- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন : কোম্পানি আমল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন : কোম্পানি আমল
ওহাবী আন্দোলন: তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১ খ্রি.) Wahabi Movement: Titumeer (1782-1831 AD)
পূর্ববঙ্গে ফরায়েজি আন্দোলনের ন্যায় উনবিংশ শতকে পশ্চিমবঙ্গে ওহাবী আন্দোলন নামে আর একটি সংস্কার আন্দোলন আরম্ভ হয়। এ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আরবের আবদুল ওয়াহাব (১৭০৩-১৭৭৮ খ্রি.)। ভারতে এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রায় বেরিলির সৈয়দ আহমদ (১৭৮৬-১৮৩১ খ্রি.)। তিনি আরবের ওহাবীদের ন্যায় ভারতবর্ষে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন শুরু করলে তিতুমীর তার শিষ্য হন এবং আন্দোলনের প্রধান নায়ক হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ, সংস্কারক ও ধর্মীয় চিন্তাবিদ তিতুমীর ছিলেন একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী।
তিতুমীরের প্রথম জীবন : তিতুমীরের আসল নাম মীর নিসার আলী খান। তিনি ১৭৮২ সালে ২৪ পরগনার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সৈয়দ হাসান আলী ছিলেন একজন ভদ্র কৃষক। মাতা রোকেয়া বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী (বাল্যকালে জ্বর হলে নিসার আলীকে শিউলী পাতার রস খাওয়ানো হতো, সেই তিক্ত রস অতি সহজে পান করত বলে তার। মা নাম রাখেন তিতুমিয়া পরে দাঁড়ায় তিতুমীর) তিতুমীর বাল্যকালে গ্রামের হাজী লিয়াকতউল্লাহ বিদ্যালয়ে বাংলা, আরবি ও ফারসি পড়েন। তিনি মল্লযুদ্ধ, অসি চালানো আয়ত্ত করেন। শারীরিক কলাকৌশল ও বীরত্বের জন্য তিনি বাল্যকাল থেকেই খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ১৮২০ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী মুন্সী আমির আলির কন্যা বিবাহ করেন। অপ্রতিদ্বন্দ্বী পালোয়ান থাকায় নদীয়ার জমিদারের অধীনে প্রথম জীবনে একজন লাঠিয়াল হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেন।
জমিদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এই সময়ে হিন্দু জমিদার ও ইংরেজ কর্মচারীগণ প্রজাদের উপর অপরিসীম অত্যাচার করত। তাদের অত্যাচার এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছল যে, কৃষ্ণদেব রায় নামে একজন হিন্দু জমিদার মুসলমান প্রজাদের দাড়ির উপর' মাথাপিছু আড়াই টাকা হারে কর ধার্য করতে ইতস্তত করলেন না। মুসলমান এই কর দিতে অস্বীকার করল। তিতুমীর জমিদারের অত্যাচার বন্ধ করার জন্য মুসলমানদের সংঘবদ্ধ হতে আহ্বান করেন। এতে জমিদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গোবরডাঙ্গার জমিদার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও পূর্ণিয়ার জমিদার কৃষ্ণরায় দলবলে আক্রমণ করলে তিতুমীরের নিকট পরাজিত ও বিতাড়িত হয়।
মক্কায় গমন ও সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে তিতুমীর মক্কায় হজ করতে গিয়ে মুক্তি সংগ্রামের পথ-প্রদর্শক সৈয়দ আহমদ ওয়াহাবী আদর্শে দীক্ষিত হন। ওয়াহাবী আন্দোলনের মূল কথা ছিল 'ইসলামের শুদ্ধিকরণ'। তিতুমীর ১৮২৭ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে ওয়াহাবী আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামের বাণী প্রচার করেন। তিতুমীরের জীবনী লেখক বিহারীলাল সরকারের মতে, "তিনি (তিতুমীর) প্রচার করতে থাকেন যে, আল্লাহর গুণাবলি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা চলবে না এবং কুরআন হাদিসে যে সমস্ত উৎসবের অনুমতি নেই তা পালন করা যাবে না।" তিতুমীর তার আন্দোলনের নাম দেন 'শরিয়ত-ই-মুহাম্মদী'। স্বেচ্ছাচার ও অত্যাচারমূলক শাসন নির্মূল করে একটি আদর্শ ভিত্তিক -রাষ্ট্র কায়েম করা ছিল তার আন্দোলনের উদ্দেশ্য। তিতুমীর প্রচার করতে থাকেন যে, মুসলমানদের হাত থেকে ইংরেজরা ভারতের রাজশক্তি কেড়ে নিয়ে ভারতবর্ষকে দার-উল হারাবে পরিণত করেছে, ওয়াহাবীরা ভারতবর্ষকে দার-উল ইসলামে পরিণত করতে চান। অবহেলিত ও শোষিত কৃষক দরিদ্র শ্রেণি মুক্তির সম্ভাবনা অনুভব করে তিতুমীরের আন্দোলনে শরিক হতে থাকে। ইছামতী নদীর উপত্যকা অঞ্চলে ২০/১৪ মাইল পরিধির মধ্যে গ্রামবাসীদের উপর তিতুমীরের প্রভাব স্থাপিত হয়। এই সময় থেকেই নীলকর ও অত্যাচারী জমিদারদের সাথে রাজস্ব, জরিমানা ইত্যাদি নিয়ে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
তিতুমীরের সাথে ইংরেজদের সংঘর্ষ: তিতুমীর আশঙ্কা করেন যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ইংরেজদের সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। এজন্য তিনি ২৪ পরগনার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে ভরতপুরের জাঠদের অনুকরণে ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে ২৩ অক্টোবর বাঁশ দিয়ে এক সুরক্ষিত কেল্লা তৈরি করেন এবং প্রচুর অস্ত্র সংগ্রহ করেন। তিতুমীর নিজেকে 'বাদশাহ' ঘোষণা করেন। ভাগিনেয় গোলাম মাসুমকে প্রধান সেনাপতি, মুইজুদ্দিন বিশ্বাসকে উজীর, ফকির মিস্কিন শাহ গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে এবং সজ্জন গাজীকে তিতুমীরের দেহরক্ষী নিযুক্ত করেন। তিনি স্থানীয় জমিদারদিগকে পরাজিত করে চব্বিশ পরগানা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করেন। প্রথম দিকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তিতুমীরের বিদ্রোহকে আমল দেননি। পরে নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্ট পাওয়ার পর বারাসতের ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারকে ১২০ জন সিপাহী, স্থানীয় নীলকুঠি এবং জমিদারের বরকন্দাজসহ তিতুমীরের বিরুদ্ধে অভিযানের আদেশ দেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ নভেম্বর সংঘর্ষে ১০ জন সিপাহী ও ৩ জন তীরন্দাজ ঘটনাস্থলে নিহত হন। আলেকজান্ডার কোনোরকম প্রাণ নিয়ে পালায়ন করেন। বারাসতের এই ঘটনা 'বারাসাত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত। এই জয়ের ফলে তিতুমীরের শক্তি ও সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়বার, নদীয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এডওয়ার্ড ২৫০ জন পুলিশ বেশ কিছু হাতী এবং নিলকুঠি সাহেবদের সম্মিলিত ৩০০ সৈন্য বাহিনী নারকেল বাড়িয়ার তিতুমীরের ১০০০ জন বিদ্রোহী বাহিনীর কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন (১৭ নভেম্বর ১৮৩১ খ্রি.)। ম্যাজিস্ট্রেট এডওয়ার্ড নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান। এই পরাজয় ইংরেজদের টনক নড়ল। অতঃপর কর্তৃপক্ষ কলকাতা থেকে দশম পদাতিক বাহিনীকে কর্নেল স্টুয়াটের নেতৃত্বে প্রেরণ করেন। উক্ত বাহিনী বারাসাতের ভারপ্রাপ্ত জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারের সাথে মিলিত হয়ে তিতুমীরের নারকেল বাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করেন। তিতুমীরকে আত্মসমর্পণে আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিতুমীর ও তার অনুসারীরা বীরবিক্রমে যুদ্ধ করতে থাকে, হঠাৎ এক কামানের আঘাতে বাঁশের কেল্লা উড়ে যায়। তিতুমীর তার ৬০ জন অনুচরসহ শহিদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)। ইংরেজরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা দখলে নিয়ে জীবিত বিদ্রোহীদের বিচারের মুখোমুখি করেন। সেনাপতি গোলাম মাসুমকে কেল্লার সামনে ফাঁসি, ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এভাবেই তিতুমীরের আন্দোলনের অবসান হয়। তিতুমীরের প্রজা আন্দোলন ছিল একটি ঘনবিপ্লব। তিতুমীরের আন্দোলন ব্যর্থ হলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অত্যাচার-অবিচার ও অপমানের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম জলন্ত দৃষ্টান্ত। তিতুমীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে সরাসরি শহিদ হন। (সর্বকালের ২০ শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে বিবিসির জরিপে তার স্থান ১১তম)। অন্যায় ও অত্যাচারীর সাথে আপস না করে সংগ্রাম করে জীবন বিসর্জন দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা যুগে যুগে স্বাধীনতাকামীদের প্রেরণা যুগিয়েছে যা ১৮০ বছর পর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বার্থক হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহ-১৮৫৬ (Revolt of Santal-1856)
বিহারের ভাগলপুর জেলা থেকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এক আদিম জাতির বসবাস ছিল। যারা ইতিহাসে সাঁওতাল নামে পরিচিত। কৃষিনির্ভর এই জনগোষ্ঠীর ইংরেজি শাসন বিরোধী অভ্যুত্থানকে 'সাঁওতাল বিদ্রোহ বলা হয়। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ৩০ জুন গোক্কা ও বীরসিংহ নামের সাঁওতাল গোষ্ঠী প্রধানের ওপর উৎপীড়নের প্রতিবাদে প্রায় ছয় হাজার সাঁওতাল ভাগানিডিহি নামক স্থানে সমবেত হয় এবং ইংরেজদের বিতাড়িত করে 'সত্য যুগ' প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এর পর সাঁওতালরা নির্বিচারে ইংরেজ হত্যা ও লুটপাট শুরু করে। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সিধু ও কানহু নেতৃত্বে ৬০ হাজার সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজদের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় এবং সাঁওতালদের পরাজয় ঘটে। এ বিদ্রোহে প্রায় ২৫ হাজার সাঁওতাল নিহত হয় এবং কয়েক হাজার গ্রাম ধ্বংস হয়। সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এক নজির স্থাপন করেছিল।
নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রজাদের বিদ্রোহ-১৮৬০ (People's revolt against Nilkars-1860)
অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপে নীলের ব্যবহার বেড়ে যায়। অন্যদিকে, আমেরিকার উপনিবেশগুলো স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর ইংরেজ বণিকদের সেখানকার নীলের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। এই দু'কারণে ইংরেজরা বাংলাদেশকে নীল চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়। ইংরেজ বণিকরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নীলের কারখানা বা নীল কুঠি স্থাপন করে। একচেটীয়া ব্যবসা করতে শুরু করে। ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় নীল চাষ হতো। ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ৬৪০০০ মন নীল উৎপন্ন হয় এবং ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তা দ্বিগুণ হয়।
কোম্পানি শাসনকালে নীলকরগণ প্রজাদের ওপর জোর জবরদস্তি করে সর্বোৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে বাধ্য করত এবং বেধে দেওয়া দামে তা বিক্রি করতে হতো। ১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নীলের যে মূল্য নির্ধারিত করেছিল অর্ধশতাব্দী পরেও কৃষকদেরকে সেই মূল্যে নীল বিক্রি করতে বাধ্য করত। জীবনযাত্রার ব্যয় ও নীল চাষের খরচ বৃদ্ধি বিবেচনা করা হতো না। নীলকরগণ নীল চাষিদেরকে দাদন বা অগ্রিম টাকা দেবার প্রথা প্রচলন করে। দাদন দিত বিঘা প্রতি ২ টাকা এবং বাকি টাকা নীলের ফসল সরবরাহের সময় পরিশোধ করত। কোনো কৃষক দাদন নিতে ও চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করতে কিংবা নীল চাষে অনিচ্ছুক হলে তার উপর চলত অমানবিক নির্যাতন। নীলকরদের অন্ধকার কুঠরিতে মাসের পর মাস বন্দী করে রাখা হতো। দীনবন্ধু মিত্রের নীল দর্পণে সেই অমানবিক নির্যাতনে চিত্র ফুটে ওঠে। এ প্রসঙ্গে যোগেশচন্দ্র বাগল বলেছেন, "নীলচাষিরা নীল করদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হতো না। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীলকর কমিশন মন্তব্য করেন, "ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট স্বভাবতই তার স্বদেশবাসী ইংরেজ নীলকরের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করত। নীলচাষিদের হত্যা করলেও নীলকরদের কোনো শাস্তি হতো না। নদীয়ার নীলকর জেমন হোয়াইট একজন নীলচাষিকে হত্যা করলে উচ্চ আদালতের বিচারে তাকে কোনো শাস্তি পেতে হয়নি।
নীলকরদের বিরুদ্ধে নীল চাষিদের প্রতিবাদ: নীলকরদের বিরুদ্ধে নীল চাষিরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে যশোরে, পাবনা, রাজশাহী ও রংপুরের কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করেন কোনো অবস্থায় তারা আর নীল চাষ করবে না। অবস্থা বুঝে ছোট লাট জন স্যার পিটার গ্রান্ট ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে চুক্তি ভঙ্গের অপরাধে কৃষককে দণ্ড প্রদানের এক আইন পাস করেন। এই আইনের দোহাই দিয়ে নীলকররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নদীয়া জেলার ২৭টি গ্রামের কৃষকগণ নীলকরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিপ্লব এরূপ প্রবল আকার ধারণ করে যে, সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং মন্তব্য করেন যে, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীল সংকটের সময় তিনি যেরূপ উৎকণ্ঠিত হন ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি পতনের সংবাদেও তিনি সেরূপ উৎকণ্ঠিত হননি। হাজার হাজার নীল চাষিদের আন্দোলনের মুখে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে নীল চাষ সংক্রান্ত নীল কমিশন গঠন করা হয়। নীল কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার নীল চাষ কৃষকদের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন বলে আদেশ জারি করে। উপমহাদেশে নীল বিদ্রোহ ছিল একটি সফল আন্দোলন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

