- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩
- বিসিএস ২০১৩
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি কতটুকু?
২০১৫ সালের মধ্যে দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ প্রেক্ষাপটে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে আসছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে মোট সংশোধিত বরাদ্দের পরিমাণ ১১,৮৫৩.০৯ কোটি টাকা। সকলের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে যে সকল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তন্মধ্যে বিদ্যালয়ে ভর্তি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, উপবৃত্তি ও ছাত্র-শিক্ষক সংযোগ ঘণ্টা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া উপবৃত্তি প্রকল্প, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩), রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প, দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, শহরের কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এবং মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা-উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ সহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৪৯,৫৩৯টি। এ সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১,০৬,৮৫৮টি (ব্র্যাক সেন্টার, শিশু কল্যাণ ও মাদরাসাসহ)। প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা ও হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯১ সালে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুপাত ছিল ৫৫: ৪৫। বর্তমানে তা প্রায় ৪৯.৯: ৫০.১ এ উন্নীত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে গৃহীত/গৃহীতব্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি ৩ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ও উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধ এবং সংযোগ ঘণ্টা (Contact Hour) বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে;
বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষ শিক্ষকের অনুপাত। ৬০: ৪০ অনুসরণ করা হয়। বর্তমানে মহিলা ও পুরুষ শিক্ষকের অনুপাত হলো ৬৪, ২: ৩৫.৮; প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (SLIP) ও উপজেলা এডুকেশন প্ল্যান (UPEP) পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের ৩.৩ লাখ নব্যসাক্ষরের জীবনযাত্রার মনোন্নয়নের লক্ষ্যে নব্য-সাক্ষরদের ক্রমান্বয়ে স্থানীয় বাজার চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আয় সৃজনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে; ছয়টি বিভাগীয় শহরের ১০-১৪ বছর বয়সী ১.৬৬ লাখ কর্মজীবী শিশুকে মৌলিক শিক্ষা প্রদানসহ জীবনভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে; প্রতিবছর সারা দেশে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৯ সাল হতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে; বিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে 'ইংলিশ ইন অ্যাকশন' প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে: উপবৃত্তি ৪০ শতাংশ হতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করাসহ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৮ লাখ থেকে ৭৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন, চর, হাওর-বাওড় এলাকায় শিখনকেন্দ্র স্থাপন এবং দেশের সকল উপজেলাকে মৌলিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনয়ন কার্যক্রম প্রত্রিয়াধীন রয়েছে; ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ৯৬টি উপজেলার ২৮ লাখ শিশুর মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্কুল খোলার দিন দৈনিক ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৭৪টি উপজেলায় প্রায় ২৭ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এ কার্যক্রম চলছে; দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার আলো পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে মৌলিক সাক্ষরতা (৬৪ জেলা) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে;
বিদ্যালয় বহির্ভূত এবং ঝরে পড়া ৭-১৪ বছর বয়সী প্রায় ৪.৫ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে পিইডিপি-৩ এর আওতায় 'সেকেন্ড চান্স এডুকেশন' প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে; দেশের ২৬,১৯৩টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ এবং কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি বিধিমালার আলোকে সরকারিকরণ করা হয়েছে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

