- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
মুসোলিনির ক্ষমতা দখল
ফ্যাসিবাদের প্রবর্তক বেনিতো মুসোলিনির জন্ম হয় ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর ইতালিতে। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। দেশে ফিরে তিনি সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দেন এবং ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে অভান্তি (Avanti) নামে একটি সমাজতন্ত্রী পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির যোগদান সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে তিনি পার্টি ও পত্রিকা থেকে বহিষ্কৃত হন। এ সময় নিজে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে ইতালির যুদ্ধে যোগদানের পক্ষে জনমত গঠন করতে থাকেন। এ সময় তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দিতে থাকেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে মিলান শহরে যুদ্ধফেরত সৈনিক ও বেকার যুবকদের এক সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলন থেকে এক আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন, যার নাম দেন 'ফ্যাসিস্ট'। ফ্যাসিস্ট শব্দটি মূলত ল্যাটিন 'Fascio' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো বল বা শক্তি। আবার এর অন্য অর্থ হচ্ছে আঁটি বা গুচ্ছ। দলের নামকরণের মাধ্যমে মুসোলিনি সকলকে বুঝিয়ে দেন যে, তার দল শক্তি বা বল দ্বারা পরিচালিত হবে। ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিতো মুসোলিনির মতবাদই ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিবাদ হলো একটি স্বতন্ত্র বিশ্বাস। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে ব্যক্তিসত্তার কোনো মূল্য নেই। রাষ্ট্র জাতি ও সমাজ থেকে অভিন্ন এক সংগঠন। ফ্যাসিবাদের মূলমন্ত্র হলো 'রাষ্ট্রই সকল ক্ষমতার আধার'। ফ্যাসিবাদের মূল লক্ষ্য ছিল-হলো।
১. ইতালির প্রাচীন ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার;
২. রাষ্ট্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করা;
৩. সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা;
৪. ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা করা;
৫. অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা প্রতিষ্ঠা করা;
৬. একটি আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা।
মুসোলিনি ফ্যাসিবাদী আন্দোলনকে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ফ্যাসিবাদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। যুবসমাজ ও যুদ্ধফেরত সৈনিকরা ফ্যাসিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ফ্যাসিবাদকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইতালির বৃহৎ পুঁজিপতিরা বিপুল অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের ভিতকে মজবুত করতে থাকেন। যেকোনো আন্দোলন দমন করার জন্য ফ্যাসিস্টদের ব্যবহার করা হয়। ফ্যাসিস্টরা মিত্রশক্তি কর্তৃক প্রতিশ্রুত ফিউম বন্দর ইতালিকে না দেওয়ার বিষয়টিকে প্রচারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কাজে লাগিয়ে তারা শিক্ষিত বেকার, শ্রমিক ও ক্ষেতমজুরদের সমর্থন লাভে সক্ষম হয়। মুসোলিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে মুক্ত করবেন এবং কমিউনিজম দূর করবেন। মুসোলিনি ফ্যাসিবাদের সমর্থক অর্থাৎ ফ্যাসিস্টদের কালো পোশাকে সজ্জিত ও সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলেন। যার ফলে ফ্যাসিস্টদের মধ্যে সৈনিকসুলভ মনোবৃত্তি ও যুদ্ধস্পৃহা বৃদ্ধি পায়। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ফ্যাসিস্টরা গ্রাম ও শহরে অবস্থিত তাদের বিরোধী শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের বাড়িঘর আক্রমণ করতে থাকে। বাম সংগঠনগুলোর অফিস তছনছ ও পত্রিকার অফিসে হামলা চালনো শুরু করে। সমাজতন্ত্রীদের বিভিন্ন সভা-সমিতি আক্রমণ করে ভেঙে দেওয়া হয়। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফ্যাসিস্টরা ৩৫টি আসন লাভ করে। মুসোলিনি বুঝতে পারেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন। ফলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলের কাছে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানান এবং রোম অভিযানের হুমকি দেন। ইতিমধ্যে মুসোলিনি তার হাজার হাজার ফ্যাসিস্ট সমর্থক নিয়ে রোমের উদ্দেশে যাত্রা করলে রাজা ভয় পেয়ে যান। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে অক্টোবর রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল মুসোলিনিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। মুসোলিনি ফ্যাসিস্ট পোশাক পরিহিত (কালো জামা ও টুপি) অবস্থায় রোমের সরকারি প্রাসাদে প্রবেশ করেন। এভাবে বল ও শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ইতালিতে ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতা দখল করে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

