• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহা (১৯৩৪-১৯৬৯)

১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আর একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহাকে হত্যা। এ হত্যাকাণ্ড দিয়ে পাক সেনাবাহিনী পৈশাচিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহা ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট পশ্চিম বাংলার বাকুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বাকুড়া জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাঁকুড়া ক্রিশ্চিয়ান কলেজ থেকে আই, এসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বি. এসসি অনার্স এবং ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে এম. এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে রিডার পদে উন্নীত হন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং ছাত্রদের আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ছাত্রদের বলেছিলেন, "সেনাবাহিনী যদি গুলি চালায় তাহলে আমার বুকের উপর দিয়ে প্রথমে চালাতে হবে, তোমাদের নয়।" তিনি নিজের জীবন দিয়ে একথা প্রমাণ করে গেছেন। আন্দোলন চলা অবস্থায় ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এই অকুতোভয় সেনানীকে হত্যা করে। তাঁকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চিরতরে সমাহিত করা হয়। তার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ড. শামসুজ্জোহা হল'-এর নামকরণ করা হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে জীবন দিয়ে তিনি যে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন তা বাঙালি ছাত্র-শিক্ষকদের চিরকাল অনুপ্রেরণা যোগাবে।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ