• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পলাশীর যুদ্ধের কারণ (Causes of Battle of Palassey)

১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন রবার্ট ক্লাইভের অধীনে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনী এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর মধ্যে দিল্লির অদূরে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসে তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে দুশত বছর ব্রিটিশ শাসন-শোষণে আবদ্ধ হয়। একক কোনো কারণে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, এর পেছনে অনেক দিনের অনেক কারণ জড়িত ছিল। প্রধান কারণগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-

১। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে ইংরেজদের যোগদান নবাব আলীবর্দীর মৃত্যুর পর (১৭৫৬) তার কনিষ্ঠ কন্যা আমিনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। কিন্তু আলীবর্দীর অপর দু কন্যা ঘসেটি বেগম ও ময়মুনা বেগম তা মেনে নিতে পারেনি। কারণ সিংহাসনের প্রতি তাদেরও লোভ ছিল। সুতরাং ঘসেটি বেগম এবং ময়মুনার পুত্র শওকত জঙ্গ নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ইংরেজরা তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য উক্ত ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়।

২। কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ যুবরাজ অবস্থায় নবাব ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠিতে হানা দিয়ে বহু দামি আসবাবপত্র নিয়ে যান। অবশ্য এটা ছিল নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর ঘটনা।

৩। নজরানা পাঠাতে বিলম্ব ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নতুন নবাবকে নজরানা দিয়ে সকলেই বশ্যতা জানাতে হয়। কিন্তু ইংরেজরা বিলম্ব করে। ঘসেটি বেগমের সাথে তাদের যড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে নজরানা পাঠায় এবং বিলম্বের কারণ হিসেবে জানায় কলকাতায় কোম্পানির প্রেসিডেন্টের অসুস্থতা। অবশ্য নবাব সবকিছু বুঝতে পারলে সম্পর্ক খারাপের দিকে এগোতে থাকে।

৪। ইংরেজ কর্তৃক কৃষ্ণদাসকে আশ্রয়দান। ঘসেটি বেগমের ঢাকার নায়েবি হিসাবরক্ষক ছিলেন রাজবল্লভ। দুর্নীতির জন্য নবাব তাকে বন্দি করেন এবং নথিপত্র ও ধন-সম্পত্তি ফেরত চান। কিন্তু রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস (কৃষ্ণবল্লভ) তার পরিবারের লোকজন এবং সম্পত্তি নিয়ে নৌকাযোগে কলকাতায় পলায়ন করেন এবং ইংরেজদের আশ্রয় গ্রহণ করেন। নবাব তাকে ফেরত চাইলে কলকাতার গভর্নর ড্রেক বলেন, "কৃষ্ণদাসকে আশ্রয় দানের রাজনৈতিক অধিকার কোম্পানির আছে।" এতে নবাব রুষ্ট হন।

৫। নবাবের আদেশ অমান্য করে দুর্গ নির্মাণ বাণিজ্য উপলক্ষ্যে আগত ইংরেজ বণিকগণ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে কুঠি স্থাপন করে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ইংরেজরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার ও আয়তন বৃদ্ধি করে। নবাব প্রতিবাদ পত্র পাঠালে ড্রেক ছলনার আশ্রয় নিয়ে প্রথমে দুর্গ নির্মাণের কথা অস্বীকার করেন। পরে দুর্গ নির্মাণের কাজ অগ্রগতি হলে তিনি এই অজুহাত দেখান যে, "এ দুর্গ ফরাসি আক্রমণ থেকে ইংরেজদের আত্মরক্ষার জন্য নির্মিত হচ্ছে, নবাবের বিরুদ্ধে এই দুর্গ ব্যবহার করা হবে না।" আদেশ অমান্য করে দুর্গ নির্মাণ করতে থাকলে নবাব ইংরেজদের দমনের সিদ্ধান্ত নেন।

৬। নবাবের দূতকে অপমান কৃষ্ণদাসকে ফেরত আনতে এবং দুর্গের কাজ পর্যবেক্ষণ করার জন্য নবাব তাঁর ব্যক্তিগত দূত নারায়ণ দাসকে কলকাতায় পাঠান। নারায়ণ দাস কলকাতায় ঢুকলে গভর্নর ড্রেক তাঁকে গুপ্তচর ঘোষণা করে অপমান করে কলকাতা থেকে বহিষ্কার করে। নারায়ণ দাসের সাথে এরূপ ব্যবহারে নবাব অত্যন্ত রুষ্ট হন এবং কোম্পানিকে শিক্ষা দিতে মনস্থ করেন।

৭। শুল্ক প্রত্যাহার: ইতোমধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত ব্যাপারে কোম্পানির সঙ্গে নবাবের বিরোধ দেখা দেয়। ১৭১৭খ্রিষ্টাব্দে মোগল সম্রাট ফররুখ শিয়ার ফরমানের পর বাংলার আলীবর্দী খান ও নবাব মুর্শিদ কুলী খানের সাথে ইংরেজদের একটা বোঝাপড়া হয়েছিল। তাতে ছিল- (১) কোম্পানি বাংলার আন্তঃবাণিজ্যে হাত দিবে না। হাত দিলেও নিয়মিত শুল্ক দিবে। (২) কোম্পানির বাণিজ্য ব্যতীত কোম্পানির কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যে ছাড়পত্র বা ফরমান ব্যবহার করবে না। কিন্তু নবাব লক্ষ করলেন কোম্পানি উক্ত বোঝাপড়ার শর্ত ভেঙে বাণিজ্য করছেন। তাতে দেশীয় বণিকগণ মার খাচ্ছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। এ অবস্থায় নবাব এক পত্রে জানান যে, ১৭১৭-১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ (৩৯ বছর) পর্যন্ত কোম্পানি অবৈধ ব্যবসার দ্বারা প্রচুর শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। আর তা হতে দেওয়া যায় না।

৮। নবাবের কলকাতা আক্রমণ ও অন্ধকূপ হত্যা কাহিনি: ইংরেজদের ঔদ্ধত্য ব্যবহার এবং ক্ষমতা বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে নবাব ৪ জুন, ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানির কাশিমবাজার কুঠি দখল করে কয়েকজন ইংরেজ বন্দি করেন। অতঃপর নবাব তার ৫০,০০০ সেনাদল নিয়ে কলকাতা অভিযান করেন। অতর্কিত আক্রমণ করে নবাব ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ (১৬ জুন, ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে) অধিকার করেন। ভীত হয়ে কলকাতার গভর্নর ড্রেক ও অন্যান্য ইংরেজরা দুর্গের পিছন দরজা দিয়ে জাহাজ যোগে ফলতায় পলায়ন করেন এবং ফলতা থেকে কলকাতা পতন সংবাদ মাদ্রাজ পাঠান। ড্রেক দুর্গ ত্যাগ করে পলায়ন করলেও অধিকাংশ ইংরেজ পালাতে পারেনি। হলওয়েল নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজ ঐতিহাসিক বিবরণ দিয়েছেন যে, দুর্গ অধিকারের পর সন্ধ্যার সময় ১৪৬ জন ইংরেজকে ১৮ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি চওড়া একটি কক্ষে আটক রাখে। এই কক্ষে একটিমাত্র ক্ষুদ্র জানালা ছিল। ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ১২৩ জন ইংরেজ মারা যায়। এই ঘটনাকে তথাকথিত অন্ধকূপ হত্যা বা Black Hole Tragedy বলে। অন্ধকূপ হত্যা সত্যি ঘটেছিল কি না তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। সমসাময়িক ইংরেজ, ওলন্দাজ ও ফরাসি কুঠির নথিপত্রে উল্লেখ আছে, 'অন্ধকূপ' নামক কক্ষটিতে সিরাজের আদেশে এক রাতের জন্য ইংরেজ বন্দিদের আবদ্ধ রাখা হয়েছিল। সেখানে বন্দি বা নিহত সংখ্যা উল্লেখ নেই। সমসাময়িক অন্য রচনাবলিতেও এ ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, তখন দুর্গে ১৪৬ জন ইংরেজ ছিল না, থাকলেও বর্ণিত ঐ কক্ষে ১৪৬ জনকে কোনোভাবেই রাখা সম্ভব নয়। বাস্তবে অন্ধকূপ ঘটনা ছিল একটি অতিরঞ্জিত কল্পকাহিনি। গবেষক অক্ষয় কুমার মৈত্র অন্ধকূপ হত্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। স্যার জে. এন সরকার বলেছেন, "হলওয়েল ইংরেজদের উত্তেজিত করার জন্য অন্ধকূপ হত্যার কাহিনিকে অতিরঞ্জিত করেন।" যাই হোক, নবাব কলকাতা অধিকার করে নাম রাখলেন 'আলীনগর' এবং মানিকচাঁদকে দায়িত্ব দিয়ে নবাব মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন।

৯। ইংরেজ বাহিনীর কলকাতা পুনরুদ্ধার কলকাতা পতনের সংবাদ মাদ্রাজে পৌঁছলে, মাদ্রাজের গভর্নর সন্ডার্স ক্রোধে ক্ষিপ্ত হন এবং কর্নেল ক্লাইভ ও নৌ সেনাপতি অ্যাডমিরাল ওয়াটসনকে কলকাতায় পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠান। নির্দেশ দেন যে, সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করে কোনো ইংরেজভক্ত লোককে যেন বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়। ক্লাইভ কলকাতায় এসে উৎকোচ দ্বারা মানিকচাঁদকে বশীভূত করে বিনা যুদ্ধে কলকাতা দখল করে এবং নবাবের বন্দর হুগলী পুড়িয়ে দেন।

১০। আলীনগরের সন্ধি: ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে নাম দেন আলীনগর। অতঃপর নবাব কলকাতা রক্ষার জন্য সেনাপতি মানিকচাঁদকে দায়িত্ব দিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে যান। এখানে নবাব যে ভুলটি করেন তা হলো- কলকাতা পতনের পর যে সকল ইংরেজ কলকাতায় আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন, তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত না করা। এমনকি কলকাতায় ইংরেজদের পালটা আক্রমণ প্রতিরোধেও কোনো ব্যবস্থা নবাব গ্রহণ করেননি। কলকাতায় অবস্থানকালে ওলন্দাজরা ইংরেজদের খাদ্য সরবরাহ করতে থাকে। ক্লাইভ কলকাতায় এসে মানিকচাঁদকে উৎকোচ দ্বারা বশীভূত করে প্রায় বিনা যুদ্ধে কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন (২রা জানুয়ারি, ১৭৫৭)। নবাবের কলকাতা অধিকারের প্রতিশোধ হিসেবে ক্লাইভ নবাবের হুগলী বন্দর পুড়িয়ে দেন। এ সংবাদে সিরাজ পুনরায় কলকাতা অভিযান করেন। ক্লাইভ নবাবকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সাহসী সেনা নিয়ে অতি গোপনে রাতের অন্ধকারে নবাবের শিবির আক্রমণ করেন। কিন্তু নবাব দৈবক্রমে বেঁচে যান। তবে তার ১,৩০০ সৈন্য এই অতর্কিত হানায় মারা পড়ে। এ আক্রমণের পর নবাব স্পষ্ট বুঝতে পারেন যে, তার সভাসদ ও সেনাপতিদের মধ্যে অনেকেই গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এজন্য তার মনের জোর কমে যায়। এদিকে তিনি খবর পান যে, আফগান আক্রমণকারী আহমদ শাহ আবদালী আগ্রা, মাথুরা বিধ্বস্ত করে বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে। সামনে ইংরেজ মধ্যখানে নিজ সভাসদ ও সেনাপতিদের ষড়যন্ত্র, পেছনে আফগান আক্রমণের আশঙ্কা, ত্রিমুখী চাপে নবাব দিশেহারা হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় নবাব ইংরেজদের সাথে একটি সন্ধি স্থাপন করেন যা ইতিহাসে 'আলীনগরের সন্ধি' নামে পরিচিত। আলীনগরে বসে ৯ই ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে এ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। আলীনগর স্থানের নাম অনুযায়ী এ সন্ধির নামকরণ হয় 'আলীনগরের সন্ধি'। আলীনগরের সন্ধি ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলা পতনের প্রথম ধাপ। এই সন্ধির মাধ্যমে নবাব নতজানু হয়ে সন্ধি শর্তে আবদ্ধ হন। সন্ধির শর্তানুসারে (১) পূর্বের সম্রাটের নিকট থেকে ইংরেজদের প্রাপ্ত সকল সুযোগ-সুবিধা নবাব মেনে নেন অর্থাৎ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় ইংরেজদের বিনা শুল্কে বাণিজ্য অধিকার বহাল থাকে। (২) নবাব কোম্পানিকে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ, সংস্কার ও সম্প্রসারণের অনুমতি দেন। (৩) ইংরেজ কোম্পানিকে কলকাতায় নিজস্ব টাকশাল স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়। (৪) নবাব কর্তৃক কলকাতা আক্রমণে কোম্পানির যে ক্ষতি হয়েছিল সে ক্ষতিপূরণ প্রদানে নবাব অঙ্গীকারবদ্ধ হন। (৫) কলকাতার অধিবাসীরা সবসময় কোম্পানির শাসনাধীনে থাকবে তা স্থির হয়। আলীনগরের সন্ধির শর্ত সবগুলোই ছিল ইংরেজদের অনুকূলে, বাংলার নবাবের প্রতিকূলে। এ সন্ধি বাংলার জন্য মোটেও কল্যাণকর ছিল না। আলীনগরের সন্ধির ফলে নবাবের ক্ষমতা বহুলাংশে হ্রাস পায়। এতে নবাবের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। ইংরেজদের ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আলীনগরের সন্ধি ছিল ইংরেজ কোম্পানির বিরাট সাফল্য। এই সন্ধির ওপর ভিত্তি করে ইংরেজরা পরবর্তীতে উপমহাদেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

১১। মীরজাফরের সাথে গোপন সন্ধি: নবাবের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র আরম্ভ হয়। মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, মানিকচাঁদ, ইয়ার খান প্রভৃতি ছিলেন এই ষড়যন্ত্রের নায়ক। ইংরেজ অধিনায়ক ক্লাইভ এতে যোগদান করে। কলকাতায় কাউন্সিলের সাথে মীরজাফরের একটি গোপন সন্ধি (১০ জুন, ১৭৫৭) স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধি মতে, ইংরেজরা মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসাবেন। বিনিময়ে মীরজাফর ইংরেজদের ১৭১৭ সালের ফরমান এবং আলীনগরের সন্ধি মতে সকল প্রকার বাণিজ্য সুবিধা দিবে। কলকাতা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা কোম্পানিকে দিবে। মীরজাফরের সাথে গোপন চুক্তিই ছিল পলাশীর যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ