• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ

১। জার্মানির উগ্র জাতীয়তাবাদ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনেক কারণের সমন্বয়ের ফলে সংঘটিত হয়। এর মধ্যে জার্মানির উগ্র জাতীয়তাবাদ ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। আর উগ্র জাতীয়তাবাদের বীজ নিহিত ছিল ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদির মধ্যে। ভার্সাই সন্ধির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানিকে নিরস্ত্র করে তাকে তার শত্রুর সামনে অসহায় অবস্থায় রাখা হয়। মিত্রপক্ষ পরাজিত জার্মানির সব উপনিবেশ কেড়ে নেয় এবং তার উপর এক বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তাকে আর্থিক দৈন্যের মধ্যে ঠেলে দেয়। জার্মানির কোনো বক্তব্য ও আরজি না শুনেই তাকে প্রচুর অপদস্থ ও হেনস্তা করার ব্যবস্থা করা হয়। সবদিক দিয়ে জার্মানিকে পঙ্গু ও দুর্বল করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর এরূপ দুরবস্থায় পরাজিত জার্মানরা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়নি, বরং পরাজয়ের গ্লানি ও মিত্রশক্তির অপমানজনক আচরণ তাদের মনে এক অভূতপূর্ব আত্মচেতনা ও জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। জার্মানরা ভার্সাই সন্ধি কখনো মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।

১৯২৪-২৫ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানিতে এক দারুণ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সরকারের প্রতি জার্মানদের আস্থা হ্রাস পায় এবং নাৎসি দলের নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সমরবাদের সৃষ্টি হয়। নাৎসি আন্দোলন জার্মান জাতির মনে এক নতুন আশার সৃষ্টি করে এবং এক নতুন পথের সন্ধান দেয়। হিটলার নাৎসি দলের নেতা হিসেবে জার্মানির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জার্মানির আত্মনিয়ন্ত্রণের ও জাতীয়তাবাদের দাবির কথা ঘোষণা করলে জার্মানদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রবল আকার ধারণ করে। জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ডের জার্মান ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে জার্মানির অন্তর্ভুক্ত করতে চেষ্টা করলে ইউরোপের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সংকটের সূত্রপাত হয়। জার্মানির সামরিক প্রস্তুতি এবং জার্মানি কর্তৃক একে একে রাইন অঞ্চল, অস্ট্রিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া বলপূর্বক দখল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের পথকে সুগম করে দেয়।

২। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী নীতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী নীতি আরেকটি প্রধান কারণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই জার্মানি, রাশিয়া, ইতালি ও জাপান ঔপনিবেশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির উপনিবেশগুলো কেড়ে নিয়ে সেগুলো ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জার্মানির উপনিবেশগুলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও আমেরিকার মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তখন বিশ্বের অধিকাংশ কাঁচামাল ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার করতলগত হয় এবং এতে জার্মানি, জাপান, ইতালি বঞ্চিত হয়। ফলে বঞ্চিত তিন শক্তি বিশ্বে উপনিবেশ স্থাপনে আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করে। তদুপরি জার্মানি অতিমাত্রায় পররাজ্য গ্রাসে আগ্রহী হয়ে ওঠে। হিটলারের নেতৃত্বে মধ্য ইউরোপ গঠন, হস্তচ্যুত উপনিবেশগুলো আদায় এবং পূর্ব ইউরোপে অগ্রসর হয়ে উর্বরশীল রুশ-ইউক্রেন দখল করতে জার্মানরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়।

অন্যদিকে রাশিয়া ক্ষুদ্র বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো ও দক্ষিণ ফিনল্যান্ড কুক্ষিগত করতে এবং বলকানের ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করার পরিকল্পনা নেয়। উপনিবেশ স্থাপনের ব্যাপারে ভার্সাই সন্ধি ইতালিকে হতাশ করে। ইতালি পূর্ব আড্রিয়াটিক উপকূল, ফরাসি উপনিবেশ আবিসিনিয়া এবং ফরাসি 'বন্দর জিবুতি দখলে আনতে চায়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে হল্যান্ডের আধিপত্য খর্ব করে সেখানে নিজের' প্রভাব স্থাপন করতে ইতালি আগ্রহী হয়ে ওঠে। সুদূর প্রাচ্যে জাপানও এশিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে বিতাড়িত করে সমস্ত এশিয়ায় নিজের প্রভুত্ব স্থাপন করতে উদ্যোগ, নেয়। ইতালি ইথিওপিয়া আক্রমণ এবং জাপান মাঞ্চুরিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের উগ্র সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের পরিচয় দেয়। বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের চরম সাম্রাজ্যবাদী নীতি বিশ্বকে উত্তেজিত করে তোলে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।

৩। ফ্যাসিস্ট তোষণনীতি: জার্মানি যখন নাৎসি দলের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে ক্রমেই ভার্সাই চুক্তির শর্তাদি লঙ্ঘন করতে থাকে, সে সময় ইঙ্গ-ফরাসি সরকারদ্বয় দুর্বলতা দেখালে নাৎসিদের সাহস ও আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানি রাইন নদীর তীরবর্তী নিরপেক্ষ অঞ্চল দখল করলেও ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড প্রকাশ্যে এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাছাড়া জাপানের সাথে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর এবং জার্মানির সাম্যবাদবিরোধী প্রচারকার্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স অনেকটা প্রীতির চোখে দেখে। যুদ্ধের পূর্বে জার্মানি, ইতালি ও জাপান কর্তৃক বিভিন্ন অঞ্চল দখলের বিরোধিতা না করায় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। জার্মানির প্রতি ইঙ্গ-ফরাসি তোষণনীতি হিটলারকে আগ্রাসী করে তোলে।

৪। ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান: ইউরোপীয় রাজনীতিতে ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের অনেক রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দ্বারা নিজেদের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অকার্যকারিতার ফলেই অনেক দেশে একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মুসোলিনি ইতালিতে ক্ষমতা দখল করেন। মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালি ছিল একটি চরম ফ্যাসিবাদী শক্তি। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও আন্তর্জাতিক মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিবাদী নীতির বাস্তবায়নই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। মুসোলিনি কর্তৃক ইথিওপিয়া বা আবিসিনিয়া দখল, স্পেনের গৃহযুদ্ধে যোগদান, লীগ অব নেশনসের সাথে অসহযোগিতা, লীগ থেকে ইতালিকে প্রত্যাহার এবং আলবেনিয়া দখল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করে।

৫। স্পেনের গৃহযুদ্ধ স্পেনের গৃহযুদ্ধ ও ফ্যাসিস্ট শক্তির ঐক্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। এ গৃহযুদ্ধে পরস্পরবিরোধী শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ১৯৩৬-৩৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়। অন্য সময় 'কী হতো বলা যায় না, কিন্তু তৎকালীন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এ গৃহযুদ্ধ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এর কারণ হলো, ইউরোপের অধিকাংশ বৃহৎ শক্তি স্পেনের অভ্যন্তরে সংঘটিত এ ব্যাপারটির সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ গৃহযুদ্ধের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। E. H. Carr-এর ভাষায়, স্পেনের গৃহযুদ্ধ ইউরোপীয় গৃহযুদ্ধের অনেকগুলো আকৃতি ধারণ করে, যদিও তা স্পেনের মাটিতে সংঘটিত হয়। এ গৃহযুদ্ধ একদিকে যেমন ইউরোপে আরেকটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তেমনি অন্যদিকে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া নামে খ্যাত স্পেনের গৃহযুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬। একনায়কতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল একনায়কতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব। পৃথিবীর উন্নত ও প্রধান শক্তিগুলো তখন এ দুই পরস্পরবিরোধী আদর্শের ভিত্তিতে দুটি বিরোধী শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। জার্মানি, ইতালি, জাপান ইত্যাদি অক্ষশক্তি একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদের ধারক ছিল। আর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা ছিল গণতন্ত্রের সমর্থক। সাম্যবাদী সোভিয়েত রাশিয়ার পরিস্থিতি ছিল অন্যরূপ। গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উভয়ই ছিল রাশিয়ার সাম্যবাদের শত্রু। এ পরিস্থিতিতে ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই বিশ্বে দুটি সামরিক জোট গড়ে ওঠে। একদিকে অপরিতৃপ্ত জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মধ্যে 'বার্লিন-রোম-টোকিও' ঐক্য গঠন এবং অপরদিকে মিত্র রাষ্ট্রবর্গের চুক্তি প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেয়। তাই জার্মানি কর্তৃক আক্রান্ত পোল্যান্ডকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সমর্থন জানালে সে মুহূর্তেই বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়া আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে আসন্ন বিপদ এড়াতে জার্মানির সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তি করে কিছুকাল যুদ্ধ থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু শেষে একনায়কতন্ত্রের আগ্রাসী আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে সোভিয়েত রাশিয়া গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের (মিত্রপক্ষ) পক্ষে যুদ্ধে যোগদান করতে বাধ্য হয়।

মিত্রপক্ষেরও তখন রাশিয়ার সাহায্য ও সমর্থন একান্ত প্রয়োজন ছিল। সুতরাং দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে বিশ্ব প্রধানত গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের আদর্শগত দ্বন্দ্বে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। এ আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও শিবিরে বিভক্তিই যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।

৭। ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলোর আগ্রাসন: ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলোর আগ্রাসন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। ইতালিতে ফ্যাসিস্ট, জার্মানিতে নাৎসি ও জাপানে জঙ্গিবাদের অভ্যুত্থান ভ্যুত্থান বিশ্বশান্তিকে বিপন্ন করে তোলে। ইতালি কর্তৃক আবিসিনিয়া দখল এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ ও আলবেনিয়া অধিকার আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত করে। জাপান কর্তৃক ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল এবং ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার চীন আক্রমণ এশিয়ার শান্তি বিঘ্নিত করে। এ শক্তিগুলোকে অনুসরণ করে নাৎসি জার্মানি ইউরোপে ব্যাপক আকারে আগ্রাসন শুরু করে। হিটলার কর্তৃক চেকোস্লোভাকিয়া দখল ছিল আগ্রাসনের চরম নজির।

৮। কমিউটার্নবিরোধী ঐক্য ও অক্ষশক্তির সৃষ্টি: ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে জার্মানি ও জাপানের মধ্যে কমিউটার্নবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিটি ছিল ফ্রাংকো-সোভিয়েত চুক্তির বিরোধিতার ফল। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ইতালি এতে যোগদান করে। এর ফলে পৃথিবীর অনেকটা অংশ আবার দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে; যার একদিকে ছিল সংশোধনবাদী শক্তিসমূহ- জার্মানি, জাপান ও ইতালি, যা পরবর্তীকালে অক্ষশক্তি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে বার্লিন-রোম-টোকিও জোট গঠিত হলে বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে।

৯। মস্কো-বার্লিন অনাক্রমণ চুক্তি: পোল্যান্ড আক্রমণ করলে যাতে জার্মানিকে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে না হয়, সেজন্য হিটলার ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে আগস্ট রাশিয়ার সাথে দশ বছরব্যাপী একটি অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। রাশিয়ার প্রতি পশ্চিমা শক্তির ক্রমাগত বিরুদ্ধাচরণ এবং রাশিয়ার সে মুহূর্তে জার্মানির সঙ্গে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা হিটলারকে চুক্তি স্বাক্ষরে সাহায্য করেছিল। মস্কো-বার্লিন অনাক্রমণ চুক্তির ফলে জার্মানির দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করার আশঙ্কা দূর হওয়ায় পোল্যান্ড আক্রমণ সহজতর হয়।

১০। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সংকট: ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট ক্রমাগত বিশ্বশান্তি ব্যাহত করে। জাপান ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে মাঞ্চুরিয়া এবং ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে চীন আক্রমণ করলে লীগ অব নেশনস জাপানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ত, ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানি ভার্সাই সন্ধি ও লোকার্নো চুক্তি অগ্রাহ্য করে রাইন অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও লীগ অব নেশনস এক্ষেত্রে কোনোরূপ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নীরব ভূমিকা পালন করে। তৃতীয়ত, ইতালি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ইথিওপিয়া এবং ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে আলবেনিয়া জোরপূর্বক দখল করলে লীগ অব নেশনস ইতালিকে তার আগ্রাসী নীতি থেকে নিরস্ত করতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং আন্তর্জাতিক সংকটে লীগ অব নেশনস আপস নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে এর কার্যকারিতা হ্রাস পায়। ফলে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে আর কোনো বাধা থাকল না।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ