- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণ
নানা কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজয় বরণ করে। যেমন:
জার্মান সেনাপতিদের অসহযোগিতা হিটলারের প্রতি জার্মান সেনাবাহিনীর নিরঙ্কুশ সমর্থনের অভাব জার্মানির পরাজয়ের একটি কারণ। সেনাপতিদের প্রতি হিটলারের সন্দেহ ও অবিশ্বাস জার্মান শক্তি বৃদ্ধির অন্তরায় ছিল। তার একচ্ছত্র আধিপত্য ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জার্মান সেনাপতিরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তার নাৎসি সরকারের প্রতি গণসমর্থন খুব জোরালো ছিল না; যা তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
সামরিক উপকরণ, জনশক্তি ও সম্পদের অপ্রতুলতা জার্মানি সামরিক উপকরণ, জনশক্তি ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল না। যুদ্ধের প্রথম দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সমরাস্ত্রে সজ্জিত না থাকায় জার্মানি সাফল্য পায়। কিন্তু যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সমরাস্ত্রে সমৃদ্ধ হলে জার্মানি আর পেরে ওঠেনি।
ত্রুটিপূর্ণ সামরিক কৌশল জার্মানির সামরিক কৌশল ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফ্রান্সের পরাজয়ের পর হিটলারের রাশিয়া আক্রমণ যুক্তিযুক্ত হয়নি। তার সেনাপতিদের মতামত উপেক্ষা করে রাশিয়া আক্রমণ করেন বিধায় তিনি সাফল্য লাভ করতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে রাশিয়া আক্রমণই হিটলারের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং তার পতন ত্বরান্বিত করেছিল।
জার্মানির মিত্রদের অসহযোগিতা দুর্যোগের সময়ে অক্ষশক্তির সদস্যরা জার্মানিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করেনি। ফিনল্যান্ড, রুমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া সকলেই জার্মানির পক্ষ ত্যাগ করে মিত্রপক্ষের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরম মিত্র ইতালি যুদ্ধের শেষের দিকে জার্মানির বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিমধ্যে মুসোলিনির মৃত্যু হলে হিটলার দুর্বল হয়ে পড়েন। স্পেনের ফ্রাংকো প্রয়োজনের সময় সর্বশক্তি দিয়ে জার্মানির পাশে থাকেননি।
ভৌগোলিক অবস্থান: ভৌগোলিক দিক থেকে জার্মানির আত্মরক্ষার জন্য বিস্তৃত ভূভাগ ছিল না। রাশিয়া যেমন তার বিরাট ভূভাগ থাকার ফলে যুদ্ধে পিছু হটে শত্রুকে যুদ্ধের পর যুদ্ধ দিতে পারত, জার্মানিকে ভৌগোলিক অবস্থান সে সুযোগ দেয়নি। এজন্যই জার্মানি সর্বদাই আক্রমণাত্মক যুদ্ধে পটু ছিল। জার্মানির একই সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা ছিল না। যে মুহূর্তে জার্মানি পূর্বে রাশিয়া এবং পশ্চিমে ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির যুগপৎ আক্রমণের মুখোমুখি হয়, সে মুহূর্তে জার্মানির পতনের ঘণ্টা বেজে যায়। কারণ তাকে পিছু হটে নিজ দেশের মধ্যেই মিত্রশক্তির মোকাবিলা করতে হয়।
নৌবহরের অভাব: হিটলারের শক্তিশালী নৌবহর ছিল না। তিনি পদাতিক ও বিমানবাহিনীর উপর অধিক নির্ভর করতেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নৌবহরের ভয়ানক দরকার হয়। নৌবহর না থাকায় ব্রিটেনের যুদ্ধে তাকে পরাজয় বরণ করতে হয়। ইংলিশ চ্যানেলে শক্তিশালী ব্রিটিশ নৌবাহিনীর উপস্থিতি জার্মান বাহিনীকে চ্যানেল অতিক্রমের সুযোগই দেয়নি। এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতো মিত্রবাহিনী জার্মানির উপকূলভাগ অবরোধ করায় জার্মানির সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়।
উপর্যুক্ত কারণগুলোর সমষ্টিগত প্রক্রিয়ায় জার্মানি পরাজিত হয়।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

