- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালি
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শতধাবিচ্ছিন্ন ইতালি ভিয়েনা চুক্তির (১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দ) শর্তাদি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধ হয়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ঐক্য হলেও জাতীয় জীবনে কোনো প্রকার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করা ইতালির পক্ষে সম্ভব হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ হলেও বিভিন্ন অংশের স্থানীয় স্বার্থপরতা ও প্রাদেশিক মনোবৃত্তি ইতালীয় জাতির দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে অন্তরায় ছিল। জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাদের মধ্যে ছিল অনুপস্থিত। ইতালীয়রা অধিকাংশই ছিল অশিক্ষিত ও হুজুগপ্রিয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকরী করার মতো অধ্যবসায়, বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষতা তাদের মধ্যে ছিল না।
জাতির এরূপ অক্ষমতার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কুফল যোগ হওয়ার ফলে ইতালিতে এক দারুণ অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির যে স্বার্থনাশ হয়েছিল, সে তুলনায় প্যারিসের শাস্তি সম্মেলন থেকে প্রাপ্তি ছিল যৎসামান্য। ফলে শাস্তি সম্মেলন কর্তৃক স্থাপিত ব্যবস্থা ইতালীয়দের মনে অসন্তোষের জন্ম দেয়। ইতালীয়দের এরূপ মনোভাবের ফলে যুদ্ধোত্তর সমস্যাপ্রসূত অভাব-অনটন, বেকারত্ব ও আর্থিক দুরবস্থা সমগ্র ইতালিতে এক অরাজকতার সৃষ্টি করে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট লেগেই থাকত। এরূপ পরিস্থিতিতে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ প্রচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।
রাশিয়ার ন্যায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দ্বারা ইতালীয়রা মুক্তি পাবে- এরূপ ধারণা তাদের মনে জাগরিত হতে থাকে। এ সময়ের স্লোগান ছিল 'লেনিন দীর্ঘজীবী হোন', 'রাজার পতন হোক' ইত্যাদি। বিপ্লবী পন্থায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র স্থাপনের আগ্রহ সর্বত্র পরিলক্ষিত হতে থাকে। কৃষকরা বহু স্থানে জমিদারের জমি দখল করে নেয়, জমিদারের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। শিল্পপতিরা মজুরি হ্রাসের দাবি অথবা শ্রমিকদের অধিক সময় কাজ করার কথা ব্যক্ত করে। এরূপ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো এলাকায় শ্রমিকরা শিল্পকারখানা পরিচালনার ভার নিজেরা গ্রহণ করে। কিছুদিন পরেই তারা বুঝতে পারে, জোর-জবরদস্তি করে এগুলো দখল যত সহজ, পরিচালনা ততটা সহজ নয়। অনভিজ্ঞ কৃষক ও মজদুররা বুঝতে পারল যে, কৃষক-মজদুরের সরকার স্থাপন ও পরিচালনা সহজ বিষয় নয়।
প্রচলিত সংসদীয় শাসনব্যবস্থা যেমন দেশের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়নি, 'কৃষক-মজদুরের পরিচালিত সরকারও শাসনকার্যে অনুরূপ সক্ষম হবে না। এ উপলব্ধি থেকেই ইতালীয়রা পুনরায় একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। শিক্ষিত শ্রেণি ও যুবসমাজ ইতালির অভ্যন্তরীণ অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। তারা সরকারের আমূল পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেয়। নতুন শাসনব্যবস্থায় দেশ পরিচালিত হোক, এ রকম আকাঙ্ক্ষা সেনাবাহিনীর মধ্যে জাগরিত হয়। এরূপ পরিস্থিতি ও পটভূমিকায় ফ্যাসিস্ট দলের উত্থান অতি সহজ হয়। জাতীয় জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করার ও শাসনব্যবস্থায় সংহতি আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজনৈতিক মঞ্চে ফ্যাসিবাদের উদ্যোক্তা মুসোলিনির আবির্ভাব ঘটে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

