• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ (ইউরোপের প্রথম রণাঙ্গন)

জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের (১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর) মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক মাসের মধ্যে হিটলার পোল্যান্ড অধিকার করে নেন। এরপর জার্মানি ডেনমার্ক ও নরওয়ে অধিকার করে। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে হিটলার লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম ও হল্যান্ড আক্রমণ করেন। ভার্সাই সন্ধিতে যে সকল স্থান বেলজিয়ামকে দেওয়া হয়েছিল জার্মানি তা দখল করে। হল্যান্ডকে পদানত করে হিটলার অতর্কিতে ফ্রান্স আক্রমণ করেন। হিটলারের আক্রমণে মিত্রবাহিনী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ২৭শে মে থেকে ৪ঠা জুনের মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষ মিত্রসেনাকে ফ্রান্সের ডানকার্ক বন্দর থেকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। অপ্রতিহত গতিতে অগ্রসর হয়ে জার্মানি সমগ্র উত্তর ফ্রান্স অধিকার করে। এদিকে, ইতালির মুসোলিনিও মিত্রপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং ইতালিসংলগ্ন ফ্রান্সের কিছু এলাকা দখল করে নেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের কাছে জার্মানির পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই নভেম্বর) ক্যাম্পেইন-এর বনাঞ্চলে যে রেলগাড়ির মাধ্যমে জার্মান প্রতিনিধিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়েছিল, হিটলারের নির্দেশে সেই রেলগাড়ির কামরাটি আনা হয় এবং ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে জুন কামরার অভ্যন্তরে ফরাসি প্রতিনিধিগণ হিটলারের উপস্থিতিতে জার্মান সেনাপতি কাইটেলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। দক্ষিণ ফ্রান্সের কিছু অংশে জার্মানির তাঁবেদার ফরাসি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোপে হিটলারের অপ্রতিহত অগ্রগতি চলতে থাকে। এর পরের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল ব্রিটেন। এরূপ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ জনমতের চাপে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইন পদত্যাগ করলে উইনস্টন চার্চিল নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সম্ভাব্য জার্মান আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে সমুদ্র উপকূলের বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেন। ব্রিটেনে বাধ্যতামূলক সামরিক বৃত্তি চালু করেন। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর পাল্টা আক্রমণের মুখে হিটলারের ব্রিটেন আক্রমণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হিটলার ইংরেজদের আফ্রিকায় জব্দ করার চেষ্টা করেন। ইতালি ব্রিটিশ সোমালিল্যান্ড অধিকার করে। তারা মিশর ও সুয়েজ খাল দখল করে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রাধান্য খর্ব করার চেষ্টা করে। জার্মান সেনাপতি রোমেল এক দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী নিয়ে মিশরের উদ্দেশে রওনা হন। ইংরেজ সেনাপতি ওয়াভেল ইতালির অগ্রগতি রোধ করেন এবং আবিসিনিয়া দখল করে নেন। বলকান অঞ্চলে ইতালি গ্রিস আক্রমণ করলে ব্রিটেন গ্রিসের সাহায্যে এগিয়ে আসে। বুলগেরিয়া তার হারানো অঞ্চল ফিরে পাওয়ার জন্য জার্মানি ও ইতালির পক্ষে যোগ দেয়। যুগোশ্লাভিয়া জার্মানির অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ক্রমে জার্মানি গ্রিস ও যুগোশ্লাভিয়া দখল করে নেয়।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ