- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
মিত্রশক্তি জোট Allied Force
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নানা পটভূমিকায় যে ঐক্য গড়ে ওঠে তা 'মিত্রশক্তি জোট' নামে পরিচিত, যা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্বকালীন সৃষ্ট 'ত্রিশক্তি আঁতাত'-এর বর্ধিত রূপ। মূলত অক্ষশক্তির আগ্রাসনমূলক ভীতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মিত্রশক্তি জোটের উদ্ভব হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক সংকট ক্রমাগত বিশ্বশান্তি ব্যাহত করে। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র তাদের নিজ নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে জোটবদ্ধ হয়। একক কোনো সন্ধি চুক্তি দ্বারা এ মিত্রশক্তি জোটের সৃষ্টি হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, আবার কখনো ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এ জোট সৃষ্টির সূচনা করে। যেমন- ইঙ্গ-ফরাসি মৈত্রী জোট হয় মূলত ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের আগ্রাসন থেকে বাঁচার অভিপ্রায় নিয়ে।
ইঙ্গ-ফরাসি মৈত্রী জোট ইতালি ও জার্মানির আগ্রাসননীতির বিরুদ্ধে শুধু নীরব দর্শকই ছিল না, তোষণনীতি গ্রহণ করে। যার দরুন জার্মানির ঔদ্ধত্য আরও বাড়ে। এ রকম পটভূমিকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিত্র খুঁজতে শুরু করে। ক্ষুদ্র আঁতাতের রাষ্ট্রগুলো ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে পাশে না পেয়ে সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করে। পোল্যান্ডের সাথেও তারা মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পারস্পরিক জোটবদ্ধ হয়। শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক তৎপরতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে কাছে আনে। হিটলারের ক্ষমতা লাভের পর যুক্তরাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক রাশিয়াকে সমর্থন দিলে সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের মিলন হয়। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, অথচ হিটলার এ চুক্তি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়া আক্রমণ করে বসেন। ফলে রাশিয়া-ইংল্যান্ড মৈত্রী জোটের উদ্ভব হয়। এ জোট যুগ্মভাবে জার্মানির আক্রমণ প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
এদিকে পূর্বেই রাশিয়া ফ্রান্সের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। ফলে ইউরোপে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সাথে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার মিত্রের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এদিকে দূর প্রাচ্যে জাপানের নৌ-শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং জাপান জার্মানি ও ইতালির সাথে মিত্রতা বন্ধনে আবদ্ধ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সহায়ক শক্তি ছিল। তাই জাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রান্ত হলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পাশে এসে দাঁড়ায়। এভাবে দেখা যায় সময় বাড়ার সাথে সাথে মিত্রশক্তির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। এরূপ নানা জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মিত্রশক্তি জোটের আত্মপ্রকাশ। এ জোটের উদ্দেশ্য ছিল হিটলার ও মুসোলিনির আগ্রাসন থেকে বিশ্বকে মুক্ত রাখা।
উদ্দেশ্য মহৎ ছিল বলে এ জোটকে মহৎ মৈত্রী শক্তিও বলা হয়। রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এটা ছিল অক্ষশক্তির বিপরীত রাজনৈতিক ও সামরিক জোট। মূলত মিত্রজোটের নেতৃত্বে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ প্রভৃতি দেশ ছিল মিত্র জোটের সহযোগী রাষ্ট্র।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

