- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ভাষা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
কোন ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়?
সাধু ও চলিত রীতির মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য পার্থক্য হলো সর্বনাম এবং ক্রিয়াপদের রূপভেদ। সাধু রীতিতে এই পদগুলোর পূর্ণ বা দীর্ঘ রূপ ব্যবহৃত হয়, যা ভাষাকে ভারী ও আনুষ্ঠানিক করে তোলে।
সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ:
সাধু রীতিতে সর্বনামের দীর্ঘ রূপ ব্যবহার করা হয়:
- সাধু: তাহারা, তাহাদের, যাহারা, তাহাকে
- চলিত: তারা, তাদের, যারা, তাকে
- সাধু: এইরূপ, সেইরূপ, কাহার
- চলিত: এরকম, সেরকম, কার
ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ:
সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদে প্রত্যয় পূর্ণ আকারে যুক্ত হয়:
- সাধু: করিতেছি, করিয়াছিলাম, করিব, করিতে পারি
- চলিত: করছি, করেছিলাম, করব, করতে পারি
- সাধু: যাইতেছেন, খাইয়াছিলেন, বলিবেন
- চলিত: যাচ্ছেন, খেয়েছিলেন, বলবেন
কেন সাধু রীতিতে পূর্ণরূপ:
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের সূচনাকালে পণ্ডিতরা সংস্কৃত ব্যাকরণের আদলে বাংলা রীতি তৈরি করেন। সংস্কৃতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণ রূপ থাকে, তাই বাংলা সাধু রীতিতেও এই ঐতিহ্য রক্ষা করা হয়। ফলে সাধু রীতি দেখতে গম্ভীর ও পরিপূর্ণ মনে হয়, কিন্তু উচ্চারণে কষ্টকর ও অস্বাভাবিক।
তুলনামূলক উদাহরণ:
সাধু রীতি: "তিনি বলিলেন যে, তাহারা আগামীকল্য তাহাদের বাড়িতে আসিবেন এবং আমাদের সহিত দেখা করিবেন।"
চলিত রীতি: "তিনি বললেন যে, তারা আগামীকাল তাদের বাড়িতে আসবেন এবং আমাদের সাথে দেখা করবেন।"
লক্ষ করুন:
- তাহারা → তারা
- তাহাদের → তাদের
- আসিবেন → আসবেন
- করিবেন → করবেন
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
প্রমিত রীতি: প্রমিত রীতি মানে "মান ভাষা" - এটি সাধু বা চলিত যেকোনো রূপ নিতে পারে। তবে বর্তমানে প্রমিত চলিত রীতিই প্রচলিত। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক রূপ নয়, বরং শুদ্ধ ভাষার মানদণ্ড।
চলিত রীতি: চলিত রীতিতে সংক্ষিপ্ত বা সংযুক্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। এখানে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংকুচিত হয়ে মুখের ভাষার কাছাকাছি চলে আসে। যেমন: "করিতেছি" না বলে "করছি"।
কথ্য রীতি: কথ্য ভাষায় আরও বেশি সংক্ষিপ্ত ও অনানুষ্ঠানিক রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: "করছি" এর পরিবর্তে "করতেছি" বা আঞ্চলিক রূপ। এটি চলিত রীতির চেয়েও বেশি নমনীয়।
মনে রাখার সহজ উপায়:
সাধু = সাধ করে লেখা = পূর্ণ রূপ = দীর্ঘচলিত = চলন্ত = সংক্ষিপ্ত = দ্রুত
গুরুত্বপূর্ণ নোট: কেবল সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেই সাধু-চলিতের পার্থক্য হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয় ইত্যাদিতে খুব একটা পার্থক্য নেই (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। তাই পরীক্ষায় এই দুই পদের রূপ দেখেই সাধু-চলিত চিনতে হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

