- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
সার্জেন্ট জহুরুল হক (১৯৩৫-১৯৬৯)
১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশ যখন উত্তাল তখন পাক বাহিনী অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে আগরতলা মামলার ১৭ নং আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে জেলখানায় নির্মমভাবে হত্যা করে (১৫ ফেব্রুয়ারি)। সার্জেন্ট জহুরুল হক ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে নোয়াখালী জেলা স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। ক্রমে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় গ্রেফতার হন এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক হন। এ সম্পর্কে প্রেসনোটে বলা হয়, "গত মাসে (ডিসেম্বর, ১৯৬৭) পূর্বপাকিস্তানে উদঘাটিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে।" সরকার এই ষড়যন্ত্রকে "আগরতলা ষড়যন্ত্র" বলে অভিহিত করে। শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে এ মামলার ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় ১৭ নম্বর আসামি করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে। প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। মামলার শেষ তারিখ ছিল ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯। আইয়ুব খান যখন রাজনৈতিক দলগুলোকে গোল টেবিল বৈঠকে বসতে প্রস্তাব করেছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী অবস্থায় একটি ক্ষুদ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাবিলদার মনজুর শাহ কর্তৃক নিহত হন (১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯)। তাঁর এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্দোলন বেগবান হয়। আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে। তাঁর আত্মত্যাগ পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে শানিত করে। সার্জেন্ট জহুরুল হক বাঙালি জাতির সূর্য সন্তান।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

