- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩
- বিসিএস ২০১৩
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা বিকাশে অ-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভূমিকা ব্যাখ্যা করুন।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক দেশে বহু আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিকাশ লাভ করলেও বাংলাদেশে এর প্রচলন গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা দানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একতরফা ভূমিকা ছিল। ১৯৯৩ সাল অবধি বেসরকারি খাতে যে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা প্রদান করা সম্ভব তা হাতে গোনা অল্প কিছু মানুষ বিশ্বাস করতেন। বেসরকারি খাতকে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব প্রদান ঝুঁকিপূর্ণ বলে আশঙ্কা রয়ে যায়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা পাস করার পরপরই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বেতনে চাকরি পেয়ে যায়, তখন অবশ্য আশঙ্কা কিছুটা দূর হয়।
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা: প্রতিবছর যে হারে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর পাশের হার ও সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে কিন্তু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়েনি বা যেগুলো বিদ্যমান আছে সেগুলোর অবকাঠামোগত পরিধি বাড়েনি। আর এ কারণে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে চলে আসে। যেসব প্রয়োজনে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটেছিল সেসবের মধ্যে দুটি প্রণিধানযোগ্য:
১. উচ্চশিক্ষার বর্ধিত চাহিদা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না; এবং ২. সরকারি তহবিলের অভাব অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা পূরণে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, সরকারের পক্ষে বাজেটে তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়া।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে দেশের বর্ধিতসংখ্যক ছাত্রের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ (১৯৯৮ এ সংশোধিত) পাশ করে। এ আইনের আওতায় যে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এবং ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনের মতো জনহিতৈষী সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লিখিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিজস্ব অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ পেলেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সামগ্রিক অবস্থা: প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় না রেখে
অন্যান্য দেশের মতো ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ ৮৩টি। গুটিকতক বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অধিকাংশেরই নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস নেই। তারা ভাড়া করা ভবনে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালালেও ১৯৯২ সালের আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই সে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় যে, মূলত অর্থ রোজগারের বিষয়টিই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরাধ্য বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধিক ফিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানো, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ না করা, নানা অজুহাতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করা, মানসম্মত শিক্ষা প্রদান না করে শুধু সনদ বিক্রি করার মতো শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি সঠিক কাঠামোর মধ্যে আনতে ২০১০ সালে ১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাদান পদ্ধতি: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এতে ডিগ্রি প্রোগ্রাম চার বছরে সম্পন্ন করাও হয়। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন সকল বিষয় উচ্চ বেতনে পড়িয়ে থাকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাণিজ্যিক বিষয়গুলোকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয় বিজ্ঞান বা মানবিক বিষয়গুলোকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
পরিশেষে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, গুণগত বা মানসম্মত উচ্চশিক্ষায় দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের হয়তো সবগুলোর খারাপ অবস্থা পরিদৃষ্ট হয় না। তবে যেগুলো সম্পর্কে প্রায়শই সংবাদপত্রের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কথা জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সঠিক তদারকির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য হয়তো লাভ করা সম্ভব।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

