- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ৩০.১০.২০১৫
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৫
- বাংলা
'ভূষণ্ডীর কাক' বাগধারাটির অর্থ-
'ভূষণ্ডীর কাক' বাংলা ভাষার একটি জনপ্রিয় বাগধারা যার অর্থ দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা চিরজীবী ব্যক্তি। যিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাকে রূপকার্থে 'ভূষণ্ডীর কাক' বলা হয়। এই বাগধারাটি সাধারণত এমন মানুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যারা অনেক বছর বেঁচে আছেন এবং জীবনে অনেক কিছু দেখেছেন, শিখেছেন ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
বাগধারাটির উৎপত্তি
এই বাগধারার উৎপত্তি হিন্দু পুরাণ থেকে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভূষণ্ডী ছিলেন একজন মহান ঋষি বা মুনি যিনি অত্যন্ত দীর্ঘজীবী ছিলেন। কোনো কোনো কাহিনীতে বলা হয়, তিনি 'কাকভূষণ্ডী' নামেও পরিচিত ছিলেন। পুরাণে উল্লেখ আছে যে তিনি কাকের রূপ ধারণ করে অসংখ্য যুগ ধরে বেঁচে ছিলেন এবং বিভিন্ন যুগের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
মহাভারত ও রামায়ণ যুগের ঘটনাও তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন বলে কাহিনীতে পাওয়া যায়। এমনকি তিনি একাধিক সৃষ্টি ও প্রলয় দেখেছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ দীর্ঘায়ু এবং অভিজ্ঞতার কারণে 'ভূষণ্ডীর কাক' কথাটি দীর্ঘজীবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ব্যবহারিক উদাহরণ
বাক্যে এই বাগধারা কীভাবে ব্যবহৃত হয় তা বোঝার জন্য কিছু উদাহরণ দেখা যাক:
উদাহরণ ১: "আমার দাদু এখন নব্বই বছর বয়সে পৌঁছেছেন। তিনি ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশ—তিনটি যুগই দেখেছেন। সত্যিই তিনি ভূষণ্ডীর কাকের মতো।"
উদাহরণ ২: "করিম সাহেব এই অফিসে ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন। ভূষণ্ডীর কাকের মতো তিনি এখানকার সব ইতিহাস জানেন।"
উদাহরণ ৩: "তুমি কি ভূষণ্ডীর কাক যে সব যুগের গল্প জানো?"
এই উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায় যে বাগধারাটি মূলত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল
ভূষণ্ডী নামক স্থানের নাম: এটি সম্পূর্ণ ভুল। ভূষণ্ডী কোনো স্থানের নাম নয়, বরং একজন পৌরাণিক চরিত্রের নাম। বাগধারায় স্থানের নাম ব্যবহার হলেও এখানে তা প্রযোজ্য নয়।
অনভিজ্ঞ ব্যক্তি: এটি সঠিক উত্তরের সম্পূর্ণ বিপরীত। ভূষণ্ডীর কাক মানে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি, অনভিজ্ঞ নয়। অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বোঝাতে বাংলায় 'কাঁচা হাত', 'আনাড়ি', 'নবীন' ইত্যাদি শব্দ বা বাগধারা ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজাতের কাক: যদিও এই বাগধারায় 'কাক' শব্দ আছে, তবে এর অর্থ বিশেষ কোনো প্রজাতির কাক নয়। এটি সম্পূর্ণ রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। পৌরাণিক গল্পে ঋষি ভূষণ্ডী কাকের রূপ ধারণ করেছিলেন বলে এই নামকরণ, কিন্তু বাগধারাটির মূল অর্থ ভিন্ন।
সাদৃশ্যপূর্ণ অন্যান্য বাগধারা
বাংলা ভাষায় আরও কিছু বাগধারা আছে যেগুলো অভিজ্ঞতা বা দীর্ঘায়ু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়:
গগনচুম্বী: অত্যন্ত উঁচু বা বিশাল (তবে এটি সরাসরি অভিজ্ঞতা বোঝায় না)
চোদ্দপুরুষ: বহু পুরনো বা প্রাচীন
কালের সাক্ষী: দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান থেকে ইতিহাসের সাক্ষী
তবে দীর্ঘজীবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি বোঝাতে 'ভূষণ্ডীর কাক' বাগধারাটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত।
বাগধারা বনাম প্রবাদ-প্রবচন
মনে রাখতে হবে যে বাগধারা এবং প্রবাদ-প্রবচন ভিন্ন জিনিস। বাগধারা হলো বিশেষ অর্থবোধক শব্দগুচ্ছ যার আক্ষরিক অর্থ এবং প্রকৃত অর্থ আলাদা। 'ভূষণ্ডীর কাক' একটি বাগধারা, কারণ এর আক্ষরিক অর্থ (ভূষণ্ডীর পোষা কাক) নয়, বরং রূপক অর্থ (দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি) বোঝানো হয়।
পরীক্ষায় আসার ধরন
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় বাগধারার অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়। 'ভূষণ্ডীর কাক' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। এছাড়া বাক্যে বাগধারা প্রয়োগ, সমার্থক বাগধারা খুঁজে বের করা, বা রচনায় বাগধারা ব্যবহারের দক্ষতাও যাচাই করা হয়।
মনে রাখার কৌশল
সহজ টেকনিক: ভূষণ্ডী = পুরাণের দীর্ঘজীবী ঋষি = কাকের রূপ = অনেক দিন বেঁচে থাকা = অভিজ্ঞতা অর্জন। তাই 'ভূষণ্ডীর কাক' মানে দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
আরেকটি উপায়: মনে করুন আপনার পরিচিত কোনো বয়স্ক ব্যক্তি যিনি অনেক কিছু দেখেছেন এবং জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাকে 'ভূষণ্ডীর কাক' বলা যায়। এভাবে বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ স্থাপন করলে মনে রাখা সহজ হবে।
চূড়ান্ত কথা
বাংলা ভাষার সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি বাড়ায় এই সব বাগধারা। 'ভূষণ্ডীর কাক' বাগধারাটি শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি আমাদের ভাষার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। পৌরাণিক গল্প থেকে উৎপন্ন এই বাগধারা আজও প্রাসঙ্গিক এবং দৈনন্দিন কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়।
পরীক্ষার জন্য শুধু এর অর্থ মুখস্থ করা নয়, বরং এর উৎস, ব্যবহার এবং প্রয়োগ বুঝলে যেকোনো ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
গুণহীনে ত্যাগ কর। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

