- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেড এ্যাপ্রোন্টিস পদের প্রশ্ন সমাধান [২৪.০১.২০২৬]
- বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬
- বাংলা
'ক্রীতদাসের হাসি' কার রচনা?
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি কালজয়ী রচনা। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই রাজনৈতিক রূপক উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি। তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসন এবং আইয়ুব খানের একনায়কতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে লেখক এই অসাধারণ গল্পটি লিখেছিলেন। যদিও গল্পের পটভূমি হিসেবে তিনি প্রাচীন বাগদাদ শহর এবং খলিফা হারুন-অর-রশিদের সময়কালকে বেছে নিয়েছেন, কিন্তু এর মূল লক্ষ্য ছিল সমসাময়িক স্বৈরশাসনকে কটাক্ষ করা।
উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে হাবশি গোলাম তাতারী এবং তার প্রেমিকা মেহেরজানকে কেন্দ্র করে। খলিফা হারুন-অর-রশিদ প্রচুর ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হওয়া সত্ত্বেও মনে শান্তি পান না। তিনি যখন জানতে পারেন যে তার এক সাধারণ ক্রীতদাস তাতারী সারাক্ষণ হাসিখুশি থাকে, তখন তিনি অবাক হন। খলিফা সেই হাসি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান এবং তাতারীর হাসির রহস্য জানতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি তাতারীকে মুক্ত করে দেন, প্রচুর অর্থ দেন এবং সুন্দরী নারী উপহার দেন। কিন্তু বিড়ম্বনার বিষয় হলো, ক্ষমতার জোরে বা অর্থের বিনিময়ে মানুষের মনের স্বতঃস্ফূর্ত হাসি কেনা যায় না।
শওকত ওসমান এই বইটির মাধ্যমে খুব সহজ একটি সত্য তুলে ধরেছেন। মানুষের স্বাধীনতা ও মনের আনন্দ কোনো বস্তু নয় যে তা জোর করে কেড়ে নেওয়া যাবে। তাতারী যখন তার প্রেমিকা মেহেরজানকে হারায় এবং বন্দি অবস্থায় থাকে, তখন সে খলিফার শত আদেশ সত্ত্বেও আর হাসতে পারে না। জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশেও তাতারীর সেই প্রাণখোলা হাসি স্তব্ধ হয়ে যায়। লেখক এখানে স্পষ্ট করেছেন যে, স্বৈরশাসক মানুষের দেহকে বন্দি করতে পারলেও তার আত্মাকে শাসন করতে পারে না। শওকত ওসমান তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। এই রচনার জন্য তিনি ১৯৬৩ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

