- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৬
- বিসিএস ২০১৬
- বিজ্ঞান
তাপ ইঞ্জিনের কাজ-(Heat Engine)
তাপ ইঞ্জিন হল একটি যন্ত্র যা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি এমন একটি সিস্টেম যা তাপ উৎপন্ন করে তা থেকে কাজ তৈরি করে এবং অবশিষ্ট তাপকে পরিবেশে নিক্ষেপ করে। তাপ ইঞ্জিনের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ তাপমাত্রার উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তা থেকে কার্যকর যান্ত্রিক কাজ উৎপাদন করা। দৈনন্দিন জীবনে, গাড়ির ইঞ্জিন, বিমান ইঞ্জিন, স্টিম টারবাইন এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেটর তাপ ইঞ্জিনের উদাহরণ।
তাপ ইঞ্জিনের কাজের মূল নীতি
তাপ ইঞ্জিনের কাজ একটি চক্রাকার প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। এটি তাপ গ্রহণ করে তা থেকে কাজ বের করে এবং অবশিষ্ট তাপকে নিম্ন তাপমাত্রার পরিবেশে সরিয়ে দেয়। তাপ ইঞ্জিনের কাজকে বোঝার জন্য আমরা সাধারণত কার্নোট চক্রের নীতি ব্যবহার করি।
তাপ গ্রহণ (Heat Absorption): তাপ ইঞ্জিনের একটি অংশ উচ্চ তাপমাত্রার উত্স থেকে তাপ গ্রহণ করে। এই তাপশক্তি সিস্টেমের ভেতরের পদার্থকে উত্তপ্ত করে এবং তাদের আণবিক গতিকে বৃদ্ধি করে।
কাজ উৎপাদন (Work Output): উত্তপ্ত পদার্থ দ্বারা সৃষ্ট শক্তি পিস্টন বা টারবাইনকে সরিয়ে যান্ত্রিক কাজ উৎপাদন করে। উদাহরণস্বরূপ, গাড়ির ইঞ্জিনে জ্বালানি দহন করে পিস্টন চলে এবং সেই চলাচল চাকার ঘূর্ণনে রূপান্তরিত হয়।
তাপ নির্গমন (Heat Rejection): তাপ ইঞ্জিন সব তাপকে কাজে রূপান্তর করতে পারে না। কিছু অংশ অবশিষ্ট তাপ হিসেবে বের হয় এবং নিম্ন তাপমাত্রার পরিবেশে নির্গত হয়। এটি শীতলক (Cooler) বা কনডেনসার দ্বারা সম্পন্ন হয়।
উদাহরণ
গাড়ির ইঞ্জিন: একটি গাড়ির ইঞ্জিন জ্বালানি জ্বালিয়ে তাপ উৎপন্ন করে। পিস্টনের গতি সেই তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। চাকার ঘূর্ণনের মাধ্যমে গাড়ি চালানো সম্ভব হয়।
স্টিম ইঞ্জিন: পানিকে উত্তপ্ত করে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প পিস্টন বা টারবাইনকে ধাক্কা দেয় এবং যান্ত্রিক কাজ উৎপাদন হয়।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: তাপশক্তি দিয়ে জলের বাষ্প তৈরি করা হয়। বাষ্প টারবাইন চালায় এবং টারবাইনের ঘূর্ণন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। যদিও এখানে কাজের আকারে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, মূল নীতি তাপ থেকে শক্তি রূপান্তর।
তাপ ইঞ্জিনের বৈশিষ্ট্য
তাপ উৎস ও শীতলক: প্রতিটি তাপ ইঞ্জিনের দুটি প্রধান অংশ থাকে - একটি উচ্চ তাপমাত্রার উৎস (যেখানে তাপ আসে) এবং একটি নিম্ন তাপমাত্রার শীতলক (যেখানে তাপ বের হয়)। এই পার্থক্য থাকায় কাজ উৎপন্ন হয়।
চক্রাকার প্রক্রিয়া: অধিকাংশ তাপ ইঞ্জিন চক্রাকার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে ইঞ্জিন বারবার একই ধাপ পুনরাবৃত্তি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কার্নোট চক্র, ওট্টো চক্র, ডাইজেল চক্র।
কাজ উৎপাদন ও তাপ নির্গমন: তাপ ইঞ্জিন সব তাপকে কাজে রূপান্তর করতে পারে না। অবশিষ্ট তাপকে শীতলক দিয়ে পরিবেশে নির্গত করতে হয়।
কার্যকরিতা (Efficiency): তাপ ইঞ্জিনের কার্যকরিতা নির্ধারণ করে কত শতাংশ তাপশক্তি যান্ত্রিক কাজ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। কোনো বাস্তব ইঞ্জিনের কার্যকরিতা সর্বদা ১০০% হয় না।
প্রকারভেদ
ওট্টো ইঞ্জিন (Otto Engine): সাধারণত গাড়ির পেট্রোল ইঞ্জিন। জ্বালানি–বায়ু মিশ্রণ দহন করে কাজ উৎপন্ন হয়।
ডাইজেল ইঞ্জিন (Diesel Engine): গাড়ি ও বড় যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত। এখানে জ্বালানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দহিত হয়।
স্টিম ইঞ্জিন (Steam Engine): বাষ্পের শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক কাজ উৎপাদন করে। প্রাচীন সময়ে রেলগাড়ি ও কারখানায় ব্যবহৃত।
গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন (Gas Turbine Engine): বিমান ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত। গ্যাসের উচ্চ চাপ দ্বারা টারবাইন ঘূর্ণন করে।
ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি
কিছু মানুষ মনে করে তাপ ইঞ্জিন বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন বা যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপ উৎপাদনও করে। এ ধরনের প্রক্রিয়া তাপ ইঞ্জিনের মধ্যে পড়ে না। যেমন:
- যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর: ব্রেকিং বা ঘর্ষণে ঘটে।
- বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর: ইলেকট্রিক মোটরের কাজ।
- তাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর: জেনারেটরের কাজ।
- তাপ ইঞ্জিন শুধুমাত্র তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
সংক্ষেপে, তাপ ইঞ্জিন একটি গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক যন্ত্র যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে আমরা জ্বালানি থেকে শক্তি উৎপাদন করি, যানবাহন চালাই, বিদ্যুৎ উৎপাদন করি এবং বড় বড় মেশিন চালাই। তাপ ইঞ্জিনের মূল কাজ হলো তাপশক্তি গ্রহণ, তা থেকে যান্ত্রিক কাজ উৎপাদন এবং অবশিষ্ট তাপ পরিবেশে নিক্ষেপ করা। এর কার্যকরিতা বৃদ্ধি এবং শক্তি অপচয় কমানো প্রযুক্তিবিদ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

