- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- যৌবনের গান [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ হয় ন্যায়-অন্যায় নিয়ে। অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যৌবন ক্ষিপ্ত সিংহের বিক্রমে রণক্ষেত্রে ছুটে যায়। প্রচণ্ড উল্লাস তার হূৎপিন্ডের রক্তে তরক্তিগত হতে থাকে। এই রক্তের উল্লাস, যৌবনের এই মরণ-ক্ষুধা মানুষের জীবনে এক পরম স্বর্গীয় দান। মানুষ কি চিরদিনই বেঁচে থাকে? কত যৌবন অকালে জীবনের সাধ-আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হতেই ব্যাধি, পীড়ায়, দুর্ঘটনায় কোথায় চলে যায়। এর চেয়ে মানব হিতে, সত্য প্রতিষ্ঠায়, ন্যায়-যুদ্ধে গৌরবে মৃত্যুবরণ করাই তো ভালো। যারা মৃত্যুকে ভয় করে তারাই হয়তো বেশি মরে।
'যারা মৃত্যুকে ভয় করে তারাই হয়তো বেশি মরে।'- উক্তিটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের তারুণ্য ও বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্যকে নিরূপিত করে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক বয়সের নিরিখে তারুণ্য বা বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্যকে নিরূপণ করেন নি। মানসিকতা ও কর্মকাণ্ডের নিরিখেই তিনি যৌবন ও বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করেছেন। তাঁর মতে, তরুণ তারাই যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার মতো, তেজ সূর্যের মতো, বিপুল যার আশা, ক্লান্তিহীন যার উৎসাহ, বিরাট যার ঔদার্য, অফুরন্ত যার প্রাণ, অটল যার সাধনা, মৃত্যু যার মুঠিতলে, এসব দুরন্ত-দুর্বার বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ পায় তরুণদের মাঝে। আর বার্ধক্য তারাই যারা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়ে পড়ে থাকে। উদ্দীপকে তারুণ্যের দুর্বার মনোভাবের প্রশংসা করা হয়েছে। যুদ্ধ হয় ন্যায়-অন্যায় নিয়ে। অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যৌবন ক্ষিপ্ত সিংহের বিক্রমে রণক্ষেত্রে ছুটে যায়। প্রচণ্ড উল্লাস তার বৃৎপিণ্ডের রক্তে তরঙ্গিত হতে থাকে। এই রস্তের উল্লাস, যৌবনের এই মরণ-ক্ষুধা মানুষের জীবনে এক পরম স্বগীয় দান। পাশাপাশি ভীরুদের কথাও বলা হয়েছে। যারা মৃত্যুর আগেই বহুবার মরে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক বলেছেন, বয়সের আধিক্যকে বার্ধক্য না বলে কতকগুলো লক্ষণের মাধ্যমে বার্ধক্যকে চিহ্নিত করা যায়। যার গতানুগতিক ভাবধারাকে, জরাজীর্ণ পুরাতনকে ও কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরে দিনাতিপাত করে তারাই বৃদ্ধ। নতুন প্রভাতের আলো এদের কাম্য নয়। এরা বারবার মরে বলে উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বক্তব্য 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্যকেই সমর্থন করে।
উত্তরের সারবস্তু: যারা গতানুগতিক ভাবধারাকে, জরাজীর্ণ পুরাতনকে ও কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরে, থাকে তারাই বৃদ্ধ, তারাই ভীরু। আর ভীরুরা মৃত্যুর আগেই বারবার মরে।

