- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
'দ্যুলোক' শব্দের যথার্থ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী, 'দ্যুলোক' শব্দটি একটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। নিপাতনে সিদ্ধ মানে হলো যেসব সন্ধি সাধারণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণগত নিয়ম মেনে চলে না, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ভাষায় সিদ্ধ বা প্রচলিত। এখানে 'দিব্' (যার অর্থ আকাশ) এবং 'লোক' মিলে 'দ্যুলোক' গঠিত হয়েছে।
কেন অন্যগুলো ভুল:
দ্বি + লোক: 'দ্বি' মানে দুই। 'দুই লোক' বললে এই শব্দের মূল অর্থ (আকাশ বা স্বর্গ) প্রকাশ পায় না। এছাড়া 'ই' কারের পর 'ল' থাকলে তা 'দ্যু' হওয়ার কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।
দ্বিঃ + লোক: এটি বিসর্গ সন্ধির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ। বিসর্গের পর 'ল' থাকলে তা ও-কার হতে পারে (যেমন: মনঃ + লোভ = মনোলোভ), কিন্তু 'দ্যু' হওয়া সম্ভব নয়।
দিক্ + লোক: 'দিক্' মানে দিক বা দিশা। ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে 'ক্' এর পর 'ল' থাকলে তা 'দ্যু'তে রূপান্তরিত হয় না।
ব্যাকরণের নিয়ম ও উদাহরণ
সাধারণত ব্যঞ্জন সন্ধিতে পদের শেষে 'ব্' থাকলে তা পরবর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষ রূপ নিতে পারে। তবে 'দ্যুলোক' যেহেতু নিপাতনে সিদ্ধ, তাই এটি কোনো ধরাবাঁধা ছকে পড়ে না। এটি সরাসরি মনে রাখাই উত্তম।
একই ধরণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে:
কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়)
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গোয়াক্ষ নয়)
অন্য + অন্য = পরস্পর (অন্যান্য নয়, এখানে অর্থের ভিন্নতা আছে)
অতিরিক্ত তথ্য (Value Addition)
শব্দের অর্থ ও পৌরাণিক প্রসঙ্গ:'দ্যুলোক' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো আকাশ বা স্বর্গলোক। প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হতো:
১. দ্যুলোক: উপরের জগত বা স্বর্গ।
২. অন্তরিক্ষ: মাঝখানের আকাশ বা বায়ুমণ্ডল।
৩. ভূলোক: নিচের জগত বা আমাদের এই পৃথিবী।
ঋগ্বেদে 'দ্যু' এবং 'পৃথিবী'কে অনেক সময় একসাথে 'দ্যবাপৃথিবী' বলা হয়েছে, যাদেরকে মহাবিশ্বের পিতা ও মাতা হিসেবে গণ্য করা হতো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও আমরা এই ত্রিলোকের বর্ণনা পাই
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

