- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ভাষা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
কোনটি সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য?
সাধু রীতি বাংলা ভাষার একটি আনুষ্ঠানিক ও পরিমার্জিত রূপ যা মূলত লেখ্য ভাষায় ব্যবহৃত হতো। এই রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কৃত্রিমতা - অর্থাৎ এটি স্বাভাবিক কথ্য ভাষা থেকে আলাদা, বরং সচেতনভাবে নির্মিত একটি ভাষারূপ।
সাধু রীতি "কৃত্রিম" কেন:
সাধু রীতি প্রাত্যহিক মুখের ভাষা নয়। এটি সাহিত্য রচনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। কেউ স্বাভাবিকভাবে এভাবে কথা বলে না। উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের সূচনাকালে পণ্ডিতরা সংস্কৃত ব্যাকরণের ছাঁচে ঢেলে এই রীতি গড়ে তোলেন।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতরা বাংলা গদ্যকে সমৃদ্ধ করতে গিয়ে সংস্কৃত ভাষার প্রভাব বেশি রেখেছিলেন, যার ফলে এটি কথ্য ভাষা থেকে দূরে সরে গিয়ে একটি কৃত্রিম রূপ নেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাধু রীতিকে "স্থবির" বলে অভিহিত করেছিলেন।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
চটুল: এটি চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য। চলিত ভাষা দ্রুত, প্রাণবন্ত এবং গতিশীল। সাধু রীতি ভারী ও মন্থরগতি।
জীবন্ত: চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য। চলিত ভাষা প্রাণবন্ত, সজীব এবং বাস্তব জীবনের কাছাকাছি। সাধু রীতি তুলনামূলকভাবে নিষ্প্রাণ ও গুরুগম্ভীর।
পরিবর্তনশীল: চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য। চলিত ভাষা সময়ের সাথে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। সাধু রীতি অপরিবর্তনশীল ও স্থির।
সাধু রীতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:
- তৎসম শব্দবহুল
- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ
- গুরুগম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক
- বর্তমানে প্রায় অপ্রচলিত
উদাহরণ:সাধু: "তিনি বলিলেন যে, তাহারা আগামীকল্য আসিবেন।"চলিত: "তিনি বললেন যে, তারা আগামীকাল আসবেন।"
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

