- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেড এ্যাপ্রোন্টিস পদের প্রশ্ন সমাধান [২৪.০১.২০২৬]
- বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬
- বাংলা
'সই কে শুনাইল শ্যাম নাম' কার উক্তি?
'সই কে শুনাইল শ্যাম নাম' এই বিখ্যাত পদটি বড়ু চণ্ডীদাসের রচনা। বাংলা সাহিত্যের বৈষ্ণব পদাবলীতে শ্রীকৃষ্ণের নামের প্রতি রাধার যে গভীর অনুরাগ ও ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে, এটি তারই একটি অনন্য উদাহরণ। এই পঙক্তিটির মাধ্যমে মূলত রাধার অন্তরের আকুতি এবং কৃষ্ণের প্রতি তাঁর প্রথম অনুরাগের প্রকাশ ঘটে।
মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস মূলত সহজিয়া প্রেম ও মানবিক অনুভূতির বর্ণনার জন্য বিখ্যাত। তাঁর কবিতায় কৃষ্ণের প্রতি রাধার যে টান দেখা যায়, তা কেবল ধর্মীয় ভক্তি নয়, বরং এক পরম মানবিক প্রেমের বহিঃপ্রকাশ। এই পদটিতে রাধা তাঁর সখীদের কাছে নিজের হৃদয়ের অস্থিরতা ব্যক্ত করছেন। কৃষ্ণ নামটি শোনার পর তাঁর মনে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তিনি সেটিই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কাছে এই নাম কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি তাঁর সত্তাকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক শক্তি।
রাধা এখানে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করছেন যে, এই মায়াবী নামটি তাঁর কানে কে প্রবেশ করাল। নামের গুণেই যদি তাঁর এমন দশা হয়, তবে সেই রূপের ছোঁয়া পেলে তাঁর কী অবস্থা হবে, সেই আশঙ্কাই ফুটে উঠেছে। চণ্ডীদাসের এই লেখনী এতটাই শক্তিশালী যে এটি পাঠ করলে কৃষ্ণের প্রতি রাধার সমর্পণ এবং বিচ্ছেদের বেদনা খুব সহজে অনুভব করা যায়।
বিদ্যাপতি বা জ্ঞানদাসও বৈষ্ণব পদাবলীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, কিন্তু এই বিশেষ পঙক্তিটি চণ্ডীদাসেরই নিজস্ব শৈলীর স্বাক্ষর বহন করে। তাঁর সহজ-সরল ভাষা এবং গভীর আবেগ এই পদটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সৃষ্টিতে পরিণত করেছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, চণ্ডীদাস এখানে প্রেমের এক বিশেষ স্তর বর্ণনা করেছেন যেখানে মানুষের কানে আসা একটি শব্দই তার সারা জীবনের ধ্যান ও জ্ঞানে পরিণত হতে পারে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

