- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
মুসোলিনির একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
মুসোলিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও এককভাবে দেশ পরিচালনার মতো রাজনৈতিক শক্তি তার দলের ছিল না। তাই তিনি কিছুদিন লিবারেল শক্তির সাথে যৌথভাবে সরকার পরিচালনা করেন। তার গঠিত প্রথম সরকারেই তিনি বেশ কিছুসংখ্যক পরিচিত রাজনীতিবিদকে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানান। এরা উদার বুর্জোয়া ও ক্যাথলিকবাদী ছিলেন। তিনি রাজতন্ত্রও অব্যাহত রাখেন। যদিও রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল নামে মাত্র রাজা ছিলেন। তার নির্বাহী কোনো ক্ষমতা ছিল না। ধীরে ধীরে ইতালিতে ফ্যাসিস্ট একনায়কতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে নতুন নির্বাচনি আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন নিয়মানুযায়ী নির্বাচনে আপেক্ষিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দলের জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন লাভ করার বিধান করা হয়। বিরোধীদের জন্য প্রচারণার কোনো সুযোগ না রেখে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় সন্ত্রাসী পরিবেশে।
ফ্যাসিস্টরা নিজেদের পক্ষে ৪৩ মিলিয়ন ভোট সংগ্রহ করে, যা বিরোধীদের চেয়ে ৮ মিলিয়ন বেশি। সংসদের অধিবেশন বসলে বিরোধীরা সরকারের ফ্যাসিস্ট চরিত্র উন্মোচনের চেষ্টা করে। বিরোধী সমাজতন্ত্রী নেতা মাত্তেওতি এক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করলে ১০ই জুন ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে ফ্যাসিস্ট দুমিনির নেতৃত্বে তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুসোলিনি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা জানুয়ারি সংসদে সকল ক্ষমতা ফ্যাসিবাদীদের দিতে হবে বলে স্লোগান দেন। গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে বিক্ষোভ, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সকল বিরোধী দল, তাদের সংগঠনের মুখপত্র, পত্র-পত্রিকা, সরকারবিরোধী যেকোনো ব্যক্তি ও সংস্থাকে বিচারের সম্মুখীন করা ইত্যাদি সম্পর্কে জরুরি ফ্যাসিস্ট আইন ঘোষিত হয়। ইতালিকে সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়। বিরোধীদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়। অনেকেই দেশত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীকালে জার্মানিতে হিটলারের ক্ষমতায় আরোহণ ও দেশি-বিদেশি বন্ধুলাভের ফলে তার শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়, যা ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
গণতান্ত্রিক সরকারের ব্যর্থতার ফলে ইতালির জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে হতাশার প্রতিফলন হচ্ছে ফ্যাসিবাদের উত্থান। আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট, প্যারিস শান্তি সম্মেলন থেকে শূন্যহাতে ফিরে আসা এবং বুর্জোয়া শ্রেণির কমিউনিজমভীতি- এসবের সুযোগ গ্রহণ করেছিল ফ্যাসিস্টরা। তারা মানুষের সমর্থনলাভের জন্য রাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, ক্যাথলিকবাদ, নাস্তিকতা- যখন যেখানে যা প্রয়োজন তা-ই ব্যবহার করে। মুসোলিনি উদ্দেশ্য ও স্বার্থ হাসিলের জন্য নীতিবিবর্জিত, বিবেকশূন্য মানুষে পরিণত হন। মুসোলিনির এ বহুরূপী চরিত্র তুলনামূলকভাবে অনুন্নত রাজনীতিচর্চার দেশ ইতালির মানুষের কাছে দীর্ঘদিন অস্পষ্ট থেকে যায়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

