- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
৭ মার্চের ভাষণের প্রভাব ও গুরুত্ব
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দলিল। এটি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের একটি। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ৭ মার্চের ভাষণের প্রভাব ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানের ফলে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ঢাকার চারদিকে স্বাধীনতা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। একটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে আর একটি স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কাজেই ৭মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল একটা মাইলফলক। সেদিন বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা না দিলে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়তবা পারত না। তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হয়তাবা বসে থাকত, আর স্বাধীনতা হতো সুদূরপরাহত। সুতরাং ৭ মার্চের ভাষণ একটি আলোর বিচ্ছুরণ। যে আলোয় পথ দেখেছিল পথ হারা বাঙালি জাতি। নিম্নে ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্লেষণধর্মী কয়েকটি
গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-
১. স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে বস্তুত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। সমগ্র বাঙালি জাতি এই দিনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৯ মিনিটের বক্তৃতায় 'মুক্তি' ও স্বাধীনতা শব্দ দুটি অনেকবার উচ্চারণ করেছেন। ভাষণের ৪র্থ বাক্যে তিনি বলেন, "আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়।" অষ্টম বাক্যে গিয়ে বলেন, "এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। এভাবে মুক্তি ও স্বাধীনতা কথা দুটি বঙ্গবন্ধু আপন করে নিয়েছেন এবং তা বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। যা স্বাধীনতা ঘোষণারই নামান্তর। ভাষণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার অমোঘ বাণী "রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দিব, তবু দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" এ ভাষণের প্রতিটি শব্দের মধ্যে স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ফলগুধারার মতো উদ্ভাসিত রয়েছে।
২. মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা ও শত্রুর মোকাবিলার কৌশল ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা অর্জনের দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, যেকোনো মুহূর্তে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তাই তিনি বলেছিলেন, "ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দিবে।" একথা দ্বারা বঙ্গবন্ধু বুঝাতে চেয়েছেন পাকিস্তানি শাসকচক্র তাঁকে গ্রেফতার কিংবা হত্যা করতে পারে। এমন পরিস্থিতি হলে বাঙালিরা যেন গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে।
৩. মরণপণ সংগ্রামের প্রত্যয়দীপ্ত আহ্বান বঙ্গবন্ধু তাঁর এ ভাষণে বাংলার জনগণকে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন এবং শত্রু মোকাবেলার যে আহ্বান জানান, তা বাঙালিদের জীবন বাজি রেখে মরণপণ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।
৪. আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের প্রত্যয়দীপ্ত ভাষণ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ভাষণের গুরুত্ব ও লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলকে পূর্ব বাংলার জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন প্রদানে আগ্রহী করে তোলে।
বিশ্বের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণ একটি স্থান দখল করে আছে। নরওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পৃথিবীর সাত বিখ্যাত ব্যক্তির সাত বিখ্যাত ভাষণের মধ্যে উক্ত ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর The Memory of the World International Register এ মানব জাতির দালিলিক ঐতিহ্যের অন্যতম ডকুমেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যা গোটা বাঙালি জাতির গৌরবের অহংকার। পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে থাকা নথিগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যে UNESCO ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে Memory of the World International Register কর্মসূচি চালু করে। এর রেজিস্টারে ১৯৯৭ থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ৪২৭টি ঐতিহাসিক দলিলও সংগ্রহ স্থান পেয়েছে। এ রেজিস্টারে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণটি বিশ্বের প্রথম ও সর্বশেষ মুখে উচ্চারিত কালজয়ী মহাকাব্য। এ ভাষণে রয়েছে রাজমাত্রিক বিশেষত্ব। মাত্র ১৮ মিনিট ভাষণে পুরো ক্যানভাস তুলে ধরেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

