• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব ও গুরুত্ব (Impact and importance of non-cooperation movement)

১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পূর্ব প্রস্তুতি। এ আন্দোলন পাকিস্তান শাসনের ভীতকে দুর্বল করে দেয়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের মনে পাকসেনাদের ভয় দূরীভূত হয়। মূলত ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই ২৪ দিন পূর্ববাংলা অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই ছিল। এসময় সবকিছু অচল অবস্থায় থাকে এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পূর্ববাংলার শাসন কার্য পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে পূর্ববাংলার সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস, সচিবালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, আদালত, পুলিশ প্রশাসন, ব্যাংক-বিমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশ অমান্য করে। খাজনা-ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়। ইয়াহিয়া সরকার কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে যোগদানের জন্য। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১৪ মার্চ' ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ দফার এক নির্দেশনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর-খাজনা, বন্ধ ঘোষণা করেন। [মোট কথা অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে সেনাবাহিনী ব্যতীত পূর্ব পাকিস্তানের সকল ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

গুরুত্ব: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী সাংবিধানিক উপায়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে সমগ্র বাঙালি জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ২ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এর পর অসহযোগ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনের পথ বেয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ লাভ করে। চারদিকে 'জয় বাংলা', তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, 'পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা', 'জনগণের একদফা বাংলার স্বাধীনতা', 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর' প্রভৃতি স্লোগানে বাঙালি জনগণ মুখরিত করে তোলে। কিন্তু এ সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আলাপ-আলোচনার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে এবং ২৫ মার্চ 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা শুরু করে। এ সময় যে অনুপ্রেরণায় বাঙালি আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তা হলো ৭ মার্চের ভাষণ ও অসহযোগ আন্দোলন এবং দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সৃষ্টি হয় বাঙালির মননে দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। অনেক প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ তার যাত্রা আরম্ভ করে।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ