- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হলো বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৯৩ এর অধীনে কাজ করে। মূলত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই এই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।
বিএসইসি-র প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
১৯৯৩ সালের আগে বাংলাদেশে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না। ১৯৯০-৯১ সালে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি এবং পতন ঘটে, যার ফলে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে ১৯৯৩ সালের ৮ জুন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন পাস হয় এবং বিএসইসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিএসইসি-র সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত এবং চট্টগ্রামে এর একটি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। সংস্থাটি একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনার নিয়ে গঠিত। চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
বিএসইসি-র প্রধান কার্যাবলী
১. নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি: বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সহ সকল স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করে। এছাড়াও ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিএসইসি-র তদারকিতে থাকে।
২. বিনিয়োগকারী সুরক্ষা: বিএসইসি-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রতারণা, মূল্য কারসাজি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার (ইনসাইডার ট্রেডিং) এবং বাজার হেরফের রোধ করা বিএসইসি-র প্রধান কাজ।
৩. লাইসেন্স প্রদান: শেয়ার বাজারে কাজ করতে ইচ্ছুক যেকোনো ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিএসইসি থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এই লাইসেন্স প্রদানের সময় সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, মালিকানা এবং পরিচালনার যোগ্যতা যাচাই করে।
৪. কোম্পানির IPO অনুমোদন: যখন কোনো কোম্পানি প্রথমবারের মতো শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় (Initial Public Offering বা IPO), তখন সেই কোম্পানির সব তথ্য, আর্থিক বিবরণী এবং প্রসপেক্টাস বিএসইসি যাচাই-বাছাই করে এবং অনুমোদন দেয়। এটি নিশ্চিত করে যে কোম্পানি সকল আইনি নিয়ম মেনে চলছে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে।
৫. বাজার তদারকি: বিএসইসি শেয়ারের দাম, লেনদেনের পরিমাণ এবং বাজারের সার্বিক অবস্থা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করে। যদি কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা যায়, যেমন হঠাৎ করে কোনো শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, তাহলে তদন্ত করে।
৬. আইন প্রয়োগ: বিএসইসি-র রয়েছে জরিমানা, সাসপেনশন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা। যদি কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি নিয়ম লঙ্ঘন করে, বিএসইসি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের কাঠামো
বাংলাদেশে দুটি প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে:
১. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE): ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জ। বর্তমানে প্রায় ৩৫০+ কোম্পানি ডিএসই-তে তালিকাভুক্ত।
২. চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE): ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জই বিএসইসি-র অধীনে পরিচালিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
বাংলাদেশ ব্যাংক: এটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করা। শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ এর কাজ নয়।
ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ): ডিএসই একটি স্টক এক্সচেঞ্জ বা বাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়। এটি সেই প্ল্যাটফর্ম যেখানে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়, কিন্তু এটি নিজেই বিএসইসি-র নিয়ন্ত্রণাধীন। ডিএসই-র নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ আছে, কিন্তু এর সকল কার্যক্রম বিএসইসি-র তদারকিতে পরিচালিত হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: এই মন্ত্রণালয় সরকারের আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করে। বিএসইসি প্রশাসনিকভাবে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও, শেয়ার বাজারের দৈনন্দিন নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব বিএসইসি-র। মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র নীতিগত বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।
বিএসইসি-র সাম্প্রতিক উদ্যোগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএসইসি শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ট্রেডিং সিস্টেম চালু, অনলাইনে বিনিয়োগকারী অভিযোগ দাখিল ব্যবস্থা, এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম। ২০১০-১১ সালে শেয়ার বাজার ধসের পর বিএসইসি তার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে।
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিসিএস, ব্যাংক চাকরি এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বিভিন্নভাবে আসতে পারে। মনে রাখবেন:
- বিএসইসি = শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক
- বাংলাদেশ ব্যাংক = ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক
- ডিএসই/সিএসই = শেয়ার বাজারের প্ল্যাটফর্ম (নিয়ন্ত্রক নয়)
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৯৩
- সদর দপ্তর: ঢাকা
এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করলে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

