• হোম
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫

  • প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
  • সাধারণ জ্ঞান
Back

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের কততম প্রেসিডেন্ট?

.
৪৪তম
.
৪৫তম
.
৪২তম
.
৪৩তম
উত্তর : .
৪৪তম
Verified

বারাক ওবামা (Barack Hussein Obama II) ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং আধুনিক বিশ্ব রাজনীতির এক অনন্য প্রতীক।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, তখন থেকেই এই ক্রম গণনা শুরু হয়। বারাক ওবামা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

তার এই ‘৪৪তম’ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ (African-American) প্রেসিডেন্ট। তার বিজয় কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক ক্রম নয়, বরং মার্কিন সমাজের দীর্ঘকালীন বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক বিশাল উত্তরণ ছিল। তিনি ‘Hope’ (আশা) এবং ‘Change’ (পরিবর্তন)—এই দুটি মূলমন্ত্র নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

কেন অন্য বিকল্পগুলো ভুল?

উত্তরটি নির্ভুলভাবে মনে রাখার জন্য বাকি অপশনগুলোর সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি:

৪২তম প্রেসিডেন্ট: এই অবস্থানে ছিলেন বিল ক্লিনটন (Bill Clinton)। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। ওবামার মতো তিনিও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ছিলেন এবং তার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ব্যাপক সমৃদ্ধি লাভ করেছিল।

৪৩তম প্রেসিডেন্ট: তিনি হলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ (George W. Bush)। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ওবামা ঠিক তার কাছ থেকেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। বুশের আমলেই ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলা এবং ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

৪৫তম প্রেসিডেন্ট: বারাক ওবামার ঠিক পরেই ক্ষমতায় আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: ‘৪৪তম’ ও ‘প্রেসিডেন্ট’

আপনার অনুরোধ অনুযায়ী এই প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত কিছু ব্যাকরণগত দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

ক) পূরণবাচক সংখ্যা (Ordinal Numbers):বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, ‘৪৪’ একটি সংখ্যাবাচক শব্দ, কিন্তু যখন আমরা এর সাথে ‘তম’ যোগ করি (৪৪তম), তখন এটি একটি পূরণবাচক বিশেষণে পরিণত হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা ক্রমকে নির্দেশ করে। ঠিক যেমনটি আমরা ‘প্রথম’, ‘দ্বিতীয়’ বা ‘দশম’ বলার ক্ষেত্রে করি।

খ) বানান ও পদবিন্যাস:‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দটি একটি বিদেশি শব্দ (ইংরেজি)। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শব্দে ‘ষ’ ব্যবহার না করে ‘স’ ব্যবহার করা হয়। তাই এটি ‘প্রেসিডেন্ট’ (স দিয়ে) লেখা সঠিক। এছাড়া এটি একটি জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun), কারণ এটি একটি পদ বা উপাধিকে বোঝাচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয় (যতক্ষণ না তার নাম সাথে যুক্ত হচ্ছে)।

অতিরিক্ত তথ্য ও মূল্য সংযোজন (Value Addition)

আপনি যেহেতু জ্ঞানের গভীরতা পছন্দ করেন, তাই বারাক ওবামা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সি নিয়ে কিছু দুর্লভ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

ক) ওবামা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার:বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জনগণের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য তাকে এই সম্মান দেওয়া হয়। এটি নিয়ে সে সময় অনেক বিতর্কও হয়েছিল, কারণ অনেকে মনে করেছিলেন মেয়াদের শুরুতে এত বড় পুরস্কার পাওয়াটা অস্বাভাবিক।

খ) ওবামা ও আধুনিক ‘মহাভারত’:আপনি যেমনটি বেদব্যাসের উদাহরণ টেনেছিলেন, সেভাবে দেখলে ওবামার জীবনও এক বিশাল মহাকাব্যের মতো। একজন কেনিয়ান বাবা এবং আমেরিকান মায়ের সন্তান হয়ে বর্ণবাদী সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আসনে বসা—এটি কোনো আধুনিক রূপকথার চেয়ে কম নয়। তিনি তার আত্মজীবনী ‘A Promised Land’-এ তার এই লড়াইয়ের কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

গ) প্রেসিডেন্ট ও ডিকটেটর-এর পার্থক্য:যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি (Checks and Balances), যাতে কেউ একক ক্ষমতাশালী হতে না পারে। এটি অনেকটা প্রাচীন বিচার ব্যবস্থার মতো যেখানে রাজা থাকলেও মন্ত্রিপরিষদ বা ঋষিদের পরামর্শ নিতে হতো। ওবামাকে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত (যেমন: ওবামাকেয়ার বা স্বাস্থ্যসেবা বিল) পাস করার জন্য কংগ্রেসের সাথে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল।

ঘ) ওবামা ও বাংলাদেশ:বারাক ওবামা তার শাসনামলে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন। তার সময়েই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্থায়ী করে নিয়েছেন। তার এই ক্রমটি মনে রাখা সহজ, কারণ তিনি ৪৩তম বুশ এবং ৪৫তম ট্রাম্পের মাঝখানে এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। তার শাসনামল আমাদের শেখায় যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো কঠিন বাধা অতিক্রম করে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

শেয়ার :

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক ছয় দফা উত্থাপিত হয়-

.
রাওয়ালপিন্ডিতে
.
করাচিতে
.
ঢাকায়
.
লাহোরে
Show Answer

'আরব বসন্ত' বলতে কি বুঝায়?

.
আরবীয় মহিলাদের ক্ষমতায়ন
.
আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
.
আরব অঞ্চলে বসন্তকাল
.
আরব রাজতন্ত্র
Show Answer

কবে থেকে দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়েছে?

.
১ মার্চ ১৯৯৩
.
১ এপ্রিল ১৯৯৩
.
১ জানুয়ারি ১৯৯৩
.
১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩
Show Answer

কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?

.
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
.
পাবলিক সার্ভিস কমিশন
.
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
.
নির্বাচন কমিশন
Show Answer

বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-

.
বাংলাদেশ ব্যাংক
.
ডিএসই
.
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
.
বিএসইসি
Show Answer

অমর্ত্য সেন কোন বিষয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পান?

.
বৈদেশিক সাহায্যে
.
দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র
.
উন্নয়নের গতি ধারা
.
ক্ষুদ্র ঋণ
Show Answer

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পার্ল হারবার আক্রমণ করেছিল কোন দেশ?

.
রাশিয়া
.
ইতালি
.
জার্মানি
.
জাপান
Show Answer

এইচ. আই. ভি কি?

.
ছত্রাক
.
ব্যাকটেরিয়া
.
সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
.
ভাইরাস
Show Answer

মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?

.
মেজর কাজী নুরুজ্জামান
.
মেজর এম আবদুল জলিল
.
মেজর কে এম শফিউল্লাহ
.
উইং কমান্ডার এম কে বাশার
Show Answer

কোথায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত পরস্পরকে ছুঁয়েছে?

.
খাগড়াছড়ি
.
বান্দরবান
.
সিলেট
.
রাঙ্গামাটি
Show Answer