- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
নবাব আলীবর্দী খান (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রি.)
যে সকল ভাগ্যান্বেষী তরবারি মাত্র সম্বল করে উচ্চ পদে আসীন হন তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত আলীবর্দী খান অন্যতম। তার প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ আলী। তিনি প্রথমে আজম শাহ এবং পরে সুজাউদ্দিন খানের অধীনে বিহারের নায়েব নাজিম পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং আলীবর্দী খান উপাধি লাভ করেছিলেন। বাংলার মসনদে বসার পর আলীবর্দী খান গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তার নিজ আমির ও বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিদের বসান। নবাব আলীবর্দী খান মুর্শিদ কুলী খানের বংশধরকে হত্যা ও বিভিন্ন পদ থেকে উচ্ছেদ করে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেন। তার শাসনামলে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো মারাঠা আক্রমণ বা বর্গী হামলা।
মারাঠা আক্রমণ: আলীবর্দীর আমলে মারাঠাদের আক্রমণে বাংলা ছারখার হয়ে যায়। যাত্রাপথে দুধারের গ্রামগুলোকে তারা লুটপাট করে ও আগুনে জ্বালিয়ে শ্মশানে পরিণত করে। এসময় রঘুজী ভোসলে ছিল মারাঠা সর্দার এবং ভাস্কর পণ্ডিত ছিলেন মারাঠা সেনাপতি। মারাঠাদের ভয়ে কৃষকরা গ্রাম ছেড়ে পালায়, ফলে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তাঁতিরা ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালায়, ফলে বস্ত্রের অভাব দেখা দেয়। বাংলায় বর্গীরা স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর কীরূপ অত্যাচার চালায় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে তা গ্রাম্য নারীদের ঘুমপাড়ানি ছড়ায় এখনও প্রমাণ মেলে।
"খোকা ঘুমালো
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে
খাজনা দেব কিসে।"
মারাঠারা পানির ন্যায়। পানিতে আঘাত করলে যেমন প্রতিঘাত করে না তেমনি আঘাতের চিহ্নও থাকে না। আলীবর্দী খান মারাঠাদের আক্রমণ প্রতিহত করলেও আবার তারা সক্রিয় হয়ে আক্রমণ চালাত। দীর্ঘ সংগ্রামে আলীবর্দী খানের দেহ ও মন ভেঙে যায়। অবশেষে মারাঠাদের উড়িষ্যার একাংশের রাজস্ব এবং বছরে ১২ লক্ষ টাকা চৌথ প্রদান করে তাদের সাথে স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্থাপন করেন।
কৃতিত্ব: নবাব আলীবর্দী খান এদেশে ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান শক্তি সম্পর্কে সজাগ ছিলেন। নৌবলে বলীয়ান ইংরেজদের বিতাড়িত করা সহজ হবে না ভেবে বাণিজ্য অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গ নির্মাণ করতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, "তোমরা বণিক, তোমাদের দুর্গের প্রয়োজন কি? আমিই তোমাদের নিরাপত্তা দিব।" নবাব আলীবর্দী খান ইংরেজদের বাণিজ্য করার অনুমতি দিলেও ইংরেজদের নিকট মাথা নত করেননি। মারাঠা আক্রমণ ছাড়া তার শাসনামলে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। নবাব আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। ছিল তিন কন্যা- ঘসেটি বেগম (মেহেরুন্নেছা), ময়মুনা বেগম ও আমেনা বেগম।
তিনি তিন কন্যাকে নিজ ভ্রাতা হাজী আহমেদের তিন পুত্রের সঙ্গে বিবাহ দেন। প্রথম কন্যা ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজিস মুহাম্মদ খানকে ঢাকার শাসনকর্তা, দ্বিতীয় কন্যা ময়মুনা বেগমের স্বামী সৈয়দ আহমদ খানকে পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা এবং ছোট কন্যা আমেনা বেগমের স্বামী জয়নুদ্দীন আহমদ খানকে পাটনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। আমেনা বেগমের গর্ভে ১৭৩৩ খ্রিষ্টাব্দে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে আলীবর্দী খান নিজ নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখেন মির্জা মুহম্মদ আলী।
এই মির্জা মুহম্মদ আলীই ইতিহাসখ্যাত নবাব সিরাজউদ্দৌলা। পিতা জয়নুদ্দীন আহমদ বিহারের ডেপুটি নবাব থাকাকালীন অবস্থায় ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে আফগান বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। এ সময় আলীবর্দী খান তাঁর প্রিয় দৌহিত্র সিরাজকে বিহারের ডেপুটি নবাব নিযুক্ত করেন। তখন সিরাজের বয়স ১৫ বছর। মৃত্যুর পূর্বে নবাব আলীবর্দী খান তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজকে উত্তরাধিকার হিসাবে মনোনীত করেন। নবাব আলীবর্দী খান দীর্ঘ ১৬ বছর সুনামের সহিত রাজত্ব করে ৭৬ বছর বয়সে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পরলোকগমন করেন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

