• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রভাব ও গুরুত্ব (Impact and importance of the election of 1970)

প্রভাব: বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচন অনন্য ভূমিকা রাখে। এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষ ভাগ হওযার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান তার ভাষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে স্বাধীনতা দাবি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে এবং ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে (আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে)। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে' সাধারণ নির্বাচন না হলে এবং আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হয়তো বা লাভ করা সম্ভব হতো না। কেননা ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জয়লাভের প্রভাবে বাঙালিরা আত্ম বলীয়ানে বলীয়ান হয়ে ওঠে। বাঙালিদের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়েই ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় (১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে)। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারই নেতৃত্বে দিয়েছিল। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ফলাফলের ভিত্তিতেই ১৪ জানুয়ারি ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ভুট্টোর পরামর্শে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে পূর্ববাংলার জনগণ উত্তেজিত হয়। ইয়াহিয়া খান অত্যন্ত সুকৌশলে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেন। শুরু হয় বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম। বাঙালিরা বুকের রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করে এবং ছিনিয়ে আনে বিজয়।

গুরুত্ব: বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুতপক্ষে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচন তিন দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে, যথা:

১. এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সাফল্য বাঙালিদের ঐক্য জোরদার করে। তারা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে, যা স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

২. এ নির্বাচনে বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন-শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবার দৃঢ় আশা ব্যক্ত করে। আওয়ামী লীগ যে বাঙালিদের একমাত্র প্রতিনিধি তা এ নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৩. এ নির্বাচনের মাধ্যমেই বাঙালিরা বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাক-শাসকচক্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সর্বশক্তি দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

সুতরাং একথা বলা যায়, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পথ ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ