• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে তুলনামূলক পৃথিবীর অন্য বিখ্যাত ছয়টি ভাষণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে তুলনামূলক পৃথিবীর অন্য বিখ্যাত ছয়টি ভাষণ এখানে তুলে ধরা হলো:

১। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা (১৯১৮-২০১৩) তার অপূর্ব বক্তৃতা দ্বারা উজ্জীবিত করেন পৃথিবীর সব শোষিত মানুষকে। তার অনেক ভাষণের মধ্যে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে বক্তৃতা স্মরণীয় হয়ে আছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে। বক্তৃতাটি তিনি শুরু করেন ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর চলমান শ্বেতাঙ্গদের নির্যাতনের কথা দিয়ে। স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন তার অমর বাণী, 'স্বাধীনতা অর্জনের কোন সহজ পথ নেই'।

২। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ বিরোধী আর এক অবিসংবাদিত নেতা মার্টিন লুথার কিং (১৯২৯-১৯৬৮)। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্বাধীনতাকামী জনতার বিশাল সমাবেশে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মতোই চির অম্লান। এ ভাষণে প্রথমে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেন স্বাধীনতার জন্য আয়োজিত মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশে যোগদানের সুযোগ পাওয়ার জন্য। এর পর তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হলো, "ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোন প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত নিগ্রোরা পুলিশের বর্ণনাতীত নির্যাতনের শিকার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোন প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শিশুরা কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য লেখা সাইনবোর্ড দেখবে। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন এই জাতি জাগ্রত হবে এবং মানুষের এই বিশ্বাসের মূল্যায়ন করবে, সব মানুষ জন্মসূত্রে সমান।"

৩। ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ ও ভারতের জাতির জনক মোহনদাস করমচাদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী-১৮৬৯-১৯৪৮)। হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, ত্যাগ আর ভালোবাসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ইতিহাসে ঠাঁই হয়ে আছেন। ব্রিটিশদের ভারতবর্ষ থেকে বিদায় এবং ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ আগস্ট তৎকালীন বোম্বের গাওলিয়া ট্যাক ময়দানে বক্তৃতায় ব্রিটিশদের ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ব্রিটিশরা ভারত ছাড়'।

৪। ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল (১৮৭৫-১৯৫৫) একজন রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। জীবনে তিনি অসংখ্য বক্তৃতা দিলেও ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মে-এর ভাষণটি। যুদ্ধে সবার সমর্থন ও সহায়তা কামনা করে তিনি উচ্চারণ করেন, "দেওয়ার মত কিছুই নেই আমার, আছে শুধু রক্ত, কষ্ট, অশ্রু আর ঘাম। আমাদের নীতি হচ্ছে, জল, স্থল ও আকাশ পথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, আমাদের সবটুকু সামর্থ্য আর ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে এক নিষ্ঠুর দানবের বিরুদ্ধে। আর যদি প্রশ্ন কর আমাদের লক্ষ্য কী? উত্তর একটাই 'বিজয়'। পথ যতই দীর্ঘ কিংবা দুর্গম হোক বিজয় ছাড়া আমাদের বাঁচার কোন পথ নেই।"

৫। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের (১৮০৯-১৮৬৫) ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১-৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভেনিয়ার গেটিসবার্গে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯ নভেম্বর উক্ত মৃত্যুর স্মরণসভায় তিনি মাত্র ৩ মিনিটের বক্তৃতায় ইতিহাস গড়েন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন তার পূর্ব পুরুষদের, যারা ৪৭ বছর পূর্বে স্বাধীনতা ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকা মহাদেশের গোড়াপত্তন করেছিলেন। মাঝে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে গৃহযুদ্ধে ক্ষয়-ক্ষতির করুণ আর্তনাদ। আর বক্তৃতা শেষ করেন একটি বাক্য দিয়ে, যা গণতন্ত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা হিসেবে আজও বিবেচিত, "জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার পৃথিবী থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না" (This Government of the people, by the people and for the people will never perish from the earth)!

৬। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপরাজ্য ভার্জিনিয়ার শাসক প্রেট্রিক হেনরী রিমেন্ডের সেইন্ট চার্চে ১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেছিলেন, "জীবন কি এতটাই প্রিয়, আর শাস্তি কি এতই মধুর যে, শিকল আর দাসত্বের দামে তাকে কিনতে হবে? আমি জানিনা অন্যরা কোন পথ বেছে নেবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বলব, আমাকে স্বাধীনতা দাও, নয়তো মৃত্যু।"

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ