- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- সাধারণ জ্ঞান
কোথায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত পরস্পরকে ছুঁয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মায়ানমার—উভয় দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। রাঙ্গামাটির উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের মিজোরাম রাজ্য এবং পূর্বে মায়ানমারের চিন রাজ্য অবস্থিত। এই তিনটি দেশের সীমান্ত যেখানে এসে মিলেছে, তাকে একটি 'ট্রাই-পয়েন্ট' (Tri-point) বলা হয়।
কেন অন্যগুলো ভুল?
বান্দরবান: এই জেলার সাথে মায়ানমারের দীর্ঘ সীমান্ত থাকলেও ভারতের কোনো সীমান্ত নেই। এর সীমানা মূলত মায়ানমার ও ভারতের মিজোরামের কিছু অংশের কাছাকাছি হলেও তিনটি দেশ এখানে সরাসরি মেলেনি।
খাগড়াছড়ি: এই জেলার সাথে শুধুমাত্র ভারতের (ত্রিপুরা রাজ্য) সীমান্ত রয়েছে। মায়ানমারের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই।
সিলেট: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জেলার সাথে শুধুমাত্র ভারতের (মেঘালয় ও আসাম রাজ্য) সীমান্ত রয়েছে। মায়ানমার এখান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
অতিরিক্ত তথ্য (Value Addition)
রাঙ্গামাটির বিশেষত্ব ও ভৌগোলিক গুরুত্ব:
১. একমাত্র ত্রিমুখী সীমান্ত: রাঙ্গামাটি জেলা বাংলাদেশের একমাত্র প্রশাসনিক অঞ্চল যা দুটি ভিন্ন দেশের সীমান্ত স্পর্শ করে আছে।
২. সবচেয়ে বড় জেলা: আয়তনের দিক থেকে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা। এর আয়তন ৬,১১৬ বর্গকিলোমিটার।
৩. সাজেক ভ্যালি: পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাজেক ভ্যালি এই রাঙ্গামাটি জেলাতেই অবস্থিত, যা সরাসরি ভারতের মিজোরাম সীমান্তের খুব কাছে।
পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ:
রাঙ্গামাটির পাহাড়ি অঞ্চলগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বৈচিত্র্যময়। এখানে বসবাসকারী চাকমা রাজবংশের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। বলা হয়, এই অঞ্চলের পাহাড়ি অরণ্য ও নদীগুলো প্রাচীনকাল থেকেই ভারত ও মায়ানমারের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ছিল আরও দুর্গম ও রহস্যময়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

