- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩
- বিসিএস ২০১৩
- বাংলাদেশ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর লিখুন:
ক. সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত বিধান কি?
খ. সংবিধানের প্রাধান্য বলতে কি বোঝায় তা অনুচ্ছেদ উল্লেখপূর্বক বর্ণনা করুন।
গ. সংবিধানে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকদের জন্য কি কি বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে?
ঘ. চলাফেরার ও সমাবেশের স্বাধীনতা সম্পর্কিত সংবিধানের বিধানদ্বয় কি কি এবং তা কোন কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
ঙ. জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা উল্লেখ করুন।
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দলিল, যাতে রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় বিষয়াদি লিপিবদ্ধ থাকে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। এ সংবিধানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবিধান বলা হয়। কেননা লিখিত এ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ ক্ষমতা ও কার্যপরিধি ইত্যাদি বিষয় সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের আইনসভা 'জাতীয় সংসদ' নামে পরিচিত। এটি একটি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। দেশের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। সংসদ যে কোনো নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে। জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে ৩০০ জন নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যগণ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা এবং অযোগ্যতা: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা এবং অযোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হইলে এই। অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি (ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা;
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
২(৬) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফাতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে না।
(৩) এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কিনা কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্ররিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজনবোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
যে কারণে ও যখন সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হয়:
সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি-
১. তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় ফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ (বা ঘোষণা) করতে ও শপথপত্রে (বা ঘোষণাপত্রে) স্বাক্ষর দান করতে অসমর্থ হন;
২. সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক দিবস-অনুপস্থিত থাকেন;
৩. সংসদ ভেঙে যায়;
৪. তিনি নির্বাচিত হবার পর অযোগ্য ঘোষিত হন।
৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি
৫. কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন বা বহিষ্কৃত হন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপরীতে ভোট প্রদান করেন তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি-
৬. কোনো ব্যক্তি একই সাথে দুই বা ততোধিক আসনে নির্বাচিত হবার পর তিনি যে আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক তা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বশেষ নির্বাচনের ত্রিশ দিনের মধ্যে জানাতে হবে এবং এক্ষেত্রে অন্য আসনগুলো শূন্য হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে অসমর্থ হন তবে তার নির্বাচিত সকল আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে।
৭. কোনো সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করলে সে আসন শূন্য হবে।
৮. ৬৭ (২) অনুযায়ী সংসদ সদস্য স্বীয় স্বাক্ষর যুক্ত পদত্যাগ পত্র স্পীকারের কাছে প্রেরণ করণে।
৯. ৬৬ (২) ধারা অনুযায়ী যে সমস্ত যোগ্যতার উল্লেখ আছে তার যদি বিলুপ্ত হয় তবে সংসদ সদস্য থাকবেন না এবং আসন শূন্য হবে।
উপসংহার: সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের প্রাণ। সংসদ সদস্যরা সংসদকে যেমন প্রাণবন্ত করে তোলে, তেমনি তাদের দ্বারা জনকল্যাণমুখী নানা আইন ও বিধিও প্রণীত হয়। এ কারণেই বাংলাদেশ সংবিধান জাতীয় সংসদের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা এবং কি কারণে, কখন সংসদের আসন শূন্য হবে তা স্পষ্ট করেছে। আর এ বিধির দরুন সংসদ সদস্যরাও শৃঙ্খলিত থাকে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

