- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- সাধারণ জ্ঞান
জুলিও কুরী একজন বিশ্ববিখ্যাত-
প্রশ্নে ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরী (Frédéric Joliot-Curie) অথবা ইরেন জুলিও-কুরী (Irène Joliot-Curie) এর কথা বলা হয়েছে। এই দম্পতি উভয়েই বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী এবং রসায়নবিদ ছিলেন। তারা তেজস্ক্রিয়তা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।
কুরী পরিবার: বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তি বংশ
কুরী পরিবার বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারগুলোর একটি। এই পরিবারের সদস্যরা মোট পাঁচটি নোবেল পুরস্কার জিতেছেন, যা অভূতপূর্ব।
মেরি কুরী (Marie Curie, ১৮৬৭-১৯৩৪) এবং পিয়ের কুরী (Pierre Curie, ১৮৫৯-১৯০৬) ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। মেরি কুরী পোলিশ বংশোদ্ভূত ফরাসি বিজ্ঞানী যিনি রেডিয়াম এবং পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পান - ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে। তিনিই প্রথম নারী যিনি নোবেল পুরস্কার পান এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন।
ইরেন জুলিও-কুরী: মেরি কুরীর যোগ্য উত্তরসূরী
ইরেন জুলিও-কুরী (১৮৯৭-১৯৫৬) ছিলেন মেরি এবং পিয়ের কুরীর বড় মেয়ে। মায়ের মতোই তিনিও পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নে আগ্রহী হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি মায়ের সাথে মোবাইল এক্স-রে ইউনিট পরিচালনা করে আহত সৈনিকদের সেবা করেন।
ইরেন ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর মায়ের রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে গবেষণা শুরু করেন। সেখানেই তাঁর সাথে পরিচয় হয় ফ্রেডেরিক জুলিওর।
ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরী: ইরেনের সহযোগী ও স্বামী
ফ্রেডেরিক জুলিও (১৯০০-১৯৫৮) ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯২৫ সালে তিনি মেরি কুরীর সহকারী হিসেবে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে যোগ দেন। সেখানে ইরেনের সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং ১৯২৬ সালে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর ফ্রেডেরিক তাঁর নামের সাথে "কুরী" যোগ করে নাম রাখেন ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরী, কুরী পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে।
যুগান্তকারী আবিষ্কার: কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা
ইরেন এবং ফ্রেডেরিক একসাথে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে তারা একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন - কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা (Artificial Radioactivity)। তারা প্রমাণ করেন যে আলফা কণা দিয়ে বোরন, অ্যালুমিনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো স্থিতিশীল মৌলে আঘাত করলে সেগুলো তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত হয়।
এই আবিষ্কার পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে প্রকৃতিতে না পাওয়া তেজস্ক্রিয় মৌল পরীক্ষাগারে তৈরি করা সম্ভব। এই গবেষণা পরবর্তীতে পারমাণবিক চুল্লি, চিকিৎসা বিজ্ঞানে রেডিওথেরাপি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি
১৯৩৫ সালে ইরেন এবং ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরী রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন "নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল সংশ্লেষণের" জন্য। এটি ছিল কুরী পরিবারের তৃতীয় নোবেল পুরস্কার।
মজার ব্যাপার হলো, ইরেন তাঁর মায়ের ঠিক ২৪ বছর পর নোবেল পুরস্কার পান। মা এবং মেয়ে উভয়েই নোবেল বিজয়ী - এটি ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
পারমাণবিক বিভাজনের পথ প্রদর্শক
জুলিও-কুরী দম্পতি পারমাণবিক বিভাজন (nuclear fission) আবিষ্কারের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানীরা যখন ইউরেনিয়াম বিভাজন আবিষ্কার করেন, তখন দেখা যায় জুলিও-কুরী দম্পতি প্রায় একই ধরনের পরীক্ষা করছিলেন কিন্তু ফলাফল ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
ফ্রেডেরিক পরবর্তীতে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ে কাজ করেন এবং পরমাণু চুল্লি তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
দুজনেই ছিলেন বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয়। ফ্রেডেরিক ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। ইরেন নারী অধিকার এবং শান্তি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৩৬ সালে তিনি ফ্রান্সের প্রথম তিন নারী মন্ত্রীর একজন হন (বৈজ্ঞানিক গবেষণা উপমন্ত্রী)।
তেজস্ক্রিয়তার শিকার
মেরি কুরীর মতো ইরেনও দীর্ঘদিন তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করার ফলে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হন। ১৯৫৬ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফ্রেডেরিকও পরবর্তীতে লিভার রোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৫৮ সালে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান।
কুরী বংশের অন্যান্য নোবেল বিজয়ী
কুরী পরিবারের পাঁচটি নোবেল পুরস্কারের মধ্যে আরেকটি পেয়েছিলেন হেনরি রিচার্ডসন লাবুইস জুনিয়র (Henry Richardson Labouisse Jr.), যিনি ইরেন-ফ্রেডেরিকের মেয়ে ইভ কুরীকে বিয়ে করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফের হয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
শিল্পী: জুলিও-কুরী পরিবারের কেউই শিল্পী ছিলেন না। তবে ইভ কুরী (ইরেনের বোন) ছিলেন লেখক এবং সাংবাদিক, কিন্তু তাঁর নাম জুলিও-কুরী নয়।
সাহিত্যিক: কুরী পরিবার বিজ্ঞানের সাথে জড়িত ছিল, সাহিত্যের সাথে নয়। যদিও তারা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন।
কবি: এই পরিবারে কোনো কবি ছিল না।
পরীক্ষায় আসার টিপস
বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেরি কুরী এবং জুলিও-কুরী পরিবার সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। মনে রাখুন:
- মেরি কুরী - দুবার নোবেল পুরস্কার (পদার্থবিজ্ঞান ১৯০৩, রসায়ন ১৯১১)
- ইরেন ও ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরী - রসায়নে নোবেল ১৯৩৫
- আবিষ্কার - কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা
- কুরী পরিবার - মোট ৫টি নোবেল পুরস্কার
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

