- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
'কবুর' শব্দের অর্থ কী?
'কবুর' একটি আরবি শব্দ যার বাংলা অর্থ রাক্ষস বা দানব। এই শব্দটি বাংলা ভাষায় আরবি থেকে ঋণ হিসেবে এসেছে এবং সাধারণত ভয়ংকর, হিংস্র বা অত্যাচারী চরিত্র বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা সাহিত্য ও কথ্য ভাষায় এই শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় ভয়ংকর বা নিষ্ঠুর কাউকে বর্ণনা করতে।
শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার
'কবুর' শব্দটি আরবি 'কাবির' (قَبِيح) থেকে এসেছে যার অর্থ কুৎসিত, ভয়ংকর বা জঘন্য। বাংলা ভাষায় এটি বিবর্তিত হয়ে 'কবুর' রূপ নিয়েছে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে, বিশেষত পুঁথি সাহিত্য এবং লোককাহিনীতে এই শব্দের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।
বাংলা লোকসাহিত্যে কবুরকে সাধারণত এমন এক ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে চিত্রিত করা হয় যার বিশাল আকৃতি, ভয়ংকর চেহারা এবং মানুষ ভক্ষণের অভ্যাস রয়েছে। রূপকথার গল্পে নায়ক-নায়িকাদের সাথে কবুরের লড়াইয়ের কাহিনী প্রচলিত। এই শব্দটি 'রাক্ষস', 'দানব', 'দৈত্য', 'অসুর' শব্দগুলোর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সাহিত্যিক প্রয়োগ
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'কবুর' শব্দটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন পুঁথি সাহিত্য যেমন 'মহুয়া পালা', 'মলুয়া পালা', এবং অন্যান্য লোককাহিনীতে কবুর চরিত্র পাওয়া যায়। এই চরিত্রগুলো সাধারণত খলনায়কের ভূমিকায় থাকে এবং নায়কের বীরত্ব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যেও 'কবুর' শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। কোনো নিষ্ঠুর, হিংস্র বা অমানবিক ব্যক্তিকে 'কবুর' বলে অভিহিত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: "সে তো একেবারে কবুর মানুষ, কারও প্রতি তার কোনো দয়ামায়া নেই।"
ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রভাব অনেক গভীর। মুসলিম শাসনামলে এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে হাজার হাজার আরবি-ফারসি শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে। 'কবুর' তেমনই একটি শব্দ যা বাংলা ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।
ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, 'কবুর' একটি বিশেষ্য পদ। এটি সাধারণত পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যদিও নারী রাক্ষসকেও কবুর বলা হয়। এই শব্দটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, যেমন: "তার কবুরি স্বভাব" অর্থাৎ রাক্ষসের মতো হিংস্র স্বভাব।
লোকসংস্কৃতিতে কবুর
বাংলার লোকসংস্কৃতিতে কবুরের ধারণা বেশ প্রচলিত। গ্রামীণ সমাজে শিশুদের ভয় দেখানোর জন্য কবুরের কথা বলা হয়। "কবুর আসবে" বলে শিশুদের ভয় দেখানো একটি সাধারণ প্রথা ছিল। যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, এবং অন্যান্য লোকনাট্যে কবুর একটি জনপ্রিয় চরিত্র।
পূর্ববঙ্গের লোকগাথায় কবুরের বিশেষ স্থান রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কবুর সম্পর্কিত গল্প প্রচলিত, যেখানে কবুর মানুষের রূপ ধারণ করে, জাদুবিদ্যা জানে, এবং বিশেষ শক্তির অধিকারী। এই গল্পগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
গন্ধদ্রব্যবিশেষ: এটি 'কর্পূর' শব্দের অর্থ, 'কবুর' নয়। কর্পূর একটি সুগন্ধি পদার্থ যা পূজা-অর্চনা এবং ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি সাদা, স্ফটিকাকার পদার্থ যা কর্পূর গাছ থেকে পাওয়া যায়। কর্পূর জ্বালালে তীব্র সুগন্ধ ছড়ায় এবং ধোঁয়া না দিয়েই পুড়ে যায়। হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কর্পূর আরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসায়নিক পদার্থ: এই অর্থটিও 'কর্পূর' শব্দের সাথে সম্পর্কিত, কবুরের সাথে নয়। রাসায়নিক দৃষ্টিকোণ থেকে কর্পূর হলো C₁₀H₁₆O সংকেত বিশিষ্ট একটি জৈব যৌগ। এটি টারপিনয়েড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত এবং কর্পূর গাছের কাঠ পাতিত করে তৈরি করা হয়। ঔষধি গুণাগুণের জন্য এটি বিভিন্ন মলম ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়।
করণীয়: এই অর্থটি 'কর্তব্য' বা 'কৃত্য' শব্দের সাথে মিল আছে, কবুরের সাথে নয়। করণীয় শব্দের অর্থ হলো যা করা উচিত বা যে কাজ সম্পাদন করতে হবে। 'করণীয় কর্তব্য' একটি প্রচলিত বাগধারা যার অর্থ যে দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অপশন দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ যাচাই করার জন্য।
পরীক্ষার টিপস
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পরীক্ষায় শব্দার্থ বিষয়ক প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে আরবি-ফারসি ঋণশব্দের অর্থ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়। 'কবুর', 'কর্পূর', 'কাফন', 'কবর' - এই শব্দগুলো উচ্চারণে কাছাকাছি হলেও অর্থে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মনে রাখার কৌশল: 'কবুর' শব্দে 'বুর' অংশটি 'ভূত' এর সাথে সম্পর্কিত ভেবে মনে রাখতে পারেন - উভয়েই ভয়ংকর কিছু বোঝায়। রাক্ষস বা দানব বোঝাতে বাংলায় আরও যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় সেগুলো হলো: অসুর, দৈত্য, পিশাচ, ভূত, দানো ইত্যাদি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

