- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন এক্সামিনার পদের প্রশ্ন সমাধান [২৪.০১.২০২৬]
- বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬
- বাংলা
শিশ ধ্বনি ও উষ্ম ধ্বনির মধ্যে পার্থক্য কী?
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী শিশ ধ্বনি ও উষ্ম ধ্বনির বিষয়টি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আপনার দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক উত্তরটি হলো বাতাসের চাপ। নিচে বিষয়টি সহজভাবে বুঝিয়ে বলছি।
উষ্ম শব্দের অর্থ হলো গরম বা শ্বাস। যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাসকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারি, সেগুলোকে উষ্ম ধ্বনি বলা হয়। বাংলা বর্ণমালায় শ, ষ, স এবং হ হলো উষ্ম ধ্বনি। এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের বাতাস ঘর্ষণ পায় এবং একটি উষ্ণ বা গরম ভাব তৈরি হয়। এর মধ্যে আবার শ, ষ এবং স উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে বাতাসের একটি তীব্র প্রবাহ বের হয় যা শুনতে অনেকটা সাপের ফোঁসফাঁস বা শিস দেওয়ার মতো শোনায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই শ, ষ এবং স বর্ণ তিনটিকে শিশ ধ্বনি বলা হয়।
পার্থক্য করার মূল জায়গাটি হলো বাতাসের চাপের তীব্রতা এবং শব্দের প্রকৃতি। সব শিশ ধ্বনিই মূলত উষ্ম ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সব উষ্ম ধ্বনি শিশ ধ্বনি নয়। যেমন, 'হ' একটি উষ্ম ধ্বনি হলেও এটি উচ্চারণে কোনো শিস দেওয়ার মতো শব্দ তৈরি হয় না। 'হ' উচ্চারণের সময় কণ্ঠনালিতে বাতাসের প্রবল চাপের ফলে ঘর্ষণ তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু তাতে শিস দেওয়ার মতো তীক্ষ্ণতা থাকে না। অন্যদিকে শ, ষ বা স উচ্চারণের সময় জিহ্বা দন্তমূল বা তালুর খুব কাছে চলে আসে এবং একটি সরু পথ তৈরি করে। এই সরু পথ দিয়ে বাতাস যখন সজোরে বের হয়, তখন বাতাসের চাপের তারতম্যের কারণে সেই বিশেষ শিস ধ্বনিটি তৈরি হয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, উষ্ম ধ্বনি একটি বড় শ্রেণি যার মধ্যে শিস দেওয়ার মতো গুণ থাকা এবং না থাকা উভয় ধরনের বর্ণই রয়েছে। বাতাসের এই চাপের প্রভাব এবং বহির্গমন কৌশলের কারণেই আমরা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

