- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ভাষা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
নিচের কোনটি চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য?
চলিত রীতি বাংলা ভাষার জীবন্ত, গতিশীল রূপ যা মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তায় ব্যবহৃত হয়। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিবর্তনশীলতা। ভাষা যেহেতু মানুষের সাথে বিবর্তিত হয়, চলিত রীতি সেই পরিবর্তনকে দ্রুত গ্রহণ করে।
চলিত রীতি "পরিবর্তনশীল" কেন:
ভাষা জীবন্ত সত্তা, এটি সমাজ-সংস্কৃতির সাথে পরিবর্তিত হয়। চলিত রীতি নতুন শব্দ, নতুন প্রকাশভঙ্গি সহজে গ্রহণ করে। প্রতিদিনের আলাপচারিতায় যে ভাষা ব্যবহৃত হয়, সেখান থেকেই চলিত রীতি তার উপাদান নেয়।
বিশ শতকের শুরুতে প্রমথ চৌধুরী "সবুজপত্র" পত্রিকায় চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি বলেছিলেন, "মুখের ভাষাই লেখ্য ভাষা হওয়া উচিত।" রবীন্দ্রনাথ প্রথমে সাধু রীতিতে লিখলেও পরে চলিত রীতিকে স্বীকৃতি দেন এবং নিজেও ব্যবহার করেন।
প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, নতুন প্রজন্মের ভাষা ব্যবহার - এসবের প্রভাবে চলিত রীতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। যেমন: "ফোন", "কম্পিউটার", "ইন্টারনেট" - এসব শব্দ সহজেই চলিত ভাষায় জায়গা করে নিয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
গুরুগম্ভীর: এটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য। সাধু ভাষা ভারী, আনুষ্ঠানিক ও গম্ভীর। চলিত রীতি সহজ ও স্বাভাবিক।
অপরিবর্তনীয়: সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য। সাধু রীতি স্থির, রক্ষণশীল এবং পরিবর্তন প্রতিরোধী।
তৎসম শব্দবহুল: সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য। সাধু রীতিতে সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয়। চলিত রীতিতে তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দের মিশ্রণ থাকে।
চলিত রীতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:
- চটুল ও প্রাণবন্ত
- সংক্ষিপ্ত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ
- মুখের ভাষার কাছাকাছি
- সহজবোধ্য ও প্রচলিত
উদাহরণ:১৯৫০-এর দশক: "সিনেমা দেখতে যাব"২০২০-এর দশক: "মুভি দেখতে যাব" বা "নেটফ্লিক্সে দেখব"
এই পরিবর্তন চলিত রীতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

