- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেড এ্যাপ্রোন্টিস পদের প্রশ্ন সমাধান [২৪.০১.২০২৬]
- বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬
- বাংলা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল-
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকাল হলো ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম এই নিদর্শনটির বয়স এবং উৎস নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার গভীর গবেষণা এবং ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে চর্যাপদ সপ্তম শতাব্দীতেই লেখা শুরু হয়েছিল।
তার এই মতের পেছনে প্রধান যুক্তি ছিল পদকর্তাদের সময়কাল নির্ণয়। তিনি মনে করতেন চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি লুইপা ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ের মানুষ ছিলেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মূলত সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালকে চর্যাপদের রচনাকাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার এই গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সূচনা আরও কয়েকশ বছর পিছিয়ে যায় এবং এটি একটি মজবুত ভিত্তি পায়।
অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেক গবেষক মনে করেন চর্যাপদ ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত হয়েছে। সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা দশম শতাব্দীর আগেকার হওয়া সম্ভব নয়। এই দুই প্রথিতযশা পণ্ডিতের মতপার্থক্যের কারণে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে যদি প্রশ্নে সুনির্দিষ্টভাবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম উল্লেখ থাকে, তবে সঠিক উত্তর হবে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ। আর যদি ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নাম থাকে অথবা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য সময় জানতে চাওয়া হয়, তবে উত্তর হবে ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
এই সময়কাল নির্ণয় মূলত ভারতের পাল বংশীয় রাজাদের শাসনের ইতিহাস এবং পদকর্তাদের জীবনকালের সাথে সংগতি রেখে করা হয়েছে। শহীদুল্লাহর মতটি গ্রহণ করলে বাংলা সাহিত্যের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩৫০ বছরেরও বেশি হয়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

