- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৭
- বিসিএস ২০১৭
- নৈতিকতা
ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে-
ব্যক্তি সহনশীলতা বা সহমর্মিতা মূলত মানুষের মানসিক ও সামাজিক গুণাবলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বোঝায় যে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি, সংস্কৃতি বা ধর্মের মানুষদের সঙ্গে সহনশীলভাবে আচরণ করতে পারে এবং তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারে। সহনশীলতা অর্জন শুধুমাত্র জ্ঞানের কারণে নয়, বরং ব্যক্তির চারিত্রিক ও নৈতিক বিকাশের মাধ্যমে হয়।
প্রথমে, সুশাসনের শিক্ষা থেকে মানুষ শিখতে পারে যে একটি সমাজ শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মানুষকে সহনশীল হতে হয়। সুশাসন মানে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, বরং সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এই শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে যে অন্যের মতামত, চাহিদা ও অধিকারকে সম্মান করাই সমাজে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির মূল।
দ্বিতীয়ত, আইনের শিক্ষা ব্যক্তিকে শেখায় যে প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার ও দায়িত্ব সমান। আইন লঙ্ঘন করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, তাই মানুষ শেখে যে অন্যের অধিকার লঙ্ঘন না করে সহনশীল থাকা জরুরি। এটি সহনশীলতা ও ন্যায়বোধের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।
তৃতীয়ত, মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের চারিত্রিক বিকাশে সহায়ক। সততা, দয়া, ধৈর্য ও সমবেদনার মতো মূল্যবোধ ব্যক্তি সহনশীল হতে সাহায্য করে। যখন মানুষ নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুশীলন করে, তখন অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
শেষে, কর্তব্যবোধ মানুষকে শেখায় যে সমাজের একজন সদস্য হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। এই দায়িত্ব পালনের মধ্যে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা রয়েছে। নিজের কর্তব্য পালন করলে এবং অন্যের চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা মানলে সহনশীলতা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
সারসংক্ষেপে, সহনশীলতা মূলত মূল্যবোধের শিক্ষা ও কর্তব্যবোধ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্জিত হয়। যদিও সুশাসন ও আইনের শিক্ষা সহায়ক, তবে নৈতিক শিক্ষা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এই গুণটি বিকাশের মূল ভিত্তি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো-
সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে?
নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন

