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারণা থেকে এসেছে এবং বাংলা কাব্যে কোকিলের মধুর সুরকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সংস্কৃত উৎসের শব্দ যা বাংলা ভাষায় বিশেষ অর্থে প্রচলিত হয়েছে।
পঞ্চম স্বরের উৎপত্তি ও ব্যাখ্যা
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে সাতটি মূল স্বর আছে যা সপ্তস্বর নামে পরিচিত: সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি। এদের মধ্যে পঞ্চম স্বর হলো 'পা' বা পঞ্চম। এই স্বরটি অত্যন্ত মধুর এবং সুরেলা বলে বিবেচিত হয়।
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য এবং কাব্যশাস্ত্র অনুযায়ী, কোকিল পাখি তার কণ্ঠে বিশেষভাবে পঞ্চম স্বর অর্থাৎ 'পা' স্বরে ডাকে। এই কারণে কোকিলকে 'পঞ্চম প্রিয়' বা 'পঞ্চমস্বর-প্রিয়' বলা হয়। সংস্কৃত এবং বাংলা কাব্যে কোকিলের কণ্ঠস্বরকে 'পঞ্চম স্বর' বলে অভিহিত করা হয়েছে।
কালিদাসের 'মেঘদূত' কাব্যে কোকিলের এই বিশেষত্বের উল্লেখ আছে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম সহ অনেক কবি তাদের কবিতায় এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
বাংলা সাহিত্যে ব্যবহার
বাংলা কাব্যে 'পঞ্চম স্বর' শব্দটি বসন্তকাল, প্রেম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মাধুর্য প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। কোকিল বসন্তের বার্তাবাহক হিসেবে পরিচিত এবং তার মিষ্টি সুরেলা কণ্ঠস্বর প্রেম ও বিরহের প্রতীক।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর একটি কবিতায় লিখেছেন:"কোকিল-কণ্ঠে গাহে পঞ্চম-স্বরে বসন্তের গান"
এখানে পঞ্চম স্বর বলতে স্পষ্টভাবে কোকিলের মধুর সুরকে বোঝানো হয়েছে।
সাংগীতিক ব্যাখ্যা
সংগীতশাস্ত্র অনুযায়ী, পঞ্চম স্বর ('পা') রাগ-রাগিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বর। এটি স্থায়ী এবং মধুর একটি স্বর যা শ্রোতাদের মনে প্রশান্তি এবং আনন্দের সৃষ্টি করে। প্রকৃতিতে কোকিল পাখি যখন ডাকে, তার কণ্ঠস্বর এই পঞ্চম স্বরের কাছাকাছি শোনায়, যা অত্যন্ত মিষ্টি এবং কর্ণমধুর।
বৈজ্ঞানিকভাবে, কোকিলের (Cuckoo) ডাক একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দ যা মানুষের কানে অত্যন্ত সুরেলা এবং আনন্দদায়ক লাগে। প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতরা এই শব্দের সাথে সংগীতের পঞ্চম স্বরের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
পল্লব: এই শব্দটির অর্থ গাছের কচি পাতা বা নতুন পাতা। বসন্তকালে গাছে নতুন পাতা গজায় যাকে পল্লব বলে। এটি 'পঞ্চম স্বর'-এর সাথে সম্পর্কিত নয়, যদিও উভয়ই বসন্ত ঋতুর সাথে যুক্ত।
পায়ের পাতা: এটি শরীরের একটি অংশ যার সাথে 'পঞ্চম স্বর'-এর কোনো সম্পর্ক নেই। এই অপশনটি সম্পূর্ণভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
দেবতার আরাধনা: আরাধনা মানে পূজা বা উপাসনা। এটি ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ বোঝায়। 'পঞ্চম স্বর' শব্দটি সংগীত এবং প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত, দেবতার আরাধনার সাথে নয়।
সাহিত্যে কোকিলের প্রতীকী ব্যবহার
বাংলা সাহিত্যে কোকিল শুধু একটি পাখি নয়, এটি বিভিন্ন প্রতীকী অর্থ বহন করে:
১. বসন্তের বার্তাবাহক: কোকিল যখন ডাকা শুরু করে, তখন বোঝা যায় বসন্তকাল এসেছে।
২. প্রেমের প্রতীক: কোকিলের মধুর সুর প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে প্রেমের আবেগ জাগায়।
৩. বিরহের প্রকাশ: বিরহী হৃদয়ে কোকিলের ডাক আরও বেদনা সৃষ্টি করে।
৪. স্বাধীনতার প্রতীক: নজরুল ইসলামের কবিতায় কোকিল স্বাধীনতা এবং বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ
'পঞ্চম স্বর' একটি সমাস নিষ্পন্ন শব্দ। এখানে:
- পঞ্চম = পাঁচ সংখ্যার (অর্থাৎ সপ্তস্বরের পঞ্চম)
- স্বর = কণ্ঠধ্বনি বা সুর
শব্দটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। সাহিত্যে এটি রূপক অর্থে কোকিলের কণ্ঠস্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
পরীক্ষায় গুরুত্ব
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্য এবং ব্যাকরণ অংশে এই ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে। বিশেষত যে প্রশ্নগুলো সাহিত্যিক শব্দ, অলংকার, বা বিশেষ প্রতীকী অর্থ নিয়ে হয়, সেখানে 'পঞ্চম স্বর' একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক।
মনে রাখার কৌশল
সহজ ফর্মুলা: পঞ্চম (পাঁচ) + স্বর = কোকিলের সুর
মনে রাখুন: কোকিল তার গলায় সংগীতের পঞ্চম স্বর 'পা' ব্যবহার করে ডাকে, তাই কোকিলের ডাককে 'পঞ্চম স্বর' বলা হয়। বসন্তকাল এলেই কোকিল ডাকে, তাই বসন্ত আর কোকিলের পঞ্চম স্বর একসাথে মনে রাখতে পারেন।
এই প্রশ্নটি মূলত আপনার সাহিত্যিক জ্ঞান এবং শব্দার্থ বোঝার ক্ষমতা যাচাই করে। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় শুধু মুখস্থ জ্ঞান নয়, শব্দের গভীর অর্থ এবং প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
'বিকৃত' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর-
বি + কৃত
বি + কৃ + ত

