- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেড এ্যাপ্রোন্টিস পদের প্রশ্ন সমাধান [২৪.০১.২০২৬]
- বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬
- বাংলা
'পদ্মাবতী' কি ধরনের গ্রন্থ?
আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' মূলত একটি প্রেমাখ্যান বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এটি একটি অসাধারণ সৃষ্টি। ১৬৪৮ সালের দিকে আরাকান রাজসভার প্রভাবশালী অমাত্য মাগন ঠাকুরের অনুরোধে কবি আলাওল এই কাব্যটি রচনা করেন। তবে এটি কোনো মৌলিক কাহিনী নয়। মালিক মুহম্মদ জায়সী রচিত হিন্দি কাব্য 'পদুমাবত' অবলম্বনে আলাওল এটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। কিন্তু কবির নিজস্ব কবিত্বশক্তি ও মৌলিক অলংকারের ছোঁয়ায় এটি নিছক অনুবাদ না হয়ে একটি উন্নত মানের সাহিত্যকর্মে পরিণত হয়েছে।
এই গ্রন্থটিকে কেন প্রেমাখ্যান বলা হয় তার পেছনে শক্ত কারণ রয়েছে। কাব্যটি চিতোরের রাজা রত্নসেন এবং সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম, বিচ্ছেদ এবং মিলনের কাহিনী নিয়ে রচিত। হীরামন নামের একটি শুকপাখির মুখে পদ্মাবতীর রূপের বর্ণনা শুনে রাজা রত্নসেন তার প্রেমে পড়েন এবং তাকে পাওয়ার জন্য সন্ন্যাসী সেজে সিংহলে যাত্রা করেন। তাদের এই প্রেম কাহিনীর প্রতিটি বাঁকে যেমন বিরহ আছে, তেমনি আছে রোমাঞ্চকর অভিযানের বর্ণনা। মধ্যযুগের অন্য অনেক কাব্যের মতো এটি কেবল দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য লেখা হয়নি, বরং মানুষের আবেগ ও ভালোবাসাকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
গ্রন্থটি মূলত একটি রূপক ধর্মী কাব্য। কাব্যের শেষে কবি নিজেই জানিয়েছেন যে, চিতোর হলো দেহ, রাজা হলো মন, সিংহল হলো হৃদয় আর পদ্মাবতী হলো প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি। আধ্যাত্মিক দিক থেকে বিচার করলে এটি স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার প্রেমেরই একটি প্রতিফলন। তবে সাধারণ পাঠকের কাছে এটি মানুষের চিরন্তন প্রেমের এক অনন্য দলিল। কাহিনী বিন্যাস, চরিত্রের গভীরতা এবং ভাষার সাবলীলতার কারণে 'পদ্মাবতী' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক কাব্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

